এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য: ছেলেমেয়েদের রক্তের বিনিময়ে ওরা চট করে নেতা হয়েছে

মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্যে বিরোধীদের আচরণ নিয়ে কঠোর ও নেতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। নির্বাচন কেন উপভোগ্য নয়, তা ব্যাখ্যা করেছেন বিএনপির এই নেতা।

মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা আব্বাস সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি, বিরোধী দলের আচরণ এবং নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে স্পষ্ট ও কঠোর মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল—কেন এবারের নির্বাচন তার কাছে উপভোগ্য নয় এবং কেন তিনি বিরোধী পক্ষের ভূমিকা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার তুলনা টানলেন মির্জা আব্বাস

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, রাজনীতিতে তার আসতে বহু বাধা ও ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে। তিনি জানান, ১৯৭৭ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা তাকে এই জায়গায় এনেছে। তার ভাষায়, তিনি সহজ পথে নেতা হননি।

তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা “ছেলেমেয়েদের রক্তের বিনিময়ে” খুব দ্রুত নেতৃত্বের জায়গায় পৌঁছে গেছেন। মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য অনুযায়ী, এই নেতৃত্বের ধরন দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের প্রতিফলন নয়।

“আমরা রক্ত দিয়ে নেতা হয়েছি”—বক্তব্যের তাৎপর্য

মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির অনেক নেতাকর্মী রাজনৈতিক সংগ্রামে রক্ত ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে এসেছেন। তার মতে, এই ত্যাগের সংস্কৃতি ও বর্তমান কিছু দলের আচরণের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলে ধরেন। মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য-এ বারবার উঠে আসে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্ব।

পরামর্শ গ্রহণে অনীহা নিয়ে অভিযোগ

বিএনপির এই নেতা বলেন, যাদের বিরুদ্ধে তিনি অভিযোগ করছেন, তারা পরামর্শ গ্রহণে আগ্রহী নন। তার ভাষায়, তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া “খুব ডিফিকাল্ট”।
তিনি মনে করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে পারস্পরিক আলোচনা ও শালীন আচরণ অত্যন্ত জরুরি, যা বর্তমানে অনুপস্থিত।

ভোটারদের আগ্রহ থাকলেও উপভোগ নেই কেন?

মির্জা আব্বাস জানান, ভোটারদের মধ্যে ভোট দেওয়ার আগ্রহ ও উৎসাহ আশাব্যঞ্জক। অনেক ভোটার নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী এবং অংশ নিতে চান। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ভোট দেওয়া যেখানে একটি আনন্দ ও উপভোগের বিষয় হওয়ার কথা, সেখানে এবারের নির্বাচন উপভোগ করা যাচ্ছে না।

মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য অনুযায়ী, এর পেছনে প্রধান কারণ বিরোধী পক্ষের আচরণ ও পরিবেশগত সমস্যা।

নির্বাচন উপভোগ্য না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, এবারের নির্বাচন “ডিফিকাল্ট” হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের সহযোগী শক্তিগুলোর আচরণ নির্বাচনী পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তার মতে, নির্বাচনের জন্য যে ধরনের আচরণ এপ্রোপিয়েট বা উপযুক্ত, তা তাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। বরং এমন কিছু কার্যকলাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদের ভূমিকা

মির্জা আব্বাস বলেন, বিরোধী পক্ষের আচরণ, কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ড নির্বাচনকে সহনীয় করে তুলছে না। তিনি অভিযোগ করেন, তাদের কার্যকলাপ নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে।

মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য-এ এই অংশটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে তিনি সরাসরি নির্বাচনকালীন পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবের কথা বলেন।

“উল্টাপাল্টা ব্যাখ্যা করে”—আরেকটি অভিযোগ

বিরোধীদের সম্পর্কে কথা বলা কেন কঠিন, সে ব্যাখ্যাও দেন বিএনপির এই নেতা। তার ভাষায়, তারা প্রায়ই উল্টাপাল্টা ব্যাখ্যা দেন এবং অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ধরনের আচরণ তিনি চান না এবং এটি নির্বাচনের জন্য সহায়ক নয়।

নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দাখিল

মির্জা আব্বাস জানান, তিনি ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে একাধিক অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এই অভিযোগগুলো বিরোধী পক্ষের আচরণ ও নির্বাচনী পরিবেশ ঘিরে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য-এ কমিশনের প্রতি তার প্রত্যাশাও পরোক্ষভাবে উঠে এসেছে।

আচরণ ও বডি ল্যাঙ্গুেজ নিয়ে আপত্তি

মির্জা আব্বাস বলেন, শুধু কথাবার্তাই নয়—বিরোধীদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজও সমস্যার সৃষ্টি করছে। তার মতে, সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচনের জন্য সহনীয় পরিবেশ তৈরি হয়নি।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে আচরণগত শালীনতা অপরিহার্য।

নির্বাচন পরিবেশ নিয়ে সামগ্রিক মূল্যায়ন

এই বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত—
১) রাজনৈতিক নেতৃত্বের পথ ও ত্যাগ
২) বিরোধী দলের আচরণ
৩) নির্বাচনকালীন পরিবেশ ও উপভোগ্যতার অভাব

তিনি বারবার বলেছেন, নির্বাচন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটাই তার প্রধান উদ্বেগ।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি বর্তমান নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট নন। মির্জা আব্বাস নির্বাচন মন্তব্য কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য নয়; এটি নির্বাচন পরিবেশ, নেতৃত্বের নৈতিকতা এবং আচরণগত প্রশ্নের দিকেও আলোকপাত করে।

এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সর্বাধিক পঠিত