এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (51)
জামায়াতের আমিরের পোস্ট নিয়ে অভিনেত্রী শাওনের মন্তব্য
Shikor Web Image (48)
রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ: চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মুম্বাইয়ে আতঙ্কে বলিউড
Shikor Web Image (45)
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: সেরা অভিনেতা নিশো অভিনেত্রী পুতুল
Shikor Web Image - 2026-01-28T165410.885
ফেরদৌস ওয়াহিদ নতুন গান ফাঁকি
Shikor Web Image - 2026-01-28T164501.948
জায়েদ খানের সঙ্গে র‍্যাম্পে হাঁটলেন তানিয়া

নতুন মাইলফলকে টেইলর সুইফট

নতুন মাইলফলকে টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেমে জায়গা করে নিয়ে বিশ্ব সংগীত ইতিহাসে শক্তিশালী মাইলফলক ছুঁয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সে এই অর্জনের পূর্ণ খবর পড়ুন।

বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় যুক্ত হলো নতুন মাইলফলকে টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জনের মাধ্যমে। পপ সংগীতের এই সুপারস্টার মাত্র ৩৬ বছর বয়সেই বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ গীতিকার সম্মানে জায়গা করে নিয়েছেন। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন—সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নয়, বরং সময়কে নেতৃত্ব দিয়েই নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

সংগীতপ্রেমীদের কাছে টেইলর সুইফট শুধু একজন গায়িকা নন, তিনি একটি প্রজন্মের অনুভূতির কণ্ঠস্বর। প্রেম, বিচ্ছেদ, আত্মপরিচয় কিংবা সামাজিক বাস্তবতা—সবকিছুর গল্প তিনি তুলে ধরেছেন গানের ভাষায়। টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়া তাই কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আধুনিক সংগীতের জন্যও একটি বড় স্বীকৃতি।

সংরাইটার্স হল অব ফেমে টেইলর সুইফটের ঐতিহাসিক প্রবেশ

‘সংরাইটার্স হল অব ফেম’ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে, টেইলর সুইফট ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠতম গীতিকার হিসেবে এই সম্মান পাচ্ছেন। এর আগে মাত্র ৩৩ বছর বয়সে এই রেকর্ড গড়েছিলেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী স্টিভ ওয়ান্ডার। সেই তালিকায় নিজের নাম লেখানো নিঃসন্দেহে টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

আগামী ১১ জুন নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যারিয়ট মারকুইস হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। বিশ্ব সংগীতের বড় বড় তারকারা সেখানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে। এই আয়োজন শুধু একটি পুরস্কার অনুষ্ঠান নয়, বরং গীতিকারদের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি আন্তর্জাতিক মঞ্চ।

কেন এই সম্মান এত গুরুত্বপূর্ণ

১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সংরাইটার্স হল অব ফেমে স্থান পেতে হলে কয়েকটি কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। গীতিকারের প্রথম গান প্রকাশের অন্তত ২০ বছর পার হতে হবে এবং সেই গানের তালিকায় থাকতে হবে একাধিক “কালজয়ী” সৃষ্টি। টেইলর সুইফটের ক্ষেত্রে এই শর্ত শুধু পূরণই হয়নি, বরং তিনি তা বহু গুণে ছাড়িয়ে গেছেন।

তার গানগুলো শুধু চার্ট দখল করেনি, বরং কোটি মানুষের জীবনের গল্প হয়ে উঠেছে। তাই টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জন সংগীত ইতিহাসের স্বাভাবিক একটি অধ্যায় বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

একই বছরে যাঁরা সম্মান পাচ্ছেন

এবারের তালিকায় টেইলর সুইফটের পাশাপাশি আরও কয়েকজন প্রভাবশালী শিল্পী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন অ্যালানিস মরিসেট, কেনি লগিনস এবং কিস ব্যান্ডের পল স্ট্যানলি ও জিন সিমন্স। এই তালিকা থেকেই বোঝা যায়, সংগঠনটি কেবল জনপ্রিয়তা নয়, বরং সংগীতে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকেই বেশি গুরুত্ব দেয়।

