ব্যাংক হিসাবে পিছিয়ে থাকা শীর্ষ আট দেশের মধ্যে বাংলাদেশ, বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। জানুন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির চিত্র পরিবর্তন করছে।
বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ ‘গ্লোবাল ফিনডেক্স ডেটাবেজ ২০২৫’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনও ব্যাংক হিসাবহীন। সারা বিশ্বে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে রয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ কোটি মানুষ বাস করেন মাত্র আটটি দেশের মধ্যে, যেখানে বাংলাদেশও অন্তর্ভুক্ত।
এই তালিকায় অন্যান্য দেশগুলো হলো: চীন, ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া ও মেক্সিকো। উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রায় সব প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। বিপরীতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ব্যাংক হিসাবহীন মানুষের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি।
বিশ্বব্যাংকের ডেটা: অগ্রগতি কিন্তু চ্যালেঞ্জ অব্যাহত

২০১১ সালে বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ব্যাংক হিসাবহীন ছিলেন। ২০২১ সালে এই হার কমে আসে ২৬ শতাংশে। ২০২৪ সালে তা further কমে ২১ শতাংশে নেমেছে। এর অর্থ হলো কিছু অগ্রগতি হলেও এখনও প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে রয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জনগোষ্ঠী তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এতে নারী, দরিদ্র এবং প্রাথমিক শিক্ষিত মানুষ বেশি সংখ্যায় রয়েছে।
বাংলাদেশের ব্যাংক হিসাবহীন মানুষের বৈশিষ্ট্য
-
১৩০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৭০ কোটি বা ৫৫% নারী
-
৬৭ কোটি মানুষ আয়ের দিক থেকে দরিদ্র ৪০% অন্তর্ভুক্ত
-
৭৯ কোটি মানুষ প্রাথমিক শিক্ষা বা তার কম শিক্ষিত
-
৬৯ কোটি মানুষ কর্মসংস্থানের বাইরে বা বেকার
বয়সভিত্তিক হিসেবে, হিসাবহীন মানুষের মধ্যে:
-
১৫–২৪ বছর বয়সী: ৩৮ কোটি (২৯%)
-
২৫–৫৪ বছর বয়সী: ৫৯ কোটি (৪৬%)
-
৫৫+ বছর বয়সী: ৩২ কোটি (২৫%)
ব্যাংক হিসাব না থাকার প্রধান কারণ
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে চিহ্নিত প্রধান বাধাগুলো হলো:
-
পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা
-
ব্যাংক বা আর্থিক সেবার ফি বেশি হওয়া
-
পরিবারের অন্য কারও কাছে হিসাব থাকা
-
ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দূরত্ব
-
আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা না থাকা
-
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতি
উল্লেখযোগ্য হলো, পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সবচেয়ে বড় বাধা। উদাহরণস্বরূপ, মিসরে ৯০% মানুষ ব্যাংক হিসাব না থাকার কারণ হিসেবে পর্যাপ্ত অর্থের অভাব দেখিয়েছে।
মোবাইল ও ডিজিটাল প্রযুক্তি: সম্ভাবনার দরজা
বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের বিস্তার আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য অনেকের জন্য বড় প্রতিবন্ধক।
এছাড়া, অনেক সময় হিসাব থাকলেও মানুষ তা পরিচালনার জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকে। তাই মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (MFS)-এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় তুলনা
বাংলাদেশের এই অবস্থার তুলনা করলে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ব্যাংক হিসাবহীন মানুষ উদ্বেগজনকভাবে বেশি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে সরকার ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানকে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশে ব্যাংক হিসাবহীন মানুষের সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনকভাবে বেশি। আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে প্রয়োজন:
-
সাশ্রয়ী মূল্যের ব্যাংক হিসাব ও MFS পরিষেবা
-
ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার
-
আঞ্চলিক ও নারী ভিত্তিক প্রোগ্রাম
সঠিক উদ্যোগ ও নীতিমালা গ্রহণ করলে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীও আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।




