থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল নিয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু। ১৫ বছর পর আবার পর্দায় ফিরছেন আমির-কারিনা। ২০২৬ সালে মুক্তির সম্ভাবনা—জানুন সবশেষ আপডেট।
২০০৯ সালে মুক্তির পর থেকে ‘থ্রি ইডিয়টস’ ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। শিক্ষাব্যবস্থা, বন্ধুত্ব ও জীবনের দর্শন—সবকিছুর অসাধারণ মিশেলে ছবিটি আজও সমানভাবে জনপ্রিয়। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দর্শকদের মনে একই উত্তেজনা ধরে রাখা এই ছবির দ্বিতীয় পর্ব নিয়ে জল্পনা ছিল বহুদিনের। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান। থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল অত্যন্ত শিগগিরই আসছে, এবং এই খবর ইতোমধ্যে বলিউডজুড়ে আলোড়ন তুলেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, পরিচালক রাজকুমার হিরানি ছবিটির দ্বিতীয় কিস্তির প্রস্তুতি প্রায় শেষ করেছেন। চিত্রনাট্যের কাজ রয়েছে শেষ পর্যায়ে, আর কাস্টিংও আগের মতোই রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ র্যাঞ্চো হিসেবে আবারও দেখা মিলবে আমির খানের, আর পিয়া চরিত্রে ফিরে আসছেন কারিনা কাপুর।
থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল: পুরনো টিমই ফিরছে নতুন অভিযানে
সিক্যুয়েলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হতে যাচ্ছে মূল চরিত্রদের অপরিবর্তিত উপস্থিতি। র্যাঞ্চোর দুই বিশ্বস্ত বন্ধু—রাজু রস্তোগি ও ফারহান—এই ভূমিকায় যথাক্রমে শরমন যোশি ও আর. মাধবন আবারও একসঙ্গে কাজ করছেন।
প্রথম ছবির শেষে পিয়ার বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে আসা, তারপর র্যাঞ্চোর জীবনে নতুন শুরু—এই জায়গা থেকেই কি গল্প এগোবে? সে প্রশ্ন ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা। যদিও নির্মাতা দল এখনো কাহিনি নিয়ে কিছুই স্পষ্ট জানায়নি, তবে নিশ্চিত করেছে একটি বিষয়—তিন বন্ধুকে নিয়ে নতুন এক অ্যাডভেঞ্চারই হবে গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। আগের মতোই থাকবে হিরানি-স্টাইলের বিশেষ কৌতুক আর সামাজিক বার্তার ছোঁয়া।
সিক্যুয়েল বন্ধ রেখে বায়োপিক স্থগিত করলেন পরিচালক
বিশ্বস্ত সূত্র বলছে, পরিচালক রাজকুমার হিরানি বর্তমানে পুরো মনোযোগ দিয়েছেন থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল-এ। এজন্যই তিনি দাদাসাহেব ফালকের বায়োপিক প্রজেক্ট সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছেন। বহুদিন ধরেই সিক্যুয়েলের পরিকল্পনা তাঁর মাথায় ছিল, তবে সঠিক সময় ও উপযুক্ত প্রেক্ষাপটের অপেক্ষায় ছিলেন।
এবার সময় এসে গেছে বলে মনে করছেন তিনি। তাই চিত্রনাট্য চূড়ান্ত করতেই গত কয়েক মাস ধরে নিবিড় পরিশ্রম করছেন দলটি।
২০২৬ সালে মুক্তির সম্ভাবনা—ভক্তদের মাঝে নতুন প্রত্যাশা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিক্যুয়েলটির শুটিং শুরু হবে ২০২৫ সালের মধ্যে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী চললে ২০২৬ সালেই পর্দায় দেখা যাবে আমির-কারিনা এবং শরমন-মাধবনের পুরনো দলকে। ভক্তদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় সুখবর, কারণ ১৫ বছর পর আবার জীবন্ত হবে থ্রি ইডিয়টস-এর আবেগ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বলিউডে সিক্যুয়েল তৈরির প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে থ্রি ইডিয়টস-এর মতো কালজয়ী সিনেমার দ্বিতীয় পর্ব নির্মাণের ক্ষেত্রে দর্শকের প্রত্যাশা অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি। তাই নির্মাতা দল বিশেষ সতর্কতা নিয়েই এগোচ্ছে।
থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল নিয়ে ভক্তদের প্রতিক্রিয়া
ঘোষণা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের উচ্ছ্বাস স্পষ্ট। অনেকে বলছেন, এক যুগের বেশি অপেক্ষার পর এমন একটি প্রকল্পই দর্শকদের সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, প্রথম ছবির মতোই আবেগপূর্ণ গল্প কি এবার পাওয়া যাবে?
অনেকেই মনে করছেন, এ যুগে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং নতুন প্রজন্মের ক্যারিয়ার সংগ্রাম—এসব বিষয় সিক্যুয়েলের গল্পকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। আর ঠিক এখানেই সাফল্যের সম্ভাবনা।
হিরানির নিজস্ব স্টাইল—কৌতুক, ড্রামা ও বার্তার সম্মিলন
রাজকুমার হিরানির সিনেমায় সাধারণত থাকে হাস্যরসের তীক্ষ্ণ ব্যবহার, মানবিকতার ছোঁয়া এবং সমাজমুখী আইডিয়া। ‘থ্রি ইডিয়টস’-এ শিক্ষাব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরেছিলেন তিনি। নতুন সিক্যুয়েলে কোন নতুন বাস্তবতা উঠে আসবে, তা নিয়েও কৌতূহল বাড়ছে।
তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, এই ছবিতেও থাকবে বন্ধুত্ব, জীবনের উদ্দেশ্য ও আত্ম-অন্বেষণের মতো চিরায়ত বিষয়।
আন্তর্জাতিক বাজারেও নজর
থ্রি ইডিয়টস শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জনপ্রিয়। গুগল ট্রেন্ডস তথ্য অনুযায়ী, এই সিনেমা এশিয়ার একাধিক দেশে এখনো সবচেয়ে বেশি সার্চ হওয়া সিনেমার তালিকায় থাকে। সেকারণেই থ্রি ইডিয়টস সিক্যুয়েল মুক্তি পেলে দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
শুটিং লোকেশন ও প্রোডাকশন আপডেট
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সিক্যুয়েলের শুটিং হবে ভারত, লাদাখ ও সুইজারল্যান্ডের কয়েকটি দর্শনীয় স্থানে। প্রযুক্তিগত দিক থেকেও আরও উন্নত মানের সিনেমাটোগ্রাফি ব্যবহার করা হবে।
ভিএফএক্স, সাউন্ড ডিজাইন এবং প্রোডাকশন ভ্যালু—সব ক্ষেত্রেই আগের চেয়ে বড় বিনিয়োগ হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রোডাকশন টিম। আমির খান এর আগেও বলেছেন, গল্পের সাথে নান্দনিকতা মিললে তিনি পরীক্ষামূলক কাজ করতে পছন্দ করেন।
Shikor TV Canada মনে করে, এই সিক্যুয়েল বলিউডে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। দর্শকের ভালোবাসা এবং আগ্রহের ভিত্তিতে ছবিটি মুক্তির আগে থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব প্রজন্ম প্রথম ছবিটি দেখে বড় হয়েছে, তাদের কাছে এটি হবে নস্টালজিয়ার নতুন পর্ব।