সিবিএস মর্নিংস অনুষ্ঠানে ঘোষণার সময় সংস্কৃতি বিশ্লেষক অ্যান্থনি ম্যাসন বলেন,
“এই শিল্পীরা আমাদের জীবনের সাউন্ডট্র্যাক লিখেছেন। আমরা যেসব গানে হাসি, কাঁদি কিংবা স্বপ্ন দেখি—সেগুলোর পেছনে তাদের অবদান অপরিসীম।”

গ্র্যামি থেকে বিলবোর্ড—সাফল্যের ধারাবাহিকতা

টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জনের পেছনে তার দীর্ঘ সাফল্যের তালিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি ইতোমধ্যেই ১৪টি গ্র্যামি পুরস্কার জিতেছেন। এর মধ্যে চারবার পেয়েছেন সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ‘অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার’ খেতাব, যা তাকে গ্র্যামির ইতিহাসে অনন্য করে তুলেছে।

বিলবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম The Life of a Showgirl আধুনিক যুগের যেকোনো অ্যালবামের চেয়ে প্রথম সপ্তাহে সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড গড়েছে। এই সাফল্য প্রমাণ করে, তিনি শুধু সমালোচকদের প্রিয় নন, বরং শ্রোতাদের কাছেও সমান জনপ্রিয়।

‘দ্য টর্চারড পোয়েটস ডিপার্টমেন্ট’-এর রেকর্ড

২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যালবাম The Tortured Poets Department যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮০ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। এটি দীর্ঘ সময় ধরে বিলবোর্ড চার্টের শীর্ষে অবস্থান করছে। এই অ্যালবামে তার গীতিকার সত্তা আরও পরিণত রূপে প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন সংগীত বিশেষজ্ঞরা।

এই সাফল্যগুলো একত্রে বিচার করলে টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম সম্মান পাওয়াটা যেন সময়ের দাবি ছিল।

মাস্টার রেকর্ডিং ফিরে পাওয়ার লড়াই

২০২৫ সালের মে মাসে টেইলর সুইফট ঘোষণা দেন, দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি তার প্রথম ছয়টি অ্যালবামসহ সব মাস্টার রেকর্ডিংয়ের পূর্ণ মালিকানা ফিরে পেয়েছেন। সংগীত শিল্পে শিল্পীদের অধিকার নিয়ে এই লড়াই বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।

এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত জয় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত। এই প্রেক্ষাপটে টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জন তার শিল্পীসত্তার স্বাধীনতাকেও নতুন মাত্রা দিয়েছে।

বিশ্ব সংগীতে টেইলর সুইফটের প্রভাব

আজকের দিনে টেইলর সুইফট মানেই শুধু একটি নাম নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক প্রভাব। তার গান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ড তৈরি করে, তার অ্যালবাম প্রকাশ মানেই বিশ্বব্যাপী আলোড়ন। সংগীতের ভাষা বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম পথপ্রদর্শক।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

সংরাইটার্স হল অব ফেমের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সাধারণত ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে শিল্পীরা পান। কিন্তু টেইলর সুইফট সেই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন। ৩৬ বছর বয়সেই এই সম্মান পাওয়া প্রমাণ করে, তার সামনে এখনও অনেক পথ বাকি।

সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, টেইলর সুইফট সংরাইটার্স হল অব ফেম অর্জন বিশ্ব সংগীতের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এটি কেবল একটি পুরস্কার নয়, বরং একজন শিল্পীর দীর্ঘ পরিশ্রম, সৃজনশীলতা এবং আত্মবিশ্বাসের স্বীকৃতি।

ভবিষ্যতে তার কাছ থেকে আরও নতুন সংগীত, নতুন গল্প এবং নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় বিশ্ব। টেইলর সুইফট আবারও প্রমাণ করলেন—তিনি শুধু সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী নন, বরং সময়কে সংজ্ঞায়িত করা এক শক্তিশালী নাম।

সর্বাধিক পঠিত