নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা জানুন বিস্তারিতভাবে।
বাংলাদেশের আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক, যা দেশের নির্বাচন ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশে অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। অনুষ্ঠানে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, নির্বাচন কমিশন এবার নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গ্রহণযোগ্য করতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক: কী জানালো নির্বাচন কমিশন

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, এবারের নির্বাচনে ৮১টি নিবন্ধিত দেশি সংস্থার অধীনে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক দায়িত্ব পালন করবেন। এর পাশাপাশি প্রায় ৫০০ জন বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন।
এই বিশাল সংখ্যক পর্যবেক্ষক মাঠপর্যায়ে কাজ করে ভোটগ্রহণ, গণনা এবং ফল ঘোষণার প্রতিটি ধাপ পর্যবেক্ষণ করবেন। ফলে নির্বাচন নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন বা সন্দেহ কমবে বলে আশা করছে কমিশন।
কেন এত বেশি পর্যবেক্ষক গুরুত্বপূর্ণ
গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়, এটি জনগণের আস্থার প্রতিফলন। সে কারণেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক—এই সিদ্ধান্তকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বেশি পর্যবেক্ষক থাকার ফলে—
-
ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বচ্ছতা বাড়ে
-
অনিয়মের অভিযোগ দ্রুত চিহ্নিত করা যায়
-
নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়
-
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়
এই বাস্তবতায় পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি নির্বাচনের পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করে।
বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ভূমিকা
নির্বাচনে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকের উপস্থিতি বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরবে। তারা বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করবেন।
বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সাধারণত—
-
ভোটগ্রহণের সার্বিক পরিবেশ মূল্যায়ন করেন
-
আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন
-
নির্বাচন-পরবর্তী রিপোর্ট প্রকাশ করেন
এই কারণেই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক—এর মধ্যে বিদেশিদের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানানো হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনের মাধ্যমে—
-
নতুন সংসদ গঠিত হবে
-
জনগণের মতামত প্রতিফলিত হবে
-
গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে
এজন্য নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতির বার্তা
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী—
-
পর্যবেক্ষকদের কাজের ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা থাকবে
-
গণমাধ্যম অবাধভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে
-
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে
এই প্রস্তুতির ফলে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক—এই উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক থাকার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
কিছু দল এটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এতে ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে।
অন্যদিকে, কয়েকটি দল আরও বেশি স্বচ্ছতার দাবি তুলেছে। তারা পর্যবেক্ষকদের রিপোর্ট প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বাংলাদেশ
জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্বাচনী গাইডলাইনে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন ৫৬ হাজার পর্যবেক্ষক—এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাবে।




