আরও খবর

News Photocard (27)
বিদেশ সফরে জামায়াতের ৩৪ এমপি, নানা সমালোচনা
News Photocard (15)
অপ্রতিম হত্যায় ৪ আসামির ২ কিশোরকে পাঠানো হচ্ছে সংশোধনাগারে
News Photocard (12)
নতুন পে স্কেলে গ্রেড বদলালেই কমে বাড়িভাড়া
News Photocard (3)
গাজী নজরুলের বাসায় পাওয়া ‘মরিয়মের চিঠি’তে যা লেখা
News Photocard
বাংলাদেশিদের জন্য শিক্ষার্থী ভিসায় বাড়ছে কড়াকড়ি

দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত: তারেক রহমান

দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন তারেক রহমান। তরুণদের ভাবনা, নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত জানুন।

দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক মন্তব্য নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মনে করেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতেই হবে।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট করেন। সেখানে তিনি তরুণ কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও চিন্তাশীল যুবকদের সঙ্গে একটি ব্যতিক্রমধর্মী আড্ডার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

খোলা আকাশের নিচে তরুণদের সঙ্গে রাজনৈতিক সংলাপ

ঢাকার জাস্টিস শাহাবুদ্দিন পার্কে আয়োজিত এই আড্ডা ছিল প্রচলিত রাজনৈতিক সভার বাইরে। কোনো মঞ্চ, ব্যারিকেড বা আনুষ্ঠানিক ভাষণ ছিল না। ছিল খোলা পরিবেশে সরাসরি মতবিনিময়।

তারেক রহমান জানান, এই আলোচনায় তিনি বুঝতে পেরেছেন তরুণরা কেমন ধরনের নতুন রাজনীতি চায়। তাদের প্রত্যাশা শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং কার্যকর নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ।

এই প্রেক্ষাপটেই দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এই মন্তব্য নতুন মাত্রা পায়।

“আমার ভাবনায় বাংলাদেশ” রিল প্রতিযোগিতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ

এই আড্ডার অন্যতম ভিত্তি ছিল “আমার ভাবনায় বাংলাদেশ” শীর্ষক রিল প্রতিযোগিতা। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২২০০-এর বেশি রিল ভিডিও জমা পড়ে।

এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তরুণরা যেসব বিষয় তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন

  • কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

  • পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষা

  • নারীদের ক্ষমতায়ন

  • দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা

তারেক রহমান বলেন, আলোচনাগুলো ছিল বাস্তবভিত্তিক ও গভীর চিন্তাপ্রসূত। এখানেই স্পষ্ট হয় যে দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এটি কেবল আবেগ নয়, বাস্তবতার প্রতিফলন।

তরুণদের ভাবনায় নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তরুণদের ভূমিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম—সব ক্ষেত্রেই যুবসমাজ ছিল অগ্রভাগে।

তবে বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা আরও সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বৈশ্বিক চিন্তায় অভ্যস্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং নাগরিক সচেতনতা তাদের ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করেছে।

এই বাস্তবতায় দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এই বক্তব্য সময়োপযোগী বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নেতৃত্বের সুযোগ না দিলে সম্ভাবনা নষ্ট হবে

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে তরুণদের সামনে আরও বেশি সুযোগ ও জায়গা তৈরি করতে হবে। শুধু কথা নয়, নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে তাদের যুক্ত করা জরুরি।

তিনি মনে করেন—

  • তরুণরা নেতৃত্ব দিতে চায়

  • তারা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত

  • প্রয়োজন শুধু সঠিক প্ল্যাটফর্ম

এই বক্তব্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তাও রয়েছে। কারণ, দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত হলেও সুযোগ না পেলে সেই শক্তি কাজে লাগবে না।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণ কেন জরুরি

বিশ্বব্যাপী গবেষণায় দেখা গেছে, তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের নীতিকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যুব প্রতিনিধিত্ব এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

বাংলাদেশের মতো জনসংখ্যায় তরুণ-প্রধান দেশে এই বিষয়টি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে তারেক রহমানের মন্তব্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য বিএনপির ভবিষ্যৎ কৌশলেরও ইঙ্গিত দেয়। তরুণ ভোটার ও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এখন যে কোনো রাজনৈতিক দলের জন্য জরুরি।

বিশ্লেষকরা বলছেন—

  • এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক বিনিয়োগ

  • তরুণদের আস্থা অর্জনের প্রচেষ্টা

  • ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির প্রস্তুতি

এই দৃষ্টিকোণ থেকেও দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এই বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ।

তরুণদের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সংযোগ

তরুণরা শুধু সমালোচনা নয়, সমাধানও দিতে চায়। তারা চায়—

  • স্বচ্ছ প্রশাসন

  • জবাবদিহিমূলক রাজনীতি

  • টেকসই উন্নয়ন

এই চাহিদাগুলো নীতিনির্ধারণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই তরুণদের বাইরে রেখে উন্নয়নের কথা ভাবা বাস্তবসম্মত নয়।

আগামী দিনে রাজনৈতিক দলগুলো যদি সত্যিই তরুণদের সম্পৃক্ত করে, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধারার সূচনা হতে পারে। এতে নীতিনির্ধারণ হবে আরও বাস্তবভিত্তিক এবং জনগণের কাছাকাছি।

তারেক রহমানের বক্তব্য সেই সম্ভাবনারই ইঙ্গিত দেয়।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে আজকের তরুণদের ওপর। আর সেই তরুণরাই যখন বলছে, তারা প্রস্তুত—তখন দেশের নীতিনির্ধারণে যুবসমাজ প্রস্তুত—এই কথাটি আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সর্বাধিক পঠিত