কার্নিকে ট্রাম্প: ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা বেঁচে আছে’, ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। ডাভোসে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) মঞ্চ থেকে কানাডাকে ঘিরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু উত্তর আমেরিকাতেই নয়, ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ডাভোসে দেওয়া ওই বক্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে উদ্দেশ করে বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই টিকে আছে।” এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে।
ডাভোসে ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্প মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাণিজ্যনীতি এবং ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি “গোল্ডেন ডোম” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যা স্বাভাবিকভাবেই কানাডাকেও নিরাপত্তা দেবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। এখানেই আসে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য, যা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে ওঠে।
কেন বিতর্ক তৈরি হলো ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য নিয়ে?
ট্রাম্প বলেন, “কানাডা আমাদের কারণে বেঁচে আছে। এটা মনে রাখো, মার্ক।” এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন কানাডার সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দেখানোর একটি কৌশল। বিশেষ করে যখন ন্যাটো এবং আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন এমন মন্তব্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু
ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য সরাসরি যুক্ত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কোনো “ডিল” না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন এবং গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেন। এখান থেকেই ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ পায় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কানাডার প্রতিক্রিয়া: কূটনৈতিক কিন্তু দৃঢ়
ডাভোস থেকেই মার্ক কারনি বলেন,
“কানাডা গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদেরই।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটোর আর্টিকেল ৫–এর প্রতি কানাডার অঙ্গীকার অটুট। কানাডা ইতোমধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে রাডার, সাবমেরিন ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
ন্যাটো ও আর্কটিক নিরাপত্তা
আর্কটিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং নর্ডিক দেশগুলো এখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করে, তাহলে ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল হতে পারে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সমালোচনা শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য “বাস্তবতা বিবর্জিত ও একঘেয়ে।”
অন্যদিকে কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এই বক্তব্যকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, মিত্রদের অপমান করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকেই দুর্বল করে।
ট্রাম্পের সামরিক হুমকি থেকে সরে আসা

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প পরবর্তীতে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি থেকে সরে আসেন। তবে তিনি দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানান এবং গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের প্রশংসা করেন।
এটি দেখায়, কৌশলগত চাপ তৈরি করলেও ট্রাম্প সরাসরি সংঘাতে যেতে চাননি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণ: কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন পথে?
দীর্ঘদিন ধরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তায় দুই দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য এই সম্পর্কের ভেতরে থাকা অস্বস্তিগুলোকে প্রকাশ্যে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—
-
যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব পুনরায় জাহির করতে চাইছে
-
কানাডা আরও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান নিতে আগ্রহী
-
ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে
আরও খবর
কার্নিকে ট্রাম্প: ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা বেঁচে আছে’
কার্নিকে ট্রাম্প: ‘যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই কানাডা বেঁচে আছে’, ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য ঘিরে তৈরি হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। ডাভোসে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন।
বিশ্ব রাজনীতির আলোচনায় আবারও কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) মঞ্চ থেকে কানাডাকে ঘিরে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু উত্তর আমেরিকাতেই নয়, ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ডাভোসে দেওয়া ওই বক্তব্যে ট্রাম্প সরাসরি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনিকে উদ্দেশ করে বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই টিকে আছে।” এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক দেখছেন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সম্পর্কের ওপর একটি বড় চাপ হিসেবে।
ডাভোসে ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্প মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বাণিজ্যনীতি এবং ন্যাটো জোটের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন। বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি “গোল্ডেন ডোম” প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যা স্বাভাবিকভাবেই কানাডাকেও নিরাপত্তা দেবে।
ট্রাম্পের ভাষায়, কানাডা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নানা সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি। এখানেই আসে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য, যা রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে ওঠে।
কেন বিতর্ক তৈরি হলো ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য নিয়ে?
ট্রাম্প বলেন, “কানাডা আমাদের কারণে বেঁচে আছে। এটা মনে রাখো, মার্ক।” এই বক্তব্যকে অনেকেই দেখছেন কানাডার সার্বভৌমত্ব ও কূটনৈতিক মর্যাদার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মন্তব্য কেবল ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব দেখানোর একটি কৌশল। বিশেষ করে যখন ন্যাটো এবং আর্কটিক অঞ্চল নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন এমন মন্তব্য আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু
ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য সরাসরি যুক্ত হয়েছে গ্রিনল্যান্ড প্রসঙ্গের সঙ্গে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে কোনো “ডিল” না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক বহাল থাকবে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন এবং গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নেন। এখান থেকেই ট্রাম্পের ক্ষোভ প্রকাশ পায় বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কানাডার প্রতিক্রিয়া: কূটনৈতিক কিন্তু দৃঢ়
ডাভোস থেকেই মার্ক কারনি বলেন,
“কানাডা গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার তাদেরই।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ন্যাটোর আর্টিকেল ৫–এর প্রতি কানাডার অঙ্গীকার অটুট। কানাডা ইতোমধ্যে আর্কটিক অঞ্চলে রাডার, সাবমেরিন ও সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছে।
ন্যাটো ও আর্কটিক নিরাপত্তা
আর্কটিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক কৌশলগত প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং নর্ডিক দেশগুলো এখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য শুধু দ্বিপাক্ষিক নয়, বহুপাক্ষিক নিরাপত্তা কাঠামোকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মিত্রদের প্রতি এমন ভাষা ব্যবহার করে, তাহলে ন্যাটোর ঐক্য দুর্বল হতে পারে।
ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও সমালোচনা শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম মন্তব্য করেন, ট্রাম্পের বক্তব্য “বাস্তবতা বিবর্জিত ও একঘেয়ে।”
অন্যদিকে কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেসিয়ার এই বক্তব্যকে “বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, মিত্রদের অপমান করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাকেই দুর্বল করে।
ট্রাম্পের সামরিক হুমকি থেকে সরে আসা
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাম্প পরবর্তীতে গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি থেকে সরে আসেন। তবে তিনি দ্রুত আলোচনার আহ্বান জানান এবং গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের প্রশংসা করেন।
এটি দেখায়, কৌশলগত চাপ তৈরি করলেও ট্রাম্প সরাসরি সংঘাতে যেতে চাননি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণ: কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক কোন পথে?
দীর্ঘদিন ধরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ ও সহযোগিতামূলক। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তায় দুই দেশ একে অপরের ওপর নির্ভরশীল।
কিন্তু ট্রাম্পের কানাডা মন্তব্য এই সম্পর্কের ভেতরে থাকা অস্বস্তিগুলোকে প্রকাশ্যে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে—
যুক্তরাষ্ট্র তার প্রভাব পুনরায় জাহির করতে চাইছে
কানাডা আরও স্বাধীন কূটনৈতিক অবস্থান নিতে আগ্রহী
ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে
সর্বাধিক পঠিত