এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
এপস্টেইন ফাইলস: যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত
Shikor Web Image (21)
ফিলিপিন্সে মেয়রের গাড়িতে রকেট হামলা: চতুর্থবার প্রাণে বাঁচলেন শরিফ আগুয়াকের মেয়র
Shikor Web Image (18)
মায়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়ার মৃত্যুদণ্ড: ১১ সদস্যকে শাস্তি দিল চীন
Shikor Web Image (15)
থাইল্যান্ডে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২ পাইলট নিহত
Shikor Web Image - 2026-01-28T140227.923
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত

ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস: আমন্ত্রণ পেলেন পুতিনও

ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিসে পুতিনের আমন্ত্রণ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসন ও পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন।

বিশ্ব রাজনীতির অঙ্গনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস। যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় শাসনব্যবস্থা ও পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে নতুন কাঠামোর প্রস্তাব দিয়েছেন, তাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ক্রেমলিন।

সোমবার মস্কোতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, পুতিন এই তথাকথিত বোর্ড অব পিসে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই প্রস্তাবের সব দিক ও সূক্ষ্মতা স্পষ্ট করার চেষ্টা করছে রাশিয়া।

এই ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস নিয়ে প্রশ্ন, সমালোচনা ও বিশ্লেষণ তীব্র হয়েছে।

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ভাবনা

গাজায় দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের পর অঞ্চলটির শাসন ও পুনর্গঠন কীভাবে হবে—এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে বহুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস একটি ব্যতিক্রমী ধারণা হিসেবে সামনে এসেছে।

হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, এই কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্গঠন তদারকি করা। ট্রাম্প নিজেই এই প্রধান বোর্ডের সভাপতির ভূমিকা পালন করবেন বলে জানানো হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ট্রাম্প আবারও মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে নিজের প্রভাব দৃশ্যমান করতে চাইছেন।

বোর্ড অব পিসের কাঠামো কেমন হবে

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস তিনটি স্তরে গঠিত হতে পারে—

  1. প্রধান বোর্ড
    এই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এখান থেকেই নীতিগত সিদ্ধান্ত ও কৌশল নির্ধারণ হবে।

  2. ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের কমিটি
    এই কমিটি গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন পরিচালনা করবে। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্থানীয় জনগণের প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনায় রাখাই হবে তাদের মূল কাজ।

  3. এক্সিকিউটিভ বোর্ড
    এই বোর্ড মূলত পরামর্শমূলক ভূমিকা পালন করবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শ দেবে এই বোর্ড।

এই কাঠামো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে সংশয় প্রকাশ করেছেন বহু কূটনৈতিক বিশ্লেষক।

ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিসে পুতিনের আমন্ত্রণ কেন গুরুত্বপূর্ণ

পুতিনকে ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস-এ আমন্ত্রণ জানানো নিঃসন্দেহে একটি বড় কূটনৈতিক বার্তা বহন করে। যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক প্রতিযোগিতার কারণে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট।

এমন পরিস্থিতিতে গাজা ইস্যুতে পুতিনকে যুক্ত করার প্রস্তাব কয়েকটি দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ—

  • মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার প্রভাবকে স্বীকৃতি দেওয়া

  • আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের চেষ্টা

  • পশ্চিমা সমালোচনার চাপ কমানোর কৌশল

তবে সমালোচকদের মতে, এটি গাজার মতো সংবেদনশীল ইস্যুকে বড় শক্তিগুলোর ক্ষমতার খেলায় পরিণত করতে পারে।

ক্রেমলিনের অবস্থান কী

ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা এখনো ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস প্রস্তাবের সব দিক বিশ্লেষণ করছে। দিমিত্রি পেসকভ স্পষ্ট করে বলেছেন, “সব সূক্ষ্মতা পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।”

রাশিয়ার কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, মস্কো এই আমন্ত্রণকে দরকষাকষির একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। গাজা ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখলে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ

এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস উদ্যোগকে “অস্বচ্ছ ও একতরফা” বলে মন্তব্য করেছে।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক বলছেন—যুদ্ধ-পরবর্তী গাজায় স্থিতিশীলতা আনতে বড় শক্তিগুলোর অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে পুতিনের সম্পৃক্ততা পুরোপুরি অস্বাভাবিক নয়।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের মতামত উপেক্ষিত হলে এই উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে।

গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—গাজার জনগণ এই বোর্ডের সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিনিধিত্ব পাবে। ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস মূলত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বকেন্দ্রিক হওয়ায় স্থানীয় অংশগ্রহণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকনোক্র্যাট কমিটি থাকলেও বাস্তব ক্ষমতা যদি বিদেশি বোর্ডের হাতে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যার জন্ম দিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতিতে ট্রাম্পের কৌশল

ট্রাম্পের রাজনৈতিক জীবনে মধ্যপ্রাচ্য বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। আব্রাহাম চুক্তি থেকে শুরু করে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যু—সবখানেই তিনি প্রচলিত কূটনীতির বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এই ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস অনেকের কাছে আরেকটি উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ। তবে বাস্তবায়ন কতটা সম্ভব, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন।

আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে আলোচনা কী দিকে মোড় নেয়, তার ওপর নির্ভর করবে পুতিন আদৌ ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস-এ যুক্ত হবেন কি না। একই সঙ্গে গাজার বাস্তব পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক চাপ এবং আঞ্চলিক রাজনীতিও বড় ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও সেটি হবে দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া।

গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী বাস্তবতায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সহজ কাজ নয়। ট্রাম্পের গাজা বোর্ড অব পিস সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি প্রস্তাবমাত্র। তবে পুতিনের মতো বিতর্কিত বৈশ্বিক নেতার সম্পৃক্ততা এই উদ্যোগকে আরও আলোচিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত এটি শান্তির পথ খুলবে, নাকি নতুন জটিলতা সৃষ্টি করবে—সেটাই এখন বিশ্ববাসীর নজরে।

সর্বাধিক পঠিত