কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক: কী বদলাতে যাচ্ছে জানুয়ারি থেকে?
কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করার মাধ্যমে বন্ড ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্পষ্ট করেছে, আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সধারী সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এই স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক হবে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আর কোনো ম্যানুয়াল ইউটিলাইজেশন পারমিশন (UP) দেওয়া হবে না। সব সেবা নিতে হবে অনলাইনে। এতে স্বচ্ছতা বাড়বে, সময় কমবে এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে বলে মনে করছে এনবিআর।
কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কী?
কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম হলো এনবিআর চালু করা একটি স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে—
-
ইউটিলাইজেশন পারমিশন (UP)
-
বন্ড লাইসেন্স সংক্রান্ত আবেদন
-
কাঁচামাল আমদানির হিসাব
-
শুল্ক ছাড় ও ব্যবহার নজরদারি
সব কিছু সম্পূর্ণ ডিজিটালভাবে পরিচালিত হয়। বর্তমানে এনবিআরের অধীনস্থ তিনটি কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের মাধ্যমে এই সিস্টেমের ২৪টি মডিউল চালু রয়েছে।
কেন কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা হলো
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সফটওয়্যার চালু থাকলেও গত ১১ মাসে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান এখনও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ইউপি নিচ্ছে। ফলে—
-
স্বচ্ছতা নিশ্চিত হচ্ছিল না
-
সময় ও জনবল অপচয় হচ্ছিল
-
কাগজ-নির্ভর প্রক্রিয়ায় জটিলতা বাড়ছিল
এই বাস্তবতায় কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক না করলে কাঙ্ক্ষিত অটোমেশন সম্ভব নয়—এই সিদ্ধান্তে পৌঁছায় এনবিআর।

বর্তমানে কেমন চলছে বন্ড সেবা
বর্তমানে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সধারী রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো—
-
শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অনুমোদিত সহগ অনুযায়ী
-
কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট থেকে
-
ইউটিলাইজেশন পারমিশন (UP) গ্রহণ করে
যদিও অনলাইন সুবিধা রয়েছে, বাস্তবে অল্প কিছু প্রতিষ্ঠানই কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করছে।
১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে যেসব পরিবর্তন আসছে
এনবিআরের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী—
-
সব ইউপি ইস্যু হবে অনলাইনে
-
সফটওয়্যার ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে না
-
বন্ড সংক্রান্ত সব কার্যক্রম ডিজিটাল ট্র্যাকিংয়ের আওতায় আসবে
-
দ্রুত সিদ্ধান্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে
অর্থাৎ, কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক হওয়ায় ম্যানুয়াল পদ্ধতির সম্পূর্ণ অবসান ঘটবে।
বন্ডেড ওয়্যারহাউজ লাইসেন্সধারীদের করণীয়
এখনই যেসব প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি—
-
সফটওয়্যার ব্যবহার বিষয়ে প্রশিক্ষণ
-
স্থানীয় কাস্টমস কমিশনারেটের সঙ্গে সমন্বয়
-
প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার ও ইন্টারনেট প্রস্তুতি
-
অভ্যন্তরীণ হিসাব ডিজিটাল করা
দেরি করলে জানুয়ারির পর বড় ধরনের কার্যকরী জটিলতায় পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রপ্তানিকারক খাতে সম্ভাব্য প্রভাব
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
-
সময় ও খরচ কমবে
-
ব্যবসা সহজ হবে
-
আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বাড়বে
-
রপ্তানি খাতে আস্থা বৃদ্ধি পাবে
তবে শুরুতে কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে।
এনবিআরের পূর্ণ অটোমেশন পরিকল্পনা
এনবিআর জানিয়েছে, কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা রাজস্ব ব্যবস্থাকে পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার একটি অংশ মাত্র।
ভবিষ্যতে—
-
শুল্ক
-
আয়কর
-
ভ্যাট
সব ক্ষেত্রেই ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কাস্টমস বন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজস্ব ও রপ্তানি খাতে একটি বড় ও বাস্তবমুখী সংস্কার। যদিও শুরুতে কিছু সমন্বয় প্রয়োজন হবে, দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে—এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।




