পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধনে রেকর্ড সাড়া মিলেছে। ১২ লাখ ৫৫ হাজার ভোটার অ্যাপে নাম লিখিয়েছেন। সময়সীমা ও ভোট প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানুন।
পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন কার্যক্রমে এবার উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতোমধ্যে ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৫ জন ভোটার এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) তথ্য অনুযায়ী, এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৫ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৭ জন বাংলাদেশ থেকে এবং বাকি ভোটাররা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। এই সংখ্যা স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগ ইতোমধ্যে কার্যকর হচ্ছে।
পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধনে লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যান
ইসি জানায়, নিবন্ধিত মোট ভোটারের মধ্যে

-
১০ লাখ ৮১ হাজার ৩৮০ জন পুরুষ,
-
১ লাখ ৭৩ হাজার ৭০৩ জন নারী।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন ব্যবস্থায় পুরুষ ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি হলেও নারী ভোটারদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভবিষ্যতে সচেতনতা বাড়লে এই ব্যবধান কমে আসবে।
প্রথমবার আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোট ব্যবস্থা
এবারই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ব্যবস্থার আওতায়—
-
প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার
-
আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তি
-
নির্বাচনের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা
পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
এই সুযোগ গ্রহণ করতে হলে ভোটারদের অবশ্যই পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন অ্যাপের মাধ্যমে নাম নিবন্ধন করতে হচ্ছে। এটি একটি নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে ইসি।
নিবন্ধনের সময়সীমা ও গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয় ১৯ নভেম্বর। প্রাথমিকভাবে নিবন্ধনের শেষ সময় ছিল ৩১ ডিসেম্বর। তবে ব্যাপক সাড়া এবং প্রবাসীদের অনুরোধের পর নির্বাচন কমিশন সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ইসি জানায়, নিবন্ধনের সময় বাড়িয়ে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে আরও বেশি প্রবাসী ভোটার এই সুযোগ নিতে পারছেন।
যেসব দেশে পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন চলছে
বর্তমানে বিশ্বের বহু দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধনের আওতায় আসছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ হলো—
দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, মিসর, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, মরক্কো, ব্রাজিল, নাইজেরিয়া, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, হংকং, কানাডা এবং আরও অনেক দেশ।
এই বিস্তৃত দেশতালিকা প্রমাণ করে যে, প্রবাসী ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে ইসি বৈশ্বিক পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
কীভাবে কাজ করবে পোস্টাল ভোট পদ্ধতি
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী—
-
নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ভোটারের দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠানো হবে।
-
ভোটার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যালটে ভোট প্রদান করবেন।
-
এরপর ফিরতি খামে ব্যালট পেপার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠাতে হবে।
এই পুরো প্রক্রিয়া নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে ইসি।
ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন, লক্ষ্য ৫০ লাখ প্রবাসী ভোট
উল্লেখ্য, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচনে ৫০ লাখ প্রবাসী ভোটারকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সংস্থাটি।
পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধনের বর্তমান অগ্রগতি সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই পদ্ধতি সফল হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও বিস্তৃত করা হবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ভোট গ্রহণকে সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিস্তারিত নীতিমালা ও নির্দেশনা পাওয়া যাবে Election Commission Bangladesh–এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
পোস্টাল ভোট বিডি নিবন্ধন ব্যবস্থা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। এতদিন সরাসরি ভোট দিতে না পারলেও এখন তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়বে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হবে।




