জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হচ্ছে রাজধানীর মিরপুর থেকে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ডা. শফিকুর রহমানের সফর ও কর্মসূচির সর্বশেষ তথ্য জানুন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন গতি। এই প্রেক্ষাপটে জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মিরপুর থেকে। ঢাকা-১৫ আসনে ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নামছেন।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে আদর্শ স্কুল মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি দুপুরে শুরু হবে তার প্রচারণা কার্যক্রম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কর্মসূচি আসন্ন নির্বাচনে জামায়াতের কৌশলগত অবস্থানকে স্পষ্ট করবে।
মিরপুর থেকে কেন শুরু জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা

রাজনৈতিকভাবে মিরপুর ঢাকা মহানগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বসবাস। দলীয় সূত্র জানায়, সাধারণ ভোটারদের সরাসরি বার্তা পৌঁছাতেই জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা মিরপুর থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-১৫ আসনটি রাজনৈতিকভাবে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। তাই এই এলাকা থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে বার্তা দেওয়ার কৌশল নিয়েছে দলটি।
মিরপুর-১০ জনসভা: কী থাকছে কর্মসূচিতে
জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগ জানিয়েছে, আজকের জনসভায়—
-
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে দিকনির্দেশনা
-
দেশ ও জাতির বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি
-
১০ দলীয় জোটের লক্ষ্য ও অঙ্গীকার
-
ভোটারদের উদ্দেশে সরাসরি বক্তব্য
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে নির্বাচনকালীন সংস্কার, সুশাসন এবং জনগণের অধিকার বিষয়ে গুরুত্ব দেবেন বলে জানা গেছে। ফলে এই জনসভা জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশব্যাপী সফরসূচি ঘোষণা
মিরপুরে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে থেমে থাকছে না জামায়াত আমিরের প্রচারণা। বরং এটি একটি দীর্ঘ সফরের শুরু মাত্র।
দলীয় সূত্র অনুযায়ী—
-
২২ জানুয়ারি: ঢাকা মহানগরীতে প্রচারণা
-
২৩ জানুয়ারি: উত্তরবঙ্গ সফর
-
২৪ জানুয়ারি: উত্তরবঙ্গের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকা
এই সফরসূচির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করবেন তিনি। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য এলাকাতেও জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা বিস্তৃত হবে।
১০ দলীয় জোটের কৌশল ও লক্ষ্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০ দলীয় জোট একটি সমন্বিত রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করেছে। জামায়াত আমিরের এই প্রচারণা সেই কৌশলেরই অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, জোটের লক্ষ্য—
-
সংগঠিত প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের আস্থা অর্জন
-
বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে এক প্ল্যাটফর্মে আনা
-
জাতীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক বার্তা দেওয়া
এই কারণে জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা শুধু একটি দলের কর্মসূচি নয়, বরং বৃহত্তর রাজনৈতিক উদ্যোগের অংশ।
ঢাকা-১৫ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ
ঢাকা-১৫ আসন দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। জামায়াত আমিরের সরাসরি মাঠে নামা এই আসনের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রচারণার ফলে—
-
ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বাড়বে
-
নির্বাচনী আলোচনা আরও সক্রিয় হবে
-
মাঠপর্যায়ের রাজনীতি গতিশীল হবে
ফলে জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা ঢাকা-১৫ আসনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।
জাতীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব
এই প্রচারণা জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ, জামায়াতের আমির হিসেবে ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য ও কর্মসূচি গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন কর্মসূচি—
-
রাজনৈতিক মেরুকরণ স্পষ্ট করবে
-
ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে
-
নির্বাচনী পরিবেশকে আরও দৃশ্যমান করবে
এ কারণেই জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও নির্বাচন
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সংস্থা নির্বাচন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখা যেতে পারে
👉 <a href=”https://www.ifes.org” target=”_blank”>International election observation</a>
এই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবেও নজরে আসছে।
ভোটারদের প্রত্যাশা
মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ ভোটাররা চায়—
-
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
-
স্বচ্ছ ভোটপ্রক্রিয়া
-
বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক অঙ্গীকার
এই প্রত্যাশার প্রেক্ষিতে জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা ভোটারদের সামনে নতুন আলোচনার সুযোগ তৈরি করছে।
আগামী দিনগুলোতে জামায়াত আমিরের সফর ও জনসভা আরও বিস্তৃত হবে। এতে রাজনৈতিক মাঠ আরও সক্রিয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন—
-
প্রচারণা যত এগোবে, রাজনৈতিক উত্তাপ তত বাড়বে
-
বিভিন্ন দল পাল্টা কর্মসূচি দিতে পারে
-
নির্বাচনী আলোচনা আরও তীব্র হবে
সব মিলিয়ে, মিরপুর থেকে শুরু হওয়া জামায়াত আমির নির্বাচনী প্রচারণা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠছে।




