ঢাকা: রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলায় গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা দুর্নীতি মামলার রায় অনুযায়ী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পত্তি বরাদ্দের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাঁর বিরুদ্ধে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি, শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা ৭ বছর এবং তাঁর মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিককে ২ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ
মামলা দায়ের হয় এই বছরের ১৩ জানুয়ারি। দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে শেখ রেহানা, টিউলিপ এবং শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। অভিযোগের মূল বিষয় ছিল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার।
মামলার তদন্ত শেষে ১০ মার্চ আরও দুই আসামি যুক্ত হন। মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ, সাবেক সচিব ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা।
আদালতের রায়
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বেলা ১১:৩০ মিনিটে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৪-এর বিচারক রবিউল আলম রায় ঘোষণা করেন। আদালত প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেছে যে আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
-
শেখ হাসিনা: ৫ বছর কারাদণ্ড
-
শেখ রেহানা: ৭ বছর কারাদণ্ড
-
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক: ২ বছর কারাদণ্ড
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মঈনুল হাসান জানান, “আমরা সব সাক্ষ্য-প্রমাণে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আদালতের সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আমাদের আশা সর্বোচ্চ শাস্তি।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা
রায় ঘোষণার দিন সকাল থেকেই আদালতের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রধান ফটকগুলোতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রহরা তৈরি করা হয়েছে।
মামলার গুরুত্ব
শেখ হাসিনা দুর্নীতি মামলার রায় দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। এটি মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি কেন্দ্র করে। এই রায় প্রমাণ করে যে আইন ও আদালত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে কাজ করছে।
সাক্ষ্য ও প্রমাণ
মামলার সময় ৩২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার তদন্তে পাওয়া প্রমাণ অনুযায়ী আসামিরা সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম করেছেন। মামলার প্রমাণ ও সাক্ষী বিবৃতিগুলো আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
পরবর্তী ধাপ
আদালতের রায় ঘোষণার পর আশা করা হচ্ছে, আসামিরা প্রয়োজনীয় আপিলের সুযোগ নেবেন। দুদক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিয়মাবলী অনুযায়ী, আসামিরা তাদের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।
Shikor TV Canada-এর পূর্ববর্তী রিপোর্টে রাজধানীর প্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত দুর্নীতি বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছিল।
শেখ হাসিনা দুর্নীতি মামলার রায় দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ন প্রভাব ফেলবে। আদালত যে রায় দিয়েছে তা হলো দেশের সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জনগণের নিরাপত্তা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অপরিহার্য।




