আরও খবর

Shikor Web Image - 2026-03-01T134956.771
কেন ইরানের পক্ষে ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান’ নিয়েছে চীন?
Shikor Web Image (98)
ইরানে মার্কিন হামলা: আগেই সমর্থন দিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ
Shikor Web Image (97)
খামেনির উত্তরসূরি কে হচ্ছেন, কাদের নাম শোনা যাচ্ছে
Shikor Web Image (92)
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা শুরুর ঘোষণা ইরানের
Shikor Web Image (89)
হামলার সময় কী করছিলেন খামেনি, জানাল ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ৭ শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও আইনি প্রশ্ন উঠছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এখন আর শুধু রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় নয়, এটি রূপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক দৃশ্যমান জনআন্দোলনে। ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে মধ্যাঞ্চল পর্যন্ত একাধিক বড় শহরে শত শত মানুষ রাজপথে নেমে আসে।

বিক্ষোভকারীরা সম্ভাব্য যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচার করার উদ্যোগকে ‘অবৈধ’ ও ‘সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে আখ্যা দেন।

কোন কোন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে

এই ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোতে। শিকাগো, ডালাস, নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া, পিটসবার্গ, সান ফ্রান্সিসকো এবং সিয়াটলে একযোগে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিটি শহরেই বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেন। তারা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ডে যুদ্ধবিরোধী বার্তা তুলে ধরেন। অনেক জায়গায় পুলিশি উপস্থিতি থাকলেও কোথাও বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

শিকাগো থেকে উঠে আসা যুদ্ধবিরোধী কণ্ঠ

শিকাগোতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেয় “Chicago Committee Against War and Racism” নামের সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি অ্যান্ডি থেয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বিভিন্ন দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করে সাধারণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত করেছে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়া কিংবা পানামা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভেনেজুয়েলাতেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই কি সামরিক পদক্ষেপ বৈধ?

বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ যুক্তি দেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া অন্য কোনো দেশে সামরিক হামলা চালানোর সাংবিধানিক ক্ষমতা মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেই। সিনিয়র ডেমোক্র্যাট নেতারাও এই বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া সমালোচনা করেছেন।

তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদেরও লঙ্ঘন।
জাতিসংঘ সনদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে আপনি জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ব্যাখ্যা পড়তে পারেন —
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন বিশ্লেষণ (External authoritative link anchor)

সিয়াটলে প্ল্যাকার্ডে স্পষ্ট বার্তা

সিয়াটলে “Act Now to Stop War and End Racism” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ‘No Blood for Oil’ এবং ‘Stop Bombing Venezuela Now’ লেখা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন।

সংগঠনের প্রতিনিধি টেইলর ইয়াং ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে অন্য দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জনগণ নীরব দর্শক হয়ে থাকতে চায় না।

এই বক্তব্য ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ আন্দোলনের মূল সুরকে স্পষ্ট করে তোলে।

রিপাবলিকানদের সমর্থন ও বিভক্ত প্রতিক্রিয়া

যদিও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের বড় একটি অংশ ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে যাচ্ছেন, তবে তাদের অনেকেই সরাসরি “ভেনেজুয়েলা শাসন” করার বক্তব্য থেকে সরে আসছেন।

মিনেসোটার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম এমার প্রেসিডেন্টকে ‘প্রেসিডেন্ট অব পিস’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এই মন্তব্য বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে।

অভিবাসন ইস্যু ও মানবাধিকার উদ্বেগ

বিক্ষোভে আরেকটি বড় বিষয় হয়ে ওঠে ভেনেজুয়েলান অভিবাসীদের ভবিষ্যৎ। অনেক বিক্ষোভকারী অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করছে, অন্যদিকে সেই দেশেই অভিবাসীদের ফেরত পাঠাচ্ছে।

কোড পিঙ্ক সংগঠনের কর্মী অলিভিয়া ডিনুচ্চি বলেন, এটি মানবাধিকার ও নৈতিকতার পরিপন্থী। তার বক্তব্য ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ আন্দোলনে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করেছে।

‘ফ্রি মাদুরো’ স্লোগান এবং বিতর্ক

নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে যে আটক কেন্দ্রে মাদুরোকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে, সেখানে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা ‘Free Maduro Right Now’ স্লোগান দেন।

যদিও যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বড় অংশ মাদুরোকে স্বৈরশাসক হিসেবে আখ্যা দেন, তবু কিছু কর্মী তার মুক্তির দাবিতে সোচ্চার হন। এই বিষয়টি আন্দোলনের ভেতরে মতপার্থক্যও তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ যদি আরও বিস্তৃত হয়, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক ও আইনি চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে।

একটি বিষয় স্পষ্ট—ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত