তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার—ভোলার সমাবেশে শক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে আন্দালিব রহমান পার্থ জাতীয় রাজনীতির বাস্তবতা তুলে ধরেন।
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার—এই মন্তব্যটি করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও ভোলা-১ (সদর) আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের সব জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ভোটাররা একসঙ্গে থাকলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার দিকে ঘুইংগারহাট-সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি ও বিএনপির যৌথ আয়োজনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্দালিব রহমান পার্থ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভোলার উন্নয়ন ঘাটতি এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ভোলার সমাবেশে কী বললেন আন্দালিব রহমান পার্থ

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, তিনি গত কয়েক দিনে ভোলার গ্রামেগঞ্জে পায়ে হেঁটে ও মোটরসাইকেলে ঘুরেছেন। এই সফরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি এলাকার অবকাঠামোগত সংকট ও উন্নয়ন চাহিদার কথা তুলে ধরেন।
তার ভাষায়, ভোলার রাস্তাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এখনো ভোলা-বরিশাল সেতু নেই, নেই কোনো মেডিকেল কলেজ। তরুণদের জন্য কাজ করার পর্যাপ্ত সুযোগও সৃষ্টি হয়নি। এসব বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোলায় উন্নয়নের জন্য অনেক কাজ বাকি রয়েছে এবং এই কাজগুলো বাস্তবায়নে রাজনৈতিক পরিবর্তন জরুরি।
তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে পার্থের বক্তব্য
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার কেন বললেন পার্থ
আন্দালিব রহমান পার্থের মতে, দেশের জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ভোটারদের সমর্থন একত্রিত হলে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে ওঠে। তিনি মনে করেন, এই ঐক্য গড়ে উঠলে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া আর কোনো দূরের বিষয় নয়—বরং এটি সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে বিএনপির নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ ভূমিকার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভোটারদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে রাজনৈতিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।
ভোলার উন্নয়ন সংকট ও রাজনৈতিক বার্তা
ভোলার অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে পার্থের বক্তব্য ছিল স্পষ্ট ও বাস্তবভিত্তিক। তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন—
-
ভোলা-বরিশাল সেতুর অভাব
-
মেডিকেল কলেজ না থাকা
-
তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত
এই বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, ভোলার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শক্ত নেতৃত্ব প্রয়োজন। তার বক্তব্যে স্থানীয় উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট যোগসূত্র ফুটে ওঠে।
সমাবেশে উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ
এই নির্বাচনী সমাবেশে ভোলা জেলা বিএনপি ও বিজেপির একাধিক নেতা বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন—
-
ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুল হক
-
শফিউর রহমান কিরণ
-
হারুনুর রশিদ ট্রুম্যান
-
এনামুল হক
-
সাধারণ সম্পাদক রাইসুল আলম
এছাড়া ভোলা জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন, সাধারণ সম্পাদক মোতাছিন বিল্লাহ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নুরনবীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
তাদের বক্তব্যে নির্বাচনী মাঠের প্রস্তুতি, স্থানীয় সমস্যার সমাধান এবং জোটগত রাজনীতির গুরুত্ব উঠে আসে।
জাতীয় রাজনীতিতে বক্তব্যটির গুরুত্ব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার—এই বক্তব্যটি শুধু একটি ব্যক্তিগত মত নয়, বরং এটি জোট রাজনীতির কৌশলগত বার্তাও বহন করে। নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে এলে এ ধরনের বক্তব্য ভোটারদের মধ্যে বার্তা পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও প্রভাব আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রায়ই আলোচিত হয়। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও নির্বাচন বিষয়ে নিয়মিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করে তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার নিয়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট | BBC News।
ভোলা সদর উপজেলার নির্বাচনী সমাবেশে আন্দালিব রহমান পার্থের বক্তব্য স্থানীয় উন্নয়ন সংকট, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে। তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার—এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা আগামী দিনে নির্বাচনী রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




