বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয়—শেষ বলে ছক্কা মেরে ইতিহাস গড়লেন ক্রিস ওকস। রংপুরকে হারিয়ে কীভাবে কোয়ালিফায়ারে উঠল সিলেট, জানুন বিস্তারিত।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ মানেই নাটক, উত্তেজনা আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ। তবে এলিমিনেটর ম্যাচে সিলেট টাইটানস যা করে দেখাল, তা বিপিএলের ইতিহাসেই বিরল। বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয় কেবল একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং নতুন এক ইতিহাসের নাম।
মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতালেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই এমন কীর্তি গড়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট
এই ম্যাচে হারলেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা ছিল দুই দলেরই। টসে জিতে সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর ছিল, সেটি প্রথম ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে যায়।
রংপুর রাইডার্সের ব্যাটিং বিপর্যয়
রংপুরের ইনিংস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। সিলেটের পেস আক্রমণ আর নিয়ন্ত্রিত স্পিনের সামনে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা।
-
৩ ওভারের মধ্যেই তাওহিদ হৃদয় ও ডেভিড মালান ফিরে যান
-
অধিনায়ক লিটন দাসও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি
-
মাঝখানে খুশদিল শাহ ও মাহমুদউল্লাহ কিছুটা লড়াই করলেও তা যথেষ্ট ছিল না
২০ ওভারে রংপুরের সংগ্রহ দাঁড়ায় মাত্র ১১১/৯।
সিলেটের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন—
-
খালেদ আহমেদ: ৪ উইকেট, ১৪ রান
-
ক্রিস ওকস: ২ উইকেট
-
নাসুম আহমেদ: ২ উইকেট
এই নিয়ন্ত্রিত বোলিংই গড়ে দেয় বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয়-এর ভিত্তি।
ছোট লক্ষ্য, বড় চাপ
মাত্র ১১২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেও সিলেট খুব স্বস্তিতে ছিল না। শুরুতেই উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়ে।
-
প্রথম ওভারেই তৌফিক খান আউট
-
পারভেজ হোসেন ভালো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি
-
মাঝের ওভারগুলোতে আলিস আল ইসলামের স্পিনে ধাক্কা খায় সিলেট
এক পর্যায়ে স্কোর দাঁড়ায় ৮ ওভারে ৪৪/৪। ম্যাচ তখনো পুরোপুরি খোলা।
শেষ দুই ওভারের নাটকীয়তা
শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। উইকেটে ছিলেন স্যাম বিলিংস ও মিরাজ। কিন্তু বিলিংস আউট হয়ে গেলে চাপ চরমে পৌঁছায়। তখনই ক্রিজে নামেন ক্রিস ওকস।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ৯ রান।
শেষ ওভারের বলভিত্তিক চিত্র:
-
১ম বল: ২ রান
-
২য় বল: ডট
-
৩য় বল: ডট
-
৪র্থ বল: মঈন আলী আউট
-
৫ম বল: ১ রান
-
৬ষ্ঠ বল: ছক্কা!
এই ছক্কাতেই নিশ্চিত হয় বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয়।
ক্রিস ওকস: ম্যাচের নায়ক

এই ম্যাচে ক্রিস ওকস ছিলেন সত্যিকারের অলরাউন্ডার।
বোলিং:
-
৪ ওভার
-
১৫ রান
-
২ উইকেট
ব্যাটিং:
-
৪ বল
-
অপরাজিত ১০ রান
-
শেষ বলে ম্যাচজয়ী ছক্কা
বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ক্রিকেটার নিজের প্রথম ম্যাচেই শেষ বলে ছক্কা মেরে দলকে জেতালেন। এই কীর্তি স্বাভাবিকভাবেই বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয়-কে আরও বিশেষ করে তুলেছে।
কোয়ালিফায়ারে সিলেট টাইটানস
এই জয়ের মাধ্যমে—
-
সিলেট টাইটানস উঠে গেল কোয়ালিফায়ারে
-
রংপুর রাইডার্স বিদায় নিল টুর্নামেন্ট থেকে
সিলেটের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে বিদেশি ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স দলকে দিয়েছে বাড়তি শক্তি।
কেন এই ম্যাচ স্মরণীয়?
-
এলিমিনেটর ম্যাচের চাপ
-
অল্প রানের লক্ষ্যেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
-
শেষ বলে ছক্কা
-
বিপিএল ইতিহাসে নতুন রেকর্ড
সব মিলিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটি ছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করেছে—ক্রিকেট শেষ বল পর্যন্ত অনিশ্চিত। আর সেই অনিশ্চয়তাকেই রোমাঞ্চে রূপ দিলেন ক্রিস ওকস। বিপিএল সিলেটের অবিশ্বাস্য জয় শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়, এটি বিপিএলের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায়।




