এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
এপস্টেইন ফাইলস: যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত
Shikor Web Image (21)
ফিলিপিন্সে মেয়রের গাড়িতে রকেট হামলা: চতুর্থবার প্রাণে বাঁচলেন শরিফ আগুয়াকের মেয়র
Shikor Web Image (18)
মায়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়ার মৃত্যুদণ্ড: ১১ সদস্যকে শাস্তি দিল চীন
Shikor Web Image (15)
থাইল্যান্ডে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২ পাইলট নিহত
Shikor Web Image - 2026-01-28T140227.923
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা: ট্রাম্পের হুমকি কোথায় কীভাবে হামলা চালাতে পারে

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে নতুন উদ্বেগ। ট্রাম্পের হুমকি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প বিশ্লেষণ।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক কড়া মন্তব্য এই আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিশেষ করে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া “সাহায্য আসছে” মন্তব্য নতুন করে জল্পনা উসকে দিয়েছে।

এমন এক সময়ে কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি আল-উদেইদ থেকে কিছু কর্মীকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

ইরানে চলমান বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক পটভূমি

ইরানে গত বছরের শেষ দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মূলত অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে একটি ব্যাপক গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে যে শাসনব্যবস্থা দেশটিতে প্রতিষ্ঠিত, সেই কাঠামোর বিরুদ্ধেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বরাবরের মতোই কঠোর। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে সমালোচনা করে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নতুন নয়। বর্তমানে অঞ্চলজুড়ে অন্তত ১৯টি স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উল্লেখযোগ্য।

কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক স্থাপনা। এখানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র করেছে।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এটি হয়তো কেবল একটি “অবস্থানগত পরিবর্তন”, তবে এমন সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সন্দেহ আরও বেড়েছে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা: কী কী বিকল্প রয়েছে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়াশিংটনের সামনে কয়েকটি বাস্তবসম্মত সামরিক বিকল্প রয়েছে। তবে প্রতিটি বিকল্পই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ।

নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা

যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সীমিত পরিসরে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ও ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা দিয়ে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় আঘাত হানার ক্ষমতা এখনও তাদের হাতে রয়েছে।

এই ধরনের হামলা স্বল্পমেয়াদি হলেও এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে ভয়াবহ।

শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযান

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো “সংক্ষিপ্ত ও ক্ষিপ্র” অভিযান চালায়, তবে সেটি হতে পারে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে। ২০২০ সালে ইরাকের বাগদাদে ড্রোন হামলায় কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার নজির এখনও আলোচনায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, তিনি কোথায় আছেন তা যুক্তরাষ্ট্র জানে।

সাইবার ও গোপন অভিযান

খোলাখুলি যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার হামলা ও গোপন অভিযানের মাধ্যমে ইরানের অবকাঠামো দুর্বল করার সম্ভাবনাও রয়েছে। এটি তুলনামূলক কম দৃশ্যমান হলেও দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।

স্থল অভিযান কি আদৌ সম্ভব?

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানে স্থল সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা প্রায় নেই। ইরান ভৌগোলিকভাবে বিশাল এবং সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশ। এখানে স্থল অভিযান মানে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ, যা ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহ বলেন, ট্রাম্প কখনোই “জাতি গঠনকারী” নন। আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তই তার বড় উদাহরণ।

‘সাহায্য আসছে’—ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ কী?

ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অনেকেই ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, এটি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিতও হতে পারে।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানে ক্ষমতার ভারসাম্য বদলাতে চায়, তবে সরাসরি আগ্রাসনে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।

ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা প্রতিক্রিয়া

যদি সত্যিই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলা বাস্তবে রূপ নেয়, তবে তেহরান বসে থাকবে না। ইরানের হাতে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক মিত্র এবং প্রভাবশালী সামরিক নেটওয়ার্ক।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলো তখন বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও কূটনৈতিক চাপ

ইরান সংকট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া ও চীন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে। বড় ধরনের সংঘাত হলে বৈশ্বিক তেলের বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় ধাক্কা আসবে।

এই কারণেই এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অনেক দেশ সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হিসেবে দেখছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এক বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে। সরাসরি যুদ্ধ হয়তো এখনো দূরের বিষয়, তবে উত্তেজনা যে কোনো সময় নতুন মাত্রা পেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Shikor TV Canada পরিস্থিতির প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সর্বাধিক পঠিত