এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (57)
৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’
Shikor Web Image (27)
ফের কমল স্বর্ণের দাম: ১৫,৭৪৬ টাকা কমে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা
Shikor Web Image - 2026-01-28T162155.269
ঋণভিত্তিক ব্যয় কোনো আয় তৈরি করতে পারেনি: বললেন বাণিজ্য উপদেষ্টা
Shikor Web Image - 2026-01-28T161305.446
১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কিনবে সরকার
Shikor Web Image - 2026-01-28T160330.637
সোনার দাম রেকর্ড: আজ থেকেই কার্যকর প্রতি ভরি ২ লাখ ৬৯ হাজার ৭৮৮ টাকা

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট: হবে না বললেন বিইআরসি চেয়ারম্যান

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগে স্বস্তির বার্তা দিয়েছে বিইআরসি। আমদানি বাড়ানোসহ ৫ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে বাজার স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস।

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হবে না—এমন আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। রমজান সামনে রেখে রান্নার গ্যাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা অনেকটাই প্রশমিত করতে পারে এই ঘোষণা।

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট নিয়ে দেশজুড়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, তখন সরকারি পর্যায় থেকে আসা এই বক্তব্য বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, এলপিজি বর্তমানে দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য জ্বালানি।

এলপিজি বাজারে বর্তমান বাস্তবতা

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এলপিজির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নির্ধারিত দামের প্রায় দ্বিগুণ অর্থ দিয়েও অনেক জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।

বিশেষ করে শহরের বাইরে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই সংকট আরও প্রকট। রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রান্নার গ্যাস নিয়ে এমন অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট নিয়ে বিইআরসির বক্তব্য

রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় আমদানি বাড়ানোর ঘোষণা

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘এলপিজি বাজার নিয়ন্ত্রণ চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন—

“রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হবে না। জানুয়ারি মাসেই প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন এলপিজি দেশে আসার কথা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আগামী দিনগুলোতে এলপিজি আমদানি বাড়ানো হবে, যা বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

গোলটেবিল আলোচনায় উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

এই আলোচনায় জ্বালানি খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা অধিকার সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় এলপিজি বাজারের বর্তমান সংকট, মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বিইআরসি চেয়ারম্যানের মতে, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা—সব পক্ষের সম্মিলিত সহযোগিতায় রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট এড়ানো সম্ভব।

 দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভোক্তা অধিকার সংগঠন

ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব (CAB)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান আলোচনায় বলেন—

“নির্ধারিত ১ হাজার ৩০০ টাকার এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য কেন গ্রাহককে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে?”

তিনি এলপিজির দাম নির্ধারণ পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ করার দাবি জানান। পাশাপাশি বাজার মনিটরিং জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

এলপিজির দাম কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি কারণে এলপিজির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে—

  • আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামা

  • পর্যাপ্ত মনিটরিংয়ের অভাব

  • মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য

  • পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা

এই কারণগুলো একত্রে রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে।

 আমদানি বাড়লে কীভাবে বাজার স্বাভাবিক হবে?

বিইআরসির তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলপিজি আমদানি করা হচ্ছে। এই আমদানি অব্যাহত থাকলে—

  • সরবরাহ ঘাটতি কমবে

  • বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে

  • অতিরিক্ত দাম আদায়ের সুযোগ কমবে

  • ভোক্তারা স্বস্তি পাবেন

এতে রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট বাস্তবে রূপ নেবে না বলেই আশা করা হচ্ছে।

 রমজানে এলপিজির গুরুত্ব কেন বেশি?

রমজান মাসে রান্নার পরিমাণ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। ইফতার ও সেহরির প্রস্তুতির জন্য এলপিজির ওপর নির্ভরতা বাড়ে কয়েকগুণ।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস নেই, সেখানে এলপিজিই একমাত্র ভরসা। তাই রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট হলে তা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে আরও কী পদক্ষেপ দরকার?

বিশ্লেষকদের মতে, শুধু আমদানি বাড়ালেই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি প্রয়োজন—

  • নিয়মিত বাজার তদারকি

  • নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা

  • ডিলার ও পরিবেশকদের জবাবদিহি

  • ভোক্তা অভিযোগের দ্রুত সমাধান

এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব।

সব দিক বিবেচনায় বলা যায়, রমজানে এলপিজি গ্যাসের সংকট নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তা পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নয়। বিইআরসির আশ্বাস, বাড়তি আমদানি এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে নেওয়া উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

তবে ভোক্তাদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে হলে ঘোষণার পাশাপাশি কঠোর নজরদারি ও বাস্তবায়ন জরুরি। তাহলেই রমজান মাসে রান্নার গ্যাস নিয়ে দুশ্চিন্তা ছাড়াই দিন কাটাতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

সর্বাধিক পঠিত