এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (17)
বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস: ১ জনের মৃত্যু
Shikor Web Image (14)
দাঁড়িপাল্লার এক পাল্লায় আমেরিকা অন্যটিতে ভারত: চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম
Shikor Web Image (11)
ইসি সাংবিধানিক দায়িত্বে দুর্বলতা: দেখাচ্ছে বললেন টিআইবি
Shikor Web Image (8)
এবারের নির্বাচন দেশ পুনর্গঠনের: তারেক রহমান
Shikor Web Image (2)
দেশে এসেছে ৪ লাখ ২৮ হাজারের বেশি পোস্টাল ব্যালট

ক্ষমতায় গেলে নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা জামায়াত আমিরের

ক্ষমতায় গেলে নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা জামায়াত আমিরের, নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা দিয়ে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটকে ঘিরে শক্ত ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেন ঢাকার জনসভা থেকে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী করা হবে। ঢাকার একটি জনসভা থেকে দেওয়া এই বক্তব্যে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অবস্থান ও জোটের কৌশল স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১১ আসনে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় ভোটারদের উদ্দেশে তিনি এই ঘোষণা দেন। বক্তৃতায় তিনি নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক অবস্থান, জন্মস্থান ও বেড়ে ওঠার প্রসঙ্গ টেনে আনার পাশাপাশি জোট সরকারের কাঠামো নিয়েও কথা বলেন।

ঢাকা-১১ আসনের জনসভায় কী বললেন জামায়াত আমির

ঢাকা-১১ আসনের জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদ ইসলামের জন্ম ও বেড়ে ওঠা এই এলাকাতেই। তাই তিনি স্থানীয় মানুষদের উদ্দেশে বলেন, বাইরের কোনো গল্প শোনানোর প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, “মায়ের কাছে মাসির গল্প করব না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি নাহিদ ইসলামের সঙ্গে এলাকার মানুষের পরিচিতি এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

সরকার গঠনের শর্তে মন্ত্রিত্বের আশ্বাস

জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী যদি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী হিসেবেই দেখা যাবে। তিনি বলেন, “সরকার গঠন করতে পারলে নাহিদ ইসলামকে মন্ত্রী হিসেবেই আপনারা দেখবেন, ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিজয়ী হলে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনের আগে একটি নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়।

নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা এবং জোট রাজনীতির ইঙ্গিত

নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা শুধু ব্যক্তিগত কোনো প্রতিশ্রুতি নয়, বরং এটি জামায়াত-নেতৃত্বাধীন জোটের রাজনৈতিক বার্তার অংশ। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নাহিদদের রাখা হবে ‘বিমানের ককপিটে’, আর জোটের অন্যান্য নেতারা থাকবেন পেছনে।

এই উপমার মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, নেতৃত্বে থাকবে নতুন প্রজন্ম বা নির্দিষ্ট জোটসঙ্গী, তবে সম্মিলিতভাবে সরকার পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াত জোট কোনো “ভুলভাল আশ্বাস” দেবে না।

“যা আছে তাই দিয়ে দেশ গড়বে”—জামায়াতের অবস্থান

জামায়াত আমির বলেন, জোটের লক্ষ্য বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশ গড়া। তার ভাষায়, “যা আছে তাই দিয়ে দেশ গড়বে।”

এই বক্তব্যে তিনি অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি বা অবাস্তব আশ্বাস থেকে দূরে থাকার বার্তা দেন। নির্বাচনী রাজনীতিতে এটি একটি সতর্ক অবস্থান হিসেবেও দেখা যাচ্ছে।

বাড্ডার জনসভা ও ১১ দলীয় জোটের বক্তব্য

ঢাকার বাড্ডা এলাকায় ডিআইটি প্রজেক্টের খেলার মাঠে নাহিদ ইসলামের সমর্থনে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের জনসভায়ও ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণ “আধিপত্যবাদের গোলামকে লালকার্ড” দেখাবে।

তিনি বিএনপিকে ইঙ্গিত করে বলেন, নাটে-ঘাটে সব কার্ড ভুয়া এবং এই কার্ডকেই জনগণ নির্বাচনের দিন প্রত্যাখ্যান করবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে আনা বক্তব্য

জামায়াত আমির তার বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালে জাতির যে আকাঙ্ক্ষা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সাধারণ দাবিকে দমন করতে গিয়ে জুলাই-আগস্টের ঘটনা ঘটে। তার ভাষায়, “৫ আগস্ট আওয়ামী জাহেলিয়াত থেকে জাতি মুক্তি পায়, কিন্তু ৬ আগস্ট থেকে জাতির ওপর আরেক জালেম চড়াও হয়েছে।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অতীত অভিজ্ঞতার মধ্যে একটি ধারাবাহিকতা দেখানোর চেষ্টা করেন।

নির্বাচনী রাজনীতিতে বার্তার গুরুত্ব

নাহিদকে মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা নির্বাচনী প্রচারণায় একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে উঠে এসেছে। এতে একদিকে জোটের ভেতরের সমন্বয়, অন্যদিকে ভোটারদের সামনে নির্দিষ্ট নেতৃত্বের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘোষণা ভোটারদের কাছে জোটের পরিকল্পনা ও ক্ষমতা কাঠামো বোঝাতে সহায়ক হয়, যদিও এর বাস্তবায়ন পুরোপুরি নির্বাচনী ফলের ওপর নির্ভরশীল।

নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ধরনের বক্তব্য রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই ঘোষণাগুলো জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা বোঝাতে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত