এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (72)
এপস্টেইন ফাইলস: যে কারণে এটি বিশ্বব্যাপী এত আলোচিত
Shikor Web Image (21)
ফিলিপিন্সে মেয়রের গাড়িতে রকেট হামলা: চতুর্থবার প্রাণে বাঁচলেন শরিফ আগুয়াকের মেয়র
Shikor Web Image (18)
মায়ানমারের স্ক্যাম মাফিয়ার মৃত্যুদণ্ড: ১১ সদস্যকে শাস্তি দিল চীন
Shikor Web Image (15)
থাইল্যান্ডে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত: ২ পাইলট নিহত
Shikor Web Image - 2026-01-28T140227.923
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত

মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক: ৩ হাজার ‘অপ্রশিক্ষিত’ এজেন্ট সরাতে ট্রাম্পের কাছে তীব্র দাবি

মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক ঘিরে উত্তেজনা। মিনিয়াপোলিসে গুলিতে মার্কিন নাগরিক নিহতের পর অপ্রশিক্ষিত এজেন্ট সরাতে ট্রাম্পের কাছে দাবি গভর্নরের।

মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও অভিবাসন নীতির আলোচনার কেন্দ্রে। মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর গুলিতে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ‘অপ্রশিক্ষিত’ আইসিই এজেন্টদের রাজ্য থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এই দাবি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, ফেডারেল বাহিনীর ভূমিকা এবং নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে, মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক স্থানীয় প্রশাসন ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে স্পষ্ট মতবিরোধ তৈরি করেছে।

মিনিয়াপোলিসে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা কীভাবে ঘটল

গত শনিবার মিনিয়াপোলিসে আইসিইর একটি অভিযানের সময় ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেটি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তিনি পেশায় একজন নার্স ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত মুখ। প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটি কোনো অস্ত্র বের করেননি। বরং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁর ওপর একাধিকবার গুলি চালানো হয়।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক আরও তীব্র হয়। কারণ এটি ছিল শহরটিতে আইসিই অভিযানের সময় দ্বিতীয় প্রাণঘাতী গুলির ঘটনা। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

🎯 মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক নিয়ে গভর্নর ওয়ালজের অবস্থান

এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর টিম ওয়ালজ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন, “ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনাটা কী?” তিনি বলেন, মিনেসোটার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় রাজ্য প্রশাসন সক্ষম। সেখানে হাজার হাজার ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

ওয়ালজের দাবি অনুযায়ী, মিনেসোটায় প্রায় তিন হাজার আইসিই এজেন্ট কাজ করছেন, যাদের অনেকেই পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নন। তাঁর ভাষায়, এই অপ্রশিক্ষিত এজেন্টদের উপস্থিতিই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এ কারণেই মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে।

ভিডিও প্রমাণ বনাম ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি

ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, প্রেটি আইসিই এজেন্টদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছিলেন এবং তাঁর কাছে একটি হ্যান্ডগান ছিল। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিও এই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেটির হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাঁকে প্রথমে রাসায়নিক স্প্রে করা হয়, এরপর মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১০ বার গুলি করা হয়। মার্কিন গণমাধ্যমগুলো ভিডিওগুলোর সত্যতা যাচাই করেছে, যা মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

মিনিয়াপোলিসে বিক্ষোভ ও জনমত

এই ঘটনার পর মিনিয়াপোলিসে আগে থেকেই চলমান আইসিইবিরোধী বিক্ষোভ আরও বড় আকার ধারণ করেছে। রোববার প্রায় এক হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। তারা স্বাধীন তদন্তের দাবি জানায় এবং ফেডারেল বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়।

বিক্ষোভকারীদের মতে, মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক শুধু একটি গুলির ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত অভিবাসন নীতির নামে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার প্রতিফলন।

ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

মিনিয়াপোলিস শহরটি মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির নিয়ন্ত্রণে। সেখানে কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিইর ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলোতে সোমালীয় অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশের পর এই অভিযান জোরদার হয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেন, “মিনেসোটা বিশাল আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছে।” তাঁর এই বক্তব্যকে অনেকেই জাতিগত বিদ্বেষমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। কারণ মিনিয়াপোলিসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সোমালীয় কমিউনিটির বসবাস।

এই প্রেক্ষাপটে মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক কেবল আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়, বরং জাতিগত রাজনীতি ও মানবাধিকারের সঙ্গেও জড়িত।

অভিবাসন নীতি ও ফেডারেল–রাজ্য দ্বন্দ্ব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি স্পর্শকাতর বিষয়। ফেডারেল সরকার ও রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রায়ই দ্বন্দ্ব দেখা যায়। মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক সেই পুরোনো দ্বন্দ্বকেই নতুন করে সামনে এনেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের সম্মতি ছাড়াই ব্যাপকভাবে ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করা হলে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। এর ফলেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে বিষয়টি

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও মিনিয়াপোলিসের এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ পাওয়া যায় আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে, যেমন মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্বাধীন তদন্তের ফলাফল কী আসে, ট্রাম্প প্রশাসন গভর্নরের দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়—সবকিছুই এখন নজরে রাখছে দেশবাসী।

একদিকে রাজ্য সরকার নাগরিক নিরাপত্তা ও শান্তির কথা বলছে। অন্যদিকে ফেডারেল প্রশাসন কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে। এই টানাপোড়েনের মাঝেই মিনিয়াপোলিসের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

সব মিলিয়ে, মিনেসোটায় আইসিই এজেন্ট বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠছে—যার প্রভাব শুধু মিনেসোটা নয়, গোটা দেশেই পড়তে পারে।

সর্বাধিক পঠিত