এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (57)
৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’
Shikor Web Image (27)
ফের কমল স্বর্ণের দাম: ১৫,৭৪৬ টাকা কমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা
Shikor Web Image - 2026-01-28T162155.269
ঋণভিত্তিক ব্যয় কোনো আয় তৈরি করতে পারেনি: বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
Shikor Web Image - 2026-01-28T161305.446
১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার
Shikor Web Image - 2026-01-28T160330.637
সোনার দাম রেকর্ড: আজ থেকেই কার্যকর প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে জাহাজ। খাদ্য মজুত বাড়াতে সরকারের এই শক্তিশালী উদ্যোগে বাজারে স্বস্তির আশা।

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে আমদানীকৃত এই চাল নিয়ে একটি জাহাজ ইতোমধ্যে মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে। খাদ্য মজুত বাড়ানো, বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় এই চাল আমদানিকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে আনা এই চাল সরকারি চুক্তির আওতায় আমদানি করা হয়েছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরীক্ষার পর খুব শিগগিরই চাল খালাস কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই চাল সরবরাহ করা হবে।

মোংলা বন্দরে পৌঁছেছে চালবোঝাই জাহাজ

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ভারত থেকে আমদানীকৃত ৫ হাজার মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল বহনকারী একটি জাহাজ মোংলা বন্দরে এসে ভিড়ে। ভিয়েতনাম পতাকাবাহী জাহাজটির নাম ‘এমভি হং টার্ন’। জাহাজটি প্রথমে মোংলা বন্দর চ্যানেলের বেসক্রিকে নোঙর করে।

খাদ্য অধিদপ্তরের মোংলার সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ আব্দুল সোবহান সরদার জানান, বন্দরের নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। চালের গুণগত মান নিশ্চিত করতেই এই ধাপগুলো অনুসরণ করা হয়।

চালের নমুনা পরীক্ষা ও মান যাচাই

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে জাহাজ থেকে চালের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনা খুলনা ও ঢাকার ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পরীক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

এই সময় উপস্থিত ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাদের আজাদ এবং খাদ্য অধিদপ্তরের খুলনার চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রক এস কে মশিয়ার রহমান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চালের মান, আর্দ্রতা ও সংরক্ষণযোগ্যতা যাচাই করেন।

ল্যাব পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকেই চাল খালাসের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি কেন গুরুত্বপূর্ণ

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দিতে পারে। খাদ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি মজুত বাড়লে বাজারে অস্থিরতা কমে এবং সাধারণ মানুষের ওপর চাপ হ্রাস পায়।

বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি খাদ্য গুদামে পর্যাপ্ত চাল থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই আমদানির ফলে ওএমএস, টিসিবি এবং বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে চাল সরবরাহ সহজ হবে।

কোথায় যাবে এই চাল

খালাসকৃত চাল নদীপথে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খাদ্য গুদামে পাঠানো হবে। এতে করে দক্ষিণাঞ্চলের খাদ্য গুদামগুলো দ্রুত সমৃদ্ধ হবে।

খাদ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চাল খালাস ও পরিবহন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। কাজ শেষ হলে জাহাজটি মোংলা বন্দর ত্যাগ করবে।

জিটুজি চুক্তির আওতায় বড় আমদানি পরিকল্পনা

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী জিটুজি (Government-to-Government) চুক্তির আওতায় ভারত, মায়ানমার ও পাকিস্তান থেকে মোট ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হচ্ছে।

এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ধাপে ধাপে আরও চাল দেশে আসবে।

এরই মধ্যে মোংলা বন্দর দিয়ে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি সম্পন্ন হয়েছে, যা সরকারের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।

বাজারে এর প্রভাব কী হতে পারে

অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি বাড়লে বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে। বিশেষ করে উৎসব বা দুর্যোগকালীন সময়ে চালের দাম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।

ভারত থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি বাজারে মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এতে করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে অস্থিরতা কমতে পারে।

মোংলা বন্দর ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থার ভূমিকা

মোংলা বন্দর বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য আমদানি কেন্দ্র। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দ্রুত জাহাজ খালাস সম্ভব হচ্ছে।

খাদ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে আমদানি প্রক্রিয়া আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হয়েছে। এতে সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে।

সরকারের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি

খাদ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায়ও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার মনে করছে, খাদ্য মজুত যত শক্তিশালী হবে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও ততটাই স্বস্তিদায়ক হবে।

সর্বাধিক পঠিত