এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন: পরিবেশ এখনো হয়নি বললেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা দেশের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছেন।

দেশে এখনও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। জামায়াতে ইসলামী তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে প্রশাসনের কিছু সরকারি কর্মকর্তা এখনো একটি বিশেষ দলের প্রতি পক্ষপাতী হতে পারেন। বিভিন্ন স্থান থেকে এমন অভিযোগ আসছে যে, নির্বাচনের পরিবেশ এখনও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নয়।

নেতারা আরো জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের উপর হামলা এবং হত্যার ঘটনা ঘটছে। এই প্রেক্ষাপটে, দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের প্রতি সতর্কতা অবলম্বন ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় বৈঠকে প্রধান বক্তব্য

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং নির্বাহী পরিষদের অন্যান্য সদস্যরা।

বৈঠকে নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদকে বিদায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই সংগ্রামে প্রায় ১,৫০০–২,০০০ শহীদ এবং ৩০,০০০-এরও বেশি আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। নেতারা বলছেন, “আমাদের অর্জিত নতুন বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোন গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলটি দেশের স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান

জামায়াতের নেতারা নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, প্রশাসন যেন কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি পক্ষপাতী না হয় এবং জনগণ ভোট প্রদানের সময় নিরাপদ ও অবাধ পরিবেশ পায়।

নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দলের পক্ষ থেকে নিচের মূল বিষয়গুলো প্রাধান্য পেতে পারে:

  1. নির্বাচনের সময় প্রশাসন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকে।

  2. রাজনৈতিক হিংসা ও প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা।

  3. নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

  4. ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোট প্রদানের সুযোগ নিশ্চিত করা।

  5. নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা শতভাগ নিশ্চিত করা।

  6. বিশেষ কোন দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব না থাকা।

  7. দেশের নাগরিকরা তাদের ভোটাধিকার স্বাধীনভাবে প্রয়োগ করতে সক্ষম হয়।

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ও দেশের ভবিষ্যত

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মতে, একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেশের স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে। বৈঠকে নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করে, তবে দেশের ভোট প্রক্রিয়া অনেক বেশি স্বচ্ছ ও নিরাপদ হবে।

শেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তবে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হবে।

আন্তর্জাতিক দৃষ্টিকোণ

বৈশ্বিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা একটি দেশের আন্তর্জাতিক মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা নির্বাচনের সময় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে দেশগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য UN Election Standards ওয়েবসাইটে যেতে পারেন।

 জামায়াতের আহ্বান ও নাগরিকদের দায়িত্ব

জামায়াতের নেতারা দেশের নাগরিকদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ভোটাররা যেন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে এবং কোনও ধরনের ভীতি বা প্ররোচনার কারণে ভোট থেকে বিরত না থাকে।

নির্বাচন কমিশনকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করার পাশাপাশি জনগণকেও ভোট প্রদানের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, দেশের গণতন্ত্র রক্ষা এবং ভবিষ্যতের জন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

নাগরিক সচেতনতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, এবং রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ—এই তিনটি মূল বিষয়ই দেশের স্থিতিশীল গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রয়োজন।

সর্বাধিক পঠিত