অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা: সীমান্তরক্ষীর গুলিতে সন্দেহভাজন আহত, তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন Shikor TV Canada-তে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বর্ডার প্যাট্রোল) গুলিতে সন্দেহভাজন মানবপাচারকারী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মেক্সিকো সীমান্তের কাছে সংঘটিত এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি প্রথমে সরকারি একটি হেলিকপ্টারের দিকে গুলি ছুড়লে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।
এটি অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে সাড়া ফেলেছে, যেখানে সীমান্তের নিরাপত্তা এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।
আহত সন্দেহভাজন এবং তার অপরাধমূলক ইতিহাস
এফবিআই ও পিমা কাউন্টি শেরিফ জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তি প্যাট্রিক গ্যারি শ্লেগেল (৩৪) অস্ত্রোপচারের পর গুরুতর কিন্তু স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন। শ্লেগেল আগে একটি হাফওয়ে হাউস থেকে পালিয়েছিলেন এবং অবৈধ মানবপাচার ও অস্ত্র রাখার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।
এফবিআই সূত্রে জানা গেছে, শ্লেগেলকে ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা, অবৈধ অভিবাসী পাচার ও অস্ত্রসহ অপরাধী হওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হবে।
সীমান্তে সংঘটিত ঘটনা

ঘটনাটি সীমান্ত থেকে ১০ মাইল দূরে অ্যারিভাকার মরুভূমিতে ঘটেছে, যা অভিবাসীদের জন্য একটি ব্যস্ত এলাকা। পিমা কাউন্টির শেরিফ ক্রিস নানোস জানান, মঙ্গলবার সকালে বর্ডার এজেন্টরা শ্লেগেলের গাড়ির পিছু নেন।
গাড়িতে থাকা চালকসহ কয়েকজন যাত্রী পালিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে অ্যারিজোনার অ্যারিভাকা শহরের কাছে, সীমান্ত থেকে প্রায় ১০ মাইল দূরে, এক বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট আবারও ওই গাড়ি দেখতে পান। গাড়ি থামানোর পর সন্দেহভাজন ব্যক্তি পায়ে হেঁটে পালানোর চেষ্টা করেন এবং আকাশে টহলরত কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন হেলিকপ্টারের দিকে গুলি ছোড়েন। পরে বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
সম্প্রতি সীমান্তে আরও সংঘটিত হত্যাকাণ্ড
সম্প্রতি মিনেসোটায় বর্ডার প্যাট্রোলের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেট্টি নিহত হন। এর আগে চলতি মাসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এক কর্মকর্তার গুলিতে রেনে গুড (৩৭) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন।
এই ঘটনাগুলি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে বিতর্ক এবং রাজনৈতিক চাপকে আরও বাড়িয়েছে।
মানবপাচার এবং সীমান্ত নিরাপত্তা
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা প্রতীয়মান করছে যে, সীমান্তে অভিবাসী পাচার এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পিমা কাউন্টি শেরিফের মতে, “সীমান্তরক্ষীরা প্রতিদিন বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করছেন। নিরাপত্তার জন্য আমাদের নিয়মিত নজরদারি এবং টেকসই নীতি প্রয়োজন।”
অভিবাসীদের নিরাপত্তা ও সীমান্ত সুরক্ষার জন্য নিয়মিত বর্ডার প্যাট্রোল অভিযান অপরিহার্য। আরও বিস্তারিত তথ্য U.S. Customs and Border Protection ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
অ্যারিজোনা মানবপাচার ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবপাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখনো প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, সাধারণ জনগণের সচেতনতাও প্রয়োজন।




