এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময়

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় সভায় উঠে এসেছে ৭ বছরের বেদনা, ন্যায়বিচারের দাবি ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অঙ্গীকার।

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বাংলাদেশের মানবাধিকার ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। দীর্ঘ সময় ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি বসে কথা বলাকে বিএনপির পক্ষ থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও মানবিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চীন–মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় অংশ নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এই আয়োজনটি যৌথভাবে করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’‘মায়ের ডাক’। সভাটি শুরু হয় সকাল সোয়া ১১টায়। দীর্ঘদিন ধরে যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনের সন্ধান পাচ্ছে না, কিংবা রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করছে, তাদের কণ্ঠস্বর সরাসরি শোনার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই সভা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

রাজনৈতিক ও মানবিক প্রেক্ষাপট

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং এটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চলমান আলোচনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুমের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করে আসছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে গুমের ঘটনা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন।

এই প্রেক্ষাপটে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের কথা শোনা এবং তাদের অভিজ্ঞতা নথিভুক্ত করা রাজনৈতিকভাবে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানবিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

কারা উপস্থিত ছিলেন

সভায় তারেক রহমানের পাশাপাশি বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তাহসিনা রুশদীর লুনা, সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী। উপস্থিত নেতারা বিষয়টিকে দলীয় এজেন্ডার পাশাপাশি জাতীয় সংকট হিসেবেও তুলে ধরেন।

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় কেন গুরুত্বপূর্ণ

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় সভাটি কয়েকটি কারণে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, এটি ভুক্তভোগীদের জন্য একটি সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করেছে। দ্বিতীয়ত, রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে দায়বদ্ধতার একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোয় মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

অনেক পরিবার সভায় তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, কীভাবে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে তারা দিন কাটাচ্ছেন। এসব বক্তব্য সভার পরিবেশকে আবেগঘন করে তোলে।

তারেক রহমানের বক্তব্যের মূল সুর

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, গুম কোনোভাবেই সভ্য রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন চলতেই থাকবে। ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

‘মায়ের ডাক’ ও নাগরিক আন্দোলন

‘মায়ের ডাক’ দীর্ঘদিন ধরে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রেখে আসছে। এই সংগঠনটির প্রতিনিধিরা সভায় জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ গুমবিরোধী আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে। গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় একটি বড় পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দৃষ্টিভঙ্গি

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গুমকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। enforced disappearance বিষয়ে জাতিসংঘ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।
এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে enforced disappearance সংক্রান্ত অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিশ্লেষণে, যা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত authoritative উৎস।

রাজনৈতিক বার্তা ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বিএনপির রাজনীতিতে মানবাধিকারকে আরও দৃশ্যমানভাবে যুক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আয়োজন আন্তর্জাতিক মহলেও বার্তা দিতে পারে যে, বিরোধী দল মানবাধিকার ইস্যুকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

একই সঙ্গে এটি আগামী দিনের রাজনৈতিক আলোচনায় গুমের বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনতে পারে। ফলে সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় সভাটি প্রতীকী ও বাস্তব—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি একদিকে যেমন রাজনৈতিক অঙ্গনে মানবাধিকার আলোচনাকে জোরদার করেছে, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য কিছুটা হলেও নৈতিক স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে এই ধরনের উদ্যোগ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এই আয়োজন যে আলোচনার নতুন দরজা খুলেছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত