এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে: প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় কাস্টমস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাস্টমসের শক্তিশালী ভূমিকা ও আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সামাজিক সুরক্ষার গুরুত্ব নতুন করে আলোচনায় এসেছে। দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন, আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুধু রাজস্ব আহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জাতীয় নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ।

প্রতি বছরের মতো এবারও ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন (ডব্লিউসিও) ঘোষিত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিপাদ্য— “অতন্দ্র প্রহরা আর দৃঢ় অঙ্গীকারে দেশের সুরক্ষায় কাস্টমস”— বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ ও এর প্রেক্ষাপট

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে এমন এক সময়ে পালিত হচ্ছে, যখন বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় জালিয়াতি, অবৈধ পণ্য প্রবাহ ও সীমান্ত নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে কাস্টমস প্রশাসনের দায়িত্ব ও সক্ষমতা আরও বেড়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা তার বাণীতে বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহায়তা ও সহজীকরণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে নাগরিক স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে কাস্টমসের কার্যক্রম এখন আরও বিস্তৃত ও কার্যকর।

কাস্টমসের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সুরক্ষায় ভূমিকা

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ উপলক্ষে আলোচনায় এসেছে কাস্টমসের বহুমাত্রিক দায়িত্ব। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অবৈধ বাণিজ্য, চোরাচালান, মাদক ও অর্থ পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এসব কার্যক্রম সরাসরি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে যুক্ত।

একই সঙ্গে কাস্টমস প্রশাসন সীমান্তে ক্ষতিকর ও নিম্নমানের পণ্য প্রবেশ রোধ করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে। পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ন্ত্রণেও কাস্টমসের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো ও বাণিজ্য সহজীকরণ

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (BSW) প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এই উদ্যোগ আমদানি ও রপ্তানি প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করবে।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে এই প্রকল্পের গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ, ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সময় ও ব্যয় কমবে, পাশাপাশি দুর্নীতির ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।

কাস্টমস আধুনিকায়নে সরকারের উদ্যোগ

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি স্বচ্ছ, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই লক্ষ্য অর্জনে কাস্টমস প্রশাসনের আধুনিকায়নে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বন্ড অটোমেশন সিস্টেম চালু, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে কাস্টমস কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশে এসব উদ্যোগের অগ্রগতি নতুন করে মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি করেছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসন

কাস্টমস প্রশাসনের দক্ষতা বাড়াতে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ ছাড়া আধুনিক ও বিশ্বাসযোগ্য প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ উপলক্ষে তিনি কাস্টমস কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কাস্টমস ও সীমান্ত অংশীদারিত্ব

বিশ্বব্যাপী কাস্টমস কর্তৃপক্ষগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও তথ্য বিনিময় এখন সময়ের দাবি। ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ওয়ার্ল্ড কাস্টমস অর্গানাইজেশন-এর নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে বাংলাদেশ কাস্টমস সীমান্ত অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে।

ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ শুধু উদযাপনের বিষয় নয়; এটি ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, সাইবার জালিয়াতি ও অবৈধ অর্থ প্রবাহ রোধে কাস্টমস প্রশাসনকে আরও দক্ষ হতে হবে।

একই সঙ্গে বাণিজ্য সহজীকরণ ও নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ। এই ভারসাম্য রক্ষায় সরকার ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।

জাতীয় অর্থনীতি ও কাস্টমসের অবদান

কাস্টমস প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে। রাজস্ব আহরণ, বৈদেশিক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাস্টমসের অবদান অনস্বীকার্য।

আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য এই বাস্তবতাকেই পুনরায় তুলে ধরেছে। একটি স্বচ্ছ ও আধুনিক কাস্টমস ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে সহায়তা করবে।

সবশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস ২০২৬ বাংলাদেশ কেবল একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি কাস্টমস প্রশাসনের দায়িত্ব, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে গভীরভাবে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ

সর্বাধিক পঠিত