আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (32)
যুক্তরাজ্যের চেভেনিং স্কলারশিপের আবেদন শুরু
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (12)
ফের বাড়লো জ্বালানি তেলের দাম
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (6)
যন্তর মন্তরে আপত্তিকর স্লোগান, ‘তরুণদের ক্ষমা করার’ আহ্বান মোদির
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (3)
ভিয়েতনামে অবৈধভাবে অবস্থান করা বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা

ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত: নিখোঁজ ১১

ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত ঘটনায় ১১ জন নিখোঁজ। কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ে চলছে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান। জানুন সর্বশেষ আপডেট।

ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে নেমে এসেছে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। দক্ষিণ সুলাওয়েসি প্রদেশের দুর্গম ও কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়ে একটি মৎস্য নজরদারি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর এখনো ১১ জন আরোহী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর থেকে উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার দুপুরে বিমানটি রাডার থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে জীবিত বা মৃত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনাটি

বিমানটি ছিল ইন্দোনেশিয়া এয়ার ট্রান্সপোর্ট গ্রুপ পরিচালিত একটি বিশেষ মৎস্য নজরদারি উড়োজাহাজ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ সুলাওয়েসির মারোস অঞ্চলের আকাশে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

যোগাযোগ হারানোর পরপরই বিমানটি নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। পরে টানা অনুসন্ধান চালিয়ে রবিবার সকালে পাহাড়ি এলাকায় বিমানটির ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করা হয়।

এই ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বিমান চলাচল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিমানে কারা ছিলেন

কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বিমানটিতে মোট ১১ জন আরোহী ছিলেন। এর মধ্যে—

  • ৮ জন ক্রু সদস্য

  • ৩ জন যাত্রী

তিনজন যাত্রী ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার মৎস্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা। সরকারি কাজে মৎস্যক্ষেত্র পর্যবেক্ষণের জন্য বিমানটি ভাড়া করা হয়েছিল।

এই তথ্য জানার পর নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

কোথায় পাওয়া গেছে ধ্বংসাবশেষ

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের ক্রুরা দক্ষিণ সুলাওয়েসির মাউন্ট বুলুসারাউং পাহাড়ের আশপাশে বিমানের জানালার ভাঙা অংশ দেখতে পান।

পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটিই নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষ। পাহাড়ের ঢালে ও গাছপালার মধ্যে বিমানের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

উদ্ধার সংস্থার প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, এলাকাটিতে তীব্র বাতাস বইছে এবং চারপাশ ঘন কুয়াশায় ঢাকা।

ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত: জোরদার উদ্ধার অভিযান

এই ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর দক্ষিণ সুলাওয়েসির উদ্ধার সংস্থার প্রধান মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, ১,২০০ জনের বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,
“আমাদের অগ্রাধিকার নিখোঁজদের খুঁজে বের করা। পরিস্থিতি কঠিন হলেও আমরা আশা করছি, কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।”

উদ্ধার অভিযানে অংশ নিচ্ছে—

  • জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা

  • সেনাবাহিনী

  • পুলিশ

  • স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল

হেলিকপ্টার, ড্রোন ও বিশেষ প্রশিক্ষিত উদ্ধার দল ব্যবহার করা হচ্ছে।

কেন উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে

উদ্ধার কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকটি বিষয়—

  1. ঘন কুয়াশা

  2. খাড়া পাহাড়ি এলাকা

  3. প্রবল বাতাস

  4. সংকীর্ণ পথ ও বনাঞ্চল

এই কারণে ভারী উদ্ধার সরঞ্জাম পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় উদ্ধারকর্মীদের হেঁটেই যেতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান সময়সাপেক্ষ হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ কী

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা কমিটি (NTSC) ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—

  • খারাপ আবহাওয়া

  • ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া

  • পাহাড়ি অঞ্চলে নেভিগেশন জটিলতা

এই সবকিছু মিলেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনাই একক কোনো কারণে নয়; বরং একাধিক কারণের সমন্বয়ে ঘটে।

ইন্দোনেশিয়ায় বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস

ইন্দোনেশিয়া একটি দ্বীপপুঞ্জ রাষ্ট্র। এখানে—

  • পাহাড়

  • ঘন বন

  • পরিবর্তনশীল আবহাওয়া

বিমান চলাচলকে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

গত কয়েক বছরে দেশটিতে একাধিক ছোট ও মাঝারি বিমান দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ও চার্টার ফ্লাইটগুলোতে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

নিখোঁজদের পরিবারে উৎকণ্ঠা

নিখোঁজ ১১ জনের পরিবার এখন প্রতিটি আপডেটের দিকে তাকিয়ে আছে। উদ্ধার অভিযান দীর্ঘ হলে উদ্বেগ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হবে।

ইন্দোনেশিয়ায় পাহাড়ে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই অনেক সময় আকাশপথে নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে হয়। উদ্ধারকারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে এখন দৃষ্টি দক্ষিণ সুলাওয়েসির সেই পাহাড়ের দিকে—যেখানে হয়তো কোনো অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরার গল্প অপেক্ষা করছে।

সর্বাধিক পঠিত