ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলো ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য। জানুন সমস্ত নিয়ম ও ব্যতিক্রম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য নির্দেশনা পাঠান।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় ভোটকেন্দ্রের চারশ’ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ কোনো ভোটার মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল উদ্দেশ্য হলো ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা: ব্যতিক্রম এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা

নির্দেশনায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্য এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবেন। তারা হলেন:
-
প্রিসাইডিং অফিসার
-
ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ
-
‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য
এরা ছাড়া সকল ভোটারকে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ থেকে বিরত থাকতে হবে।
কেন জরুরি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা?
ইসি এই সিদ্ধান্তকে উল্লেখযোগ্য ও প্রয়োজনীয় হিসেবে দেখছে। কারণ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করলে:
-
ভোট প্রক্রিয়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যাঘাত ঘটতে পারে
-
তথ্য ফাঁস বা ভোটারদের প্রভাবিত করার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে
-
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে যায়
ইসি সব রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অনুরোধ করেছে যে তারা এই নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবেন এবং ভোটারদের সচেতন করবেন।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা: ভোটারদের করণীয়
ভোটারদের জন্য প্রধান নির্দেশনা হলো ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ছাড়া উপস্থিত হওয়া। এছাড়া ভোটাররা উচিত:
-
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা কর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলা।
-
মোবাইল, ক্যামেরা বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন না করা।
-
ভোটকেন্দ্রের চারশ’ গজ ব্যাসার্ধে নির্ধারিত বিধি অনুসরণ করা।
এই নিয়মাবলি মানার মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও নিরাপদ হবে।
ইসি ও ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা: আন্তর্জাতিক মান
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা শুধু বাংলাদেশেই নয়, বহু দেশে কার্যকর ব্যবস্থার অংশ। নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই ধরনের নিয়ম ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং নির্বাচনকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে।
শিকর টিভি ক্যানাডা’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক নির্দেশনা স্থানীয় কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং তারা তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছেন। আরও বিস্তারিত জানতে শিকর টিভার ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা রিপোর্ট পড়া যেতে পারে।
ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা
ইসি আশা করছে যে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভোটারদের সহযোগিতা চাইছেন যাতে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল বহনকারীদের ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার বা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ফলে ভোটারেরা নিশ্চিন্তভাবে ভোট দিতে পারবে এবং কোন ধরনের ঝুঁকি থাকবে না।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা: সময়সূচি ও কার্যকরী নির্দেশনা
-
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর: ১২ ফেব্রুয়ারি, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট
-
প্রয়োগের এলাকা: ভোটকেন্দ্রের চারশ’ গজ ব্যাসার্ধ
-
ব্যতিক্রম: প্রিসাইডিং অফিসার, পুলিশ ইনচার্জ, নির্বাচনী নিরাপত্তা কর্মী (আনসার/ভিডিপি)
এই নিয়ম মেনে চললে ভোটের সময় কোনো ধরনের বাধা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরাপদ করার জন্য। ভোটারদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। ইসি সব দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে যে তারা এই নিয়ম কঠোরভাবে মানবেন।
এভাবে, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সময় ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে।




