এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ: নির্বাচনসহ নানা বিষয়ে আলোচনা

তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎয়ে নির্বাচন, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বিস্তারিত পড়ুন Shikor TV Canada-তে।

তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এই বৈঠকগুলো শুধু কূটনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং গণতন্ত্র, নির্বাচন ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে গভীর আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।

সোমবার ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে দিনব্যাপী তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এসব বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতসহ মোট ১১ জন কূটনীতিক অংশ নেন। বৈঠকগুলো সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে বিএনপি।

দিনের শুরুতে কানাডার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

দিনের প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে। বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে বাংলাদেশ-কানাডা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। ফলে তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এই বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

বিকেল পাঁচটার দিকে অনুষ্ঠিত হয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা নিয়ে আলোচনা হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের বিষয়ে আগ্রহী। আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও উঠে আসে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৮ রাষ্ট্রদূতের সম্মিলিত বৈঠক

দিনের শেষ ও সবচেয়ে বড় পরিসরের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে। ঢাকায় নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার-এর নেতৃত্বে জার্মানি, ফ্রান্স, সুইডেন, ডেনমার্ক, স্পেন ও ইতালি—এই ছয় দেশের রাষ্ট্রদূতসহ মোট আটজন কূটনীতিক অংশ নেন।

এই বৈঠকে নির্বাচনকালীন পরিবেশ, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ-এর এই অংশটি আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ ও নির্বাচন ইস্যু

 

বৈঠকগুলো নিয়ে রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, রাষ্ট্রদূতেরা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, আলোচনায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের পরিবেশ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূতেরা। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাচ্ছে।

এছাড়া রাষ্ট্রদূতেরা নির্বাচন বিষয়ে উৎসাহী এবং একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।

বিএনপির ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন

বৈঠকে রাষ্ট্রদূতেরা জানতে চান, আগামী দিনে সরকার গঠন করলে বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা কী হবে। এ সময় তারেক রহমান দলের ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি সম্পর্কে ধারণা দেন।

এই আলোচনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা, সুশাসন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো উঠে আসে। তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং নীতিনির্ধারণী দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা

আলোচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান কার্যক্রম এবং অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূতেরা স্থিতিশীলতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দেন।

এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশা করছে।

আন্তর্জাতিক মহলে তারেক রহমানের অবস্থান

ব্রিফিংয়ে হুমায়ুন কবির বলেন,

“জনাব তারেক রহমান এখন আন্তর্জাতিক মহলের বিবেচনায় বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা।”

একই দিনে ১১ জন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ তারেক রহমানের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়। তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

কূটনৈতিক বার্তা কী ইঙ্গিত দিচ্ছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠকগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে নজর রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের সক্রিয়তা প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক কূটনীতির গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্বাচন

বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলো সাধারণত নির্বাচনকালীন সময় বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা সম্পর্কেও বিস্তারিত জানা যায় ইউরোপীয় কমিশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।

কেন এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ

এই বৈঠকগুলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে—

  • আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আগ্রহী

  • জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু

  • তারেক রহমান আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে বিবেচিত

  • বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের আগ্রহ রয়েছে

সামনের দিনের রাজনৈতিক ইঙ্গিত

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের সঙ্গে ১১ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই বৈঠকগুলো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংলাপ, নির্বাচন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই কূটনৈতিক তৎপরতা আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সর্বাধিক পঠিত