চার দিনে ২৪৩৩ জনকে আটক করা অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ অভিযান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সফল। বিস্তারিত জানুন।
গত শনিবার থেকে দেশজুড়ে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ গ্রেপ্তার অভিযান চার দিনে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান মূলত অবৈধ অস্ত্র ও ফ্যাসিস্টদের দমন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচালিত হচ্ছে।
এই অভিযানটি শুরু হওয়ার প্রধান কারণ হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা। এর পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোর কমিটি জরুরি বৈঠক করে দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ কী?
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ গ্রেপ্তার অভিযান হল এক বিশেষ জাতীয় নিরাপত্তা উদ্যোগ। এটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশের বিশেষ ইউনিট ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে। মূল লক্ষ্য:

-
অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার
-
ফ্যাসিস্ট ও নাশকতাকারী কর্মকাণ্ড দমন
-
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-১ সম্পর্কিত বিস্তারিত
অভিযান চলাকালীন গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, অভিযান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ২,৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার ফলাফল:
-
গ্রেপ্তার: ৮২৩ জন
-
উদ্ধার করা অস্ত্র:
-
এলজি: ৩টি
-
দেশীয় ওয়ান শ্যুটারগান: ১টি
-
রাউন্ড রাইফেল গুলি: ৮টি
-
পিস্তল গুলি: ৪টি
-
কার্তুজ: ৩টি
-
বার্মিচ চাকু: ২টি
-
এটি প্রমাণ করে যে, অভিযানটি অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর। বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল তথ্য অনুসারে, এমন অভিযান নিয়মিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে।
জাতীয় নির্বাচনে প্রভাব
ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নির্বাচনী পরিবেশে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছিল। অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ গ্রেপ্তার অভিযান এই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হয়েছে।
এই অভিযান নির্বাচনের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটাররা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অংশ নিতে পারবে।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই ধরনের অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
-
ফ্যাসিস্ট ও অপরাধমূলক কার্যক্রম দ্রুত দমন করা
-
শহর ও গ্রামাঞ্চলে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করা
-
ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা
পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী এমন বিশেষ অভিযান চালিয়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে থাকবে।
চার দিনে ২৪৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ গ্রেপ্তার অভিযান দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় সাফল্য। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ফ্যাসিস্ট দমন এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই অভিযান প্রমাণ করেছে যে যৌথবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।
বাংলাদেশে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে প্রয়োজন। আগামী দিনে আরও সফল অভিযানের আশা করা যাচ্ছে।




