বিমানের টিকিট জালিয়াতি চক্র চিহ্নিত হলো, ১০টি সংঘবদ্ধ চক্রের তথ্য প্রকাশ। যাত্রী ও সংস্থার ক্ষতি রোধে বিমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিমানের টিকিট জালিয়াতি চক্র সনাক্ত হয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে যাত্রীদের ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে টিকিট ইস্যু করা, মালিকানা বারবার বদল এবং বড় অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ঘটানো হচ্ছিল। বিমান কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়িক কার্যক্রম স্থগিত এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম জানান, “আমরা যখন টিকিট ইস্যুর অস্বাভাবিক প্যাটার্ন লক্ষ্য করি, তখন অবিলম্বে তদন্ত শুরু করি। এর ফলে আমরা ১০টি সংঘবদ্ধ চক্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পেরেছি।”
টিকিট জালিয়াতির পদ্ধতি ও চক্রের কার্যক্রম
তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু ট্রাভেল এজেন্ট বিমান সংস্থার আইটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে টিকিট জালিয়াতি করছিল। বিশেষভাবে, একটি টিকিট যাত্রীর হাতে পৌঁছানোর আগে ৩–৪ বার হাতবদল হতো। এতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছিল।

প্রাথমিক তদন্তে মূল সমন্বয়কারী হিসেবে ‘বন ভয়েজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ওভারসিজ’ চিহ্নিত হয়েছে। তাদের সহযোগী সাব-এজেন্ট হিসেবে গাইবান্ধা ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান এবং ইডেন ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস ও ক্রিয়েটিভ ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস এর সঙ্গে সমস্ত লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।
বিমানের রেভিনিউ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়ম কেবল আর্থিক ক্ষতি নয়, আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির জন্যও হুমকি সৃষ্টি করে। তাই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তদন্তের প্রধান সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ
-
১০টি চক্র চিহ্নিত
-
চারটি ট্রাভেল এজেন্সি এবং ছয় ব্যক্তির আইএটিএ আইডি বাতিল
-
টিকিট ইনভেন্টরি ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত
-
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন
-
মামলা দায়ের প্রক্রিয়া চলমান
বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি আরও খতিয়ে দেখছে, অন্য কেউ এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছে কি না। কর্তৃপক্ষ বলছে, “সময়মতো এই অনিয়ম শনাক্ত না হলে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি তৈরি হতো।”
যাত্রী ও সংস্থার জন্য প্রভাব
বিমানের টিকিট জালিয়াতি চক্র শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়। এতে যাত্রীদের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং আন্তর্জাতিক যাত্রী বাজারে দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার ভাবমূর্তিও নষ্ট হয়।
বিমানের রেভিনিউ বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, “এই ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধ না করলে বিমানকে বড় আর্থিক ও প্রতিপত্তি ক্ষতির সম্মুখীন হতে হতো।”
বিমানের প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ
-
অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন কঠোর করা
-
অস্বাভাবিক টিকিট লেনদেনের নিয়মিত নজরদারি
-
আইটি সিস্টেম আপগ্রেড
-
যাত্রীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিজ্ঞপ্তি ও তথ্য সরবরাহ
বিমানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (biman.gov.bd) বিস্তারিত পদক্ষেপ ও সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে টিকিট নিরাপত্তা
জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জোরালো পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিমানের টিকিট জালিয়াতি চক্র এই প্রক্রিয়াকে আরও জোরদার করেছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এখন আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অনিয়ম এড়াতে সচেতন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
শিকর টিভি কানাডার পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানের অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আপডেট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতের নিরাপত্তা ও সতর্কতা
বিমান সংস্থা যাত্রী ও লেনদেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে:
-
ট্রাভেল এজেন্ট মনিটরিং শক্তিশালী করছে
-
টিকিট ইস্যুতে স্বয়ংক্রিয় যাচাই প্রক্রিয়া চালু করছে
-
অস্বাভাবিক লেনদেনের রিপোর্ট দ্রুত সরবরাহ করছে
-
যাত্রীদের সচেতন করতে তথ্য সেবা প্রদান করছে
এভাবে বিমান আর্থিক ক্ষতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বিমানের টিকিট জালিয়াতি চক্র চিহ্নিত হওয়া একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিমান সংস্থা দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে আর্থিক ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। এটি দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা হলো: শুধুমাত্র অনুমোদিত এজেন্ট এবং নিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে টিকিট ক্রয় করতে হবে।




