এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (75)
পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জন: জানে তারা হারবে—কীর্তি আজাদ ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের নাটকীয় মন্তব্য
Shikor Web Image (54)
বিশ্বকাপের সময় বিসিবির আয়োজনে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’
Shikor Web Image (24)
বিশ্বকাপ ছিটকে গেলেন প্যাট কামিন্স
Shikor Web Image (21)
পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ফাইনালের প্রতিশোধ নিতে চায় ভারত
Shikor Web Image (18)
বাংলাদেশ ইস্যুর মাঝেই নতুন করে বিপাকে আইসিসি

বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা: আইসিসির

বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কঠোর হুমকি দিয়েছে আইসিসি। এশিয়া কাপ, পিএসএল ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা—এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আসন্ন পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বয়কটের হুমকির পর এবার সরাসরি কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও বহুমাত্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। বিষয়টি এখন শুধু একটি টুর্নামেন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং পুরো বৈশ্বিক ক্রিকেট ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কতটা ভয়াবহ হতে পারে এবং এর পরিণতি কী?

আইসিসির হুঁশিয়ারি: বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কেন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি এই ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয়। সংস্থাটি মনে করছে, একটি পূর্ণ সদস্য দেশ টুর্নামেন্ট বয়কট করলে বিশ্বকাপের সূচি, সম্প্রচার চুক্তি এবং বাণিজ্যিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এই কারণেই বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে আইসিসি। সংস্থাটির মতে, এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ইস্যু নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের শৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন।

কোন কোন নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে আইসিসি

আইসিসির অভ্যন্তরীণ আলোচনায় যেসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা উঠে এসেছে, সেগুলো পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

 এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা

বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রথম ধাক্কা আসতে পারে এশিয়া কাপে। আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল যৌথভাবে পাকিস্তানকে এই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে।

দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল

পাকিস্তানের সঙ্গে অন্যান্য দেশের নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বাতিল করা হতে পারে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগও কমে যাবে।

 পিএসএলে বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি বন্ধ

সবচেয়ে বড় আঘাত আসতে পারে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে বিদেশি ক্রিকেটারদের এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে আইসিসি।

 আইসিসি ইভেন্টে দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞা

ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্টগুলো থেকেও পাকিস্তানকে বাদ দেওয়ার মতো চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এই বিষয়গুলো একসঙ্গে কার্যকর হলে পাকিস্তান ক্রিকেট কাঠামো বড় ধরনের সংকটে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংকটের শুরু যেভাবে

এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় গত শনিবার। সেদিন আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয় যে, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ড অংশ নেবে।

আইসিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভারতের মাটিতে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। ফলে বিসিবির ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলেই সংস্থাটি সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘোষণার পরপরই পিসিবি তীব্র আপত্তি তোলে এবং বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেয়। এখান থেকেই বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা—এই আলোচনার সূচনা।

পিসিবির প্রতিক্রিয়া: ‘দ্বিমুখী নীতি’

পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি আইসিসির সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ এবং ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মতো একটি পূর্ণ সদস্য দেশকে বাদ দেওয়া বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য বিপজ্জনক নজির সৃষ্টি করবে।

নাকভি স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ বা বয়কটের সিদ্ধান্ত পুরোপুরি পাকিস্তান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় তাঁর ফিরে আসার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, পিসিবির কাছে ‘প্ল্যান এ, বি, সি ও ডি’ প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি যেদিকে যাবে, সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে তারা প্রস্তুত।

আইসিসির অবস্থান: সূচি ও নিরপেক্ষতা রক্ষা

আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা কোনো দেশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে না। সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো টুর্নামেন্টের সূচির অখণ্ডতা এবং প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা বজায় রাখা।

আইসিসির মতে, যদি একটি দেশ রাজনৈতিক বা কৌশলগত কারণে বিশ্বকাপ বয়কট করে, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এটি ভুল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়াবে। সে কারণেই বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আইসিসির অফিসিয়াল অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নীতিমালা দেখা যেতে পারে

ভারত–আইসিসি–পাকিস্তান: নতুন স্নায়ুযুদ্ধ?

ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থানের কারণে আয়োজক দেশ ভারত এবং আইসিসির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।

যদিও আইসিসি সরাসরি ভারতকে দায়ী করছে না, তবুও টুর্নামেন্ট ভারতের মাটিতে হওয়ায় বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলবে।

বিশ্ব ক্রিকেটে সম্ভাব্য প্রভাব

যদি পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় এবং আইসিসি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তাহলে এর প্রভাব শুধু একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

  • বিশ্বকাপের সম্প্রচার ও স্পন্সরশিপ আয় কমতে পারে

  • বৈশ্বিক ক্রিকেট রাজস্বে বড় ধাক্কা আসতে পারে

  • দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে

  • ক্রিকেট বোর্ডগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে

এই কারণেই অনেকেই মনে করছেন, শেষ মুহূর্তে হলেও সমঝোতার পথ খুঁজে বের করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠেয় ২০ দলের এই বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই পাকিস্তান সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

বিশ্বকাপ বয়কট করলে পাকিস্তানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে কি না, তা জানতে আগামী কয়েক দিনের দিকেই তাকিয়ে আছে ক্রিকেট বিশ্ব।

সর্বাধিক পঠিত