ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন আজ। ১১ দেশের অংশগ্রহণ, ৩২৪ স্টল, বিশেষ ছাড় ও নতুন পণ্যে জমজমাট এবারের বাণিজ্য মেলা।
পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই বহুল প্রত্যাশিত বাণিজ্য মেলার পর্দা উন্মোচন করবেন। দেশীয় শিল্প, রপ্তানি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই মেলাকে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর শুরু হওয়া এবারের মেলায় অংশ নিচ্ছে দেশ-বিদেশের শত শত প্রতিষ্ঠান। ইতোমধ্যে মেলার সাজসজ্জা, স্টল প্রস্তুতি এবং পণ্যের বিন্যাস প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন: কেন গুরুত্বপূর্ণ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন শুধু একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় বার্তা বহন করে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, বাণিজ্য মেলা সরকারের অর্থনৈতিক রূপরেখার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। শিল্প, বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতেই এই আয়োজন।
১১ দেশের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক রূপ
এবারের বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছে—
-
ভারত
-
তুরস্ক
-
সিঙ্গাপুর
-
ইন্দোনেশিয়া
-
হংকং
-
মালয়েশিয়া
সহ মোট ১১টি বিদেশি দেশ
বিদেশি প্যাভিলিয়নগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পণ্যের সঙ্গে দেশীয় পণ্যের তুলনামূলক প্রদর্শন সম্ভব হচ্ছে। এতে ক্রেতারা যেমন নতুন পণ্যের স্বাদ পাবেন, তেমনি উদ্যোক্তারাও বৈশ্বিক মানদণ্ড সম্পর্কে ধারণা নিতে পারবেন।
৩২৪ স্টলে পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন উপলক্ষে মোট ৩২৪টি স্টল স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্টলে পাওয়া যাবে—
-
তৈরি পোশাক
-
হস্তশিল্প
-
চামড়াজাত পণ্য
-
ইলেকট্রনিক্স
-
গৃহস্থালি সামগ্রী
-
খাদ্যপণ্য
-
ফ্যাশন ও লাইফস্টাইল আইটেম
অনেক প্রতিষ্ঠান মেলা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় ও অফার ঘোষণা করেছে। ফলে ক্রেতাদের ভিড় বাড়বে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ: পলিথিন নিষিদ্ধ
এবারের মেলায় পরিবেশ সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে পলিথিন ব্যাগ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে কাগজ ও পরিবেশবান্ধব ব্যাগ।
এই উদ্যোগ পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতের টেকসই মেলা আয়োজনের পথ দেখাবে।
টিকিট মূল্য ও বিনামূল্যে প্রবেশ সুবিধা
মেলায় প্রবেশের জন্য নির্ধারিত টিকিট মূল্য—
-
সাধারণ দর্শনার্থী: ৫০ টাকা
-
শিশু: ২৫ টাকা
তবে নিচের শ্রেণির দর্শনার্থীরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে বিনামূল্যে প্রবেশ করতে পারবেন—
-
মুক্তিযোদ্ধা
-
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
-
জুলাই আন্দোলনে আহতরা
এই উদ্যোগ সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
ক্রেতা আকর্ষণে নতুন কৌশল
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, উদ্যোক্তারা পণ্যের মান ও উপস্থাপনায় নতুনত্ব এনেছেন। বিশেষ ডিসপ্লে, লাইভ ডেমো এবং সীমিত সময়ের ছাড়—সব মিলিয়ে ক্রেতা আকর্ষণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
বিশেষ করে তরুণ উদ্যোক্তারা ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা ও অনলাইন অর্ডার সিস্টেম চালু করেছেন, যা আধুনিক বাণিজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৩০ বছরের ঐতিহ্য: শিল্প ও কর্মসংস্থানের চালিকাশক্তি
১৯৯৫ সাল থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে নিয়মিতভাবে আয়োজন করা হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। ৩০ বছরের এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, মেলাটি দেশের শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
দেশীয় পণ্যের প্রচার, রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে এই মেলা কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ২০২৬ উদ্বোধন দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও উদ্যোক্তা খাতের জন্য একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা। আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ এবং ক্রেতা-বান্ধব ব্যবস্থাপনা এবারের মেলাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আগামী দিনগুলোতে এই মেলা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে—এমন প্রত্যাশাই সবার।




