গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ট্রাম্প নতুন চুক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ন্যাটো, ডেনমার্ক ও আর্কটিক নিরাপত্তায় ৫ দফা বড় পরিবর্তন।
মার্কিন রাজনীতিতে হঠাৎ মোড় নেওয়া সিদ্ধান্ত নতুন কিছু নয়। তবে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরে আসা বিশ্ব রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা আগ্রাসী বক্তব্য, শুল্ক আরোপের হুমকি এবং শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা—সবকিছুর অবসান টেনে ট্রাম্প এবার চুক্তির পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ন্যাটো জোট, ইউরোপীয় মিত্র এবং আর্কটিক অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
গ্রিনল্যান্ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
গ্রিনল্যান্ড আয়তনে বিশাল হলেও জনসংখ্যা মাত্র ৫৭ হাজারের মতো। তবুও এই দ্বীপটির ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম।
কারণগুলো হলো—
-
আর্কটিক অঞ্চলে কৌশলগত অবস্থান
-
বিরল খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল সম্ভাবনা
-
যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ
-
রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানোর সুযোগ
এই বাস্তবতায় গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল।
গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে কেন সরে এলেন ট্রাম্প?

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি আর শুল্ক কিংবা শক্তি প্রয়োগের পথ অনুসরণ করছেন না।
তার ভাষায়,
“এটা এমন একটি চুক্তি, যেটাতে সবাই খুশি থাকবে। এটি দীর্ঘমেয়াদি এবং নিরাপত্তা ও খনিজ—দুটো ক্ষেত্রেই কার্যকর।”
এই বক্তব্যে পরিষ্কার, আগের অবস্থান থেকে তিনি উল্লেখযোগ্যভাবে সরে এসেছেন।
নতুন চুক্তির কাঠামোতে কী থাকতে পারে?
ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব পাবে—
-
আর্কটিক নিরাপত্তা জোরদার
-
যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ
-
গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদে যৌথ বিনিয়োগ
-
রাশিয়া ও চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রবেশ ঠেকানো
-
ন্যাটো মিত্রদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি
এই দিকগুলো সামনে রেখে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসাকে একটি কৌশলগত সমঝোতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ন্যাটো জোট কেন উদ্বিগ্ন ছিল?
গত কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পের বক্তব্য ন্যাটো জোটকে নাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে—
-
ইউরোপীয় আট দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি
-
মিত্র দেশের ভূখণ্ড নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য
-
সম্ভাব্য বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা
এই অবস্থায় হঠাৎ করে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল করা মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত করেছে।
মার্ক রুটের বক্তব্য কী ইঙ্গিত দেয়?
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আজকের আলোচনায় গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অধীনে থাকবে কি না—এই প্রশ্ন আর ওঠেনি।”
এর মানে দাঁড়ায়, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি মালিকানা দাবির বিষয়টি আপাতত পেছনে রেখেছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান
ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের নেতারা বহুবার স্পষ্ট করেছেন—
গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
এই অবস্থান সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে। ফলে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারকে একটি বাস্তববাদী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কূটনীতিকদের প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বলছেন—
-
এটি পুরো সমস্যার সমাধান নয়
-
তবে প্রকাশ্য সংঘাত কমিয়েছে
-
গোপন আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে
এই দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল একটি “ড্যামেজ কন্ট্রোল” পদক্ষেপ।
আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ভূমিকা
আর্কটিক অঞ্চল এখন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন ক্ষেত্র।
চীন বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, রাশিয়া সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে।
ন্যাটোর এক মুখপাত্র বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য হলো রাশিয়া ও চীন যেন কখনোই গ্রিনল্যান্ডে অর্থনৈতিক বা সামরিকভাবে পা রাখতে না পারে।”
এই লক্ষ্য পূরণে গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে সমন্বিত কৌশল নেওয়া হচ্ছে।
পুতিন কী বললেন?
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন,
“গ্রিনল্যান্ডে কী ঘটে, তা আমাদের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না।”
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, বাস্তবে রাশিয়ার নজর আর্কটিক অঞ্চলের দিকেই রয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
ট্রাম্প জানিয়েছেন—
-
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
-
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
-
বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ
পরবর্তী আলোচনায় অংশ নেবেন।
যদিও আলোচনার তারিখ ও স্থান এখনো চূড়ান্ত নয়, তবুও গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল ভবিষ্যৎ সমঝোতার পথ খুলে দিয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতিতে শক্তি প্রদর্শনের কৌশল সব সময় কার্যকর হয় না। গ্রিনল্যান্ড দখল শুল্ক সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ট্রাম্প সেই বাস্তবতাই আবারও সামনে আনলেন। এখন দেখার বিষয়, প্রস্তাবিত চুক্তি আর্কটিক অঞ্চলে সত্যিই স্থিতিশীলতা আনতে পারে কিনা।




