প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থায় বড় অগ্রগতি। ৭ লাখ ৬৬ হাজার প্রবাসীর ঠিকানায় ব্যালট পৌঁছেছে, ভোট দিয়েছেন লাখো প্রবাসী ভোটার।
প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অংশ নিতে নিবন্ধন করা ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২ জন প্রবাসী ভোটারের ঠিকানায় ইতোমধ্যে পোস্টাল ব্যালট পৌঁছে গেছে। বিষয়টি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রবাসী অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রকল্প ‘ওসিভি-এসডিআই’-এর টিম লিডার সালীম আহমাদ খান।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপে নিবন্ধনকারীদের সর্বশেষ অবস্থা

সালীম আহমাদ খান জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করা সব ভোটারের গন্তব্যের দেশে ব্যালট পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে।
এই প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থায়—
-
৭,৬৬,৮৬২ জন প্রবাসীর ঠিকানায় ব্যালট পৌঁছেছে
-
৪,৯৩,৯২০ জন প্রবাসী ব্যালট গ্রহণ করেছেন
-
৪,২৫,৭৮৮ জন ভোট প্রদান সম্পন্ন করেছেন
এগুলো দেখাচ্ছে যে প্রবাসী ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক।
প্রবাসীদের ভোট প্রদান ও ব্যালট জমার চিত্র
ভোট প্রদানের পর ব্যালট জমার ক্ষেত্রেও অগ্রগতি স্পষ্ট।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী—
-
৩,৭০,৩২২ জন প্রবাসী ভোটার সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে ব্যালট জমা দিয়েছেন
-
২১,৫০৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে পৌঁছেছে
এতে করে প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগ এবং কার্যকারিতা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসীদের ভূমিকা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসীদের অংশগ্রহণ এবার আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট—
১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার
‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন।
এই সংখ্যা বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে প্রবাসী ভোটের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থার মাধ্যমে—
-
প্রবাসীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে
-
জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রবাসীদের সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়ছে
-
নির্বাচন প্রক্রিয়া আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য এই ব্যবস্থা সময় ও খরচ—দুই দিক থেকেই কার্যকর সমাধান।
নির্বাচন কমিশনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ
নির্বাচন কমিশন ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে—
-
মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন
-
পোস্টাল ব্যালট ট্র্যাকিং
-
আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার সমন্বয়
এসব পদক্ষেপ প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট ব্যবস্থাকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করেছে।
যদিও অগ্রগতি সন্তোষজনক, তবুও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে—
-
আন্তর্জাতিক ডাক ব্যবস্থার সময়সূচি
-
ব্যালট সময়মতো দেশে ফেরত আনা
-
ভোটারদের সচেতনতা আরও বাড়ানো
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, সময়মতো সব ব্যালট গণনার আওতায় আনা সম্ভব হবে।
প্রবাসীদের অংশগ্রহণে নির্বাচন আরও শক্তিশালী
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী পোস্টাল ব্যালট ভোট শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্যোগ নয়; এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি শক্ত ভিত্তি।
এই অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করার পথ খুলে দেবে।




