সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের। রাজধানীর বাজারে সবজি, পেঁয়াজ ও তেলের দামে স্বস্তি নেই.
শীত মৌসুমে সাধারণত সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি আসে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজ—এই দুই সমস্যায় এখন নাভিশ্বাস উঠেছে রাজধানীর সাধারণ মানুষের। বাজারে সরবরাহ বাড়লেও কমছে না দাম। বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর একাধিক কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজি, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলের দামে এখনো অস্থিরতা রয়ে গেছে। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার ব্যয় বেড়েই চলেছে।
সবজির বাজারে কেন স্বস্তি নেই
শীতকাল মানেই বাজারে বাহারি সবজির সমারোহ। কৃষকদের মাঠ ভরে ওঠে ফসলের ফলনে। কিন্তু এবার তার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা। সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজ—এই বাস্তবতায় বাজারে গেলেই বাড়ছে অস্বস্তি।
বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন খরচ, শ্রমমূল্য এবং পাইকারি বাজারের দাম কম না হওয়ায় খুচরা বাজারেও দাম নামছে না।
শীতকালীন সবজির বর্তমান দাম (রাজধানী)
রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী—
-
অধিকাংশ সবজি: ৬০–৮০ টাকা কেজি
-
ফুলকপি ও বাঁধাকপি (মাঝারি): ৪০ টাকা
-
বেগুন, গাজর, শসা, কাঁচা মরিচ: ৮০ টাকা কেজি
-
নতুন আলু: ৮০ টাকা কেজি
-
পুরোনো আলু: ২৫–৩০ টাকা কেজি
-
ঝিঙা ও শিম: ৮০–৯০ টাকা
-
বরবটি ও করলা: ৯০–১০০ টাকা
-
কাঁচা কলা (হালি): ৪০–৫০ টাকা
মূলা ও পেঁপে তুলনামূলক কম দামে মিললেও সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তির অভাব স্পষ্ট।
সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজ কেন কমছে না?
সবজির পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে পেঁয়াজ। সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজ—এই শব্দযুগল এখন রাজধানীর বাজারের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
বর্তমানে—

-
দেশি পুরোনো পেঁয়াজ: ১৪০–১৫০ টাকা কেজি
-
নতুন মুড়িকাটা পেঁয়াজ: ১২০–১৩০ টাকা কেজি
-
আমদানি করা পেঁয়াজ: ১০০–১২০ টাকা কেজি
পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতার পেছনের কারণ
গত নভেম্বরের শুরুতে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে পড়ে। তখন ৭০–৮০ টাকার পেঁয়াজ দ্রুত বেড়ে দাঁড়ায় ১১০–১২০ টাকায়। এরপর গত ১০–১২ দিনের মধ্যে দাম আরও বেড়ে যায় ১৫০–১৬০ টাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিলেও বাজারে তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়
ভোজ্যতেলের নতুন দাম ও প্রভাব
সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজের পাশাপাশি ভোক্তাদের চাপ বাড়িয়েছে ভোজ্যতেল।
৭ ডিসেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়—
-
১ লিটার বোতল: ১৯৫ টাকা
-
৫ লিটার বোতল: ৯৫৫ টাকা
পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
ডিম ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি
সব পণ্যে চাপ থাকলেও ডিম ও মুরগির বাজারে এসেছে কিছুটা স্বস্তি।
বর্তমান দর—
-
ডিম (ফার্ম পর্যায়): ১২০ টাকা/ডজন (আগে ছিল ১৪০)
-
ব্রয়লার মুরগি: ১৮০ টাকা কেজি
-
সোনালি মুরগি: ২৭০–৩০০ টাকা কেজি
এই খাতে দাম কমায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছেন ভোক্তারা।
বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া
ক্রেতারা বলছেন,
“শীতের মৌসুমেও যদি সবজির দাম বাড়তি আর পেঁয়াজের ঝাঁজ কমে না, তাহলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাবে।”
অনেকে বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।
সামনে কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমদানির পেঁয়াজ বাজারে পুরোপুরি এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে সবজির ক্ষেত্রে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ না করলে স্বস্তি পাওয়া কঠিন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সবজির দাম বাড়তি, পেঁয়াজের ঝাঁজ—এই বাস্তবতায় রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার এখনো চাপে রয়েছে। কিছু পণ্যে স্বস্তি এলেও সামগ্রিকভাবে বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে। ভোক্তারা এখন কার্যকর বাজার তদারকি ও দ্রুত পদক্ষেপের অপেক্ষায়।




