এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

লুৎফুজ্জামান বাবর এর শক্ত অবস্থান: নেত্রকোনা-৪ আসনে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত

লুৎফুজ্জামান বাবর এর শক্ত অবস্থান ধরে রাখছেন নেত্রকোনা-৪ আসনে; জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও ভোটাররা তার উন্নয়নমূলক কাজ মনে রাখছেন।

নেত্রকোনা জেলার হাওরবেষ্টিত মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ি ও মদন উপজেলা বর্ষাকালে প্রকৃতির অসাধারণ রূপ ধারণ করে। গ্রামগুলো তখন ছোট ছোট দ্বীপের মতো মনে হয়। হেমন্তে পানি সরে গেলে চোখে পড়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ। এই প্রকৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা।

এই তিন উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসন নেত্রকোনা-৪। মোট ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৭৫ হাজার ৩১২ জন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, বিশেষ করে বিএনপির সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর

১৯৯১ সালে প্রথমবার এই আসন থেকে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত হন বাবর। ২০০১ সালে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে স্থান করে নেন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের মন্ত্রিসভায়। সেই সময় তিনি স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী।

লুৎফুজ্জামান বাবরের রাজনৈতিক যাত্রা

বাবর দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮ সালে বিএনপি তাঁকে মনোনয়ন না দিলেও তিনি কারাগার থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থীর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। পরে দল থেকে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হলেও কেন্দ্রীয় বা জেলা বিএনপির কোনো পদ পাননি।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা ও একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাবর মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে হাইকোর্ট তাঁকে খালাস দেন। দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও তিনি এখনো বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হননি।

আসন্ন নির্বাচনে বাবর বনাম জামায়াত

স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, বাবরের স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবণী ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তবে আসন্ন নির্বাচনে বাবরকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে, আর স্ত্রী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন এটি একটি কৌশল: যথাসময়ে তাহমিনা বাবরের পক্ষে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—

  • জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার

  • সিপিবির প্রার্থী জলি তালুকদার

  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুখলেছুর রহমান

ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই বাবরকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছেন। একজন ভোটার বলেছেন, “বাবর এমপি থাকাকালে এলাকার অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। আমরা আবার তাঁকে সংসদে চাই।”

অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী আল হেলাল বলেন, “ভোটের মাঠে ভালো সাড়া পাচ্ছি। জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণরা আমাদের সঙ্গে আছে। আশা করছি বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হব ইনশাল্লাহ।”

বাবরের স্থানীয় প্রভাব ও ভোটের কৌশল

বাবরের রাজনৈতিক প্রভাব এখনো নেত্রকোনা-৪ আসনে দৃঢ়। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পদচারণা, উন্নয়নমূলক কাজ ও স্থানীয় সহানুভূতি অনেক ভোটারকে আকৃষ্ট করছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধান লড়াই হবে বিএনপি বনাম জামায়াতের মধ্যে।

বাবরের প্রভাব শুধু ভোটের সংখ্যা হিসেবেই নয়, তিনি স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক বজায় রাখার ক্ষমতা রাখেন। এর ফলে ভোটের মাঠে আধিপত্য ধরে রাখাটা তাঁর পক্ষে সহজ। এছাড়া, Shikor TV Canada-এর এই রিপোর্টে নেত্রকোনা-৪ আসনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ পাওয়া যাবে।

ভোটের মাঠে জামায়াতের চ্যালেঞ্জ

জামায়াত প্রার্থী আল হেলাল তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাক্ষেত্রে যুক্ত এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজের জন্য পরিচিত। তিনি ভোটারদের কাছে ‘পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাবরের প্রভাবশালী অবস্থান ও স্থানীয় জনপ্রিয়তা জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

ভোটারদের দৃষ্টিকোণ

ভোটাররা বাবরের উন্নয়নমূলক কাজকে মনে রেখেছেন। অনেকেই মনে করেন, বাবর ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী এই এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবে না। অন্যদিকে, নতুন প্রজন্মের ভোটাররা মাদক, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন এবং জামায়াতকে সমর্থন করছেন। ফলে নির্বাচনে দম্পতি বাবর-বিরোধী কৌশলও গুরুত্ব পাচ্ছে।

নেত্রকোনা-৪ আসনে লুৎফুজ্জামান বাবর ভোটে এখনো প্রভাবশালী। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে মূল লড়াই হতে যাচ্ছে। ভোটাররা বাবরের উন্নয়নমূলক কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীরা মাঠে সক্রিয় হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রধান লড়াই হবে বাবরের আধিপত্য বজায় রাখার ওপর।

সর্বাধিক পঠিত