লেবাননে ভবন ধসের ঘটনায় ত্রিপোলিতে নিহত বেড়ে ১৪ জন। ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজদের সন্ধানে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে সিভিল ডিফেন্স।
লেবাননে ভবন ধস–এর ঘটনায় দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় শহর ত্রিপোলিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। স্থানীয় উদ্ধারকারী বাহিনী জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার পাওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, দীর্ঘদিনের অবহেলা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাব—সব মিলিয়েই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমবার লেবাননের সিভিল ডিফেন্স নিশ্চিত করেছে, রবিবার ধসে পড়া দুটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে এ পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ত্রিপোলিতে কী ঘটেছিল?
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) লেবাননের ত্রিপোলি শহরের বাব আল-তাব্বানেহ এলাকায় পরপর দুটি পুরনো আবাসিক ভবন ধসে পড়ে। ঘটনাটি ঘটে হঠাৎ করেই, যার ফলে ভবনের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা বেরিয়ে আসার সুযোগ পাননি।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধসের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা এবং সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
নিহত ও নিখোঁজ: এখন পর্যন্ত যা জানা গেছে

লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, ধসে পড়া ভবন দুটিতে অন্তত ২২ জন বাসিন্দা বসবাস করতেন। তবে দুর্ঘটনার সময় ঠিক কতজন ভেতরে ছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
-
নিশ্চিত নিহত: ১৪ জন
-
জীবিত উদ্ধার: ৮ জন
-
নিখোঁজ: সংখ্যা নিশ্চিত নয়
এই অনিশ্চয়তার কারণেই উদ্ধার অভিযান এখনও বন্ধ করা হয়নি।
লেবাননে ভবন ধস ও উদ্ধার অভিযানের সর্বশেষ পরিস্থিতি
লেবাননে ভবন ধস–এর পর উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াও হাতে-কলমে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অংশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সরানো হচ্ছে, যাতে ভেতরে আটকে থাকা কেউ জীবিত থাকলে তাদের ক্ষতি না হয়।
একজন উদ্ধারকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী,
“ধ্বংসস্তূপের ভেতর এখনো মানুষের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সময় লাগলেও আমরা ধাপে ধাপে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি।”
পুরনো ভবনই কি এই দুর্ঘটনার মূল কারণ?
ত্রিপোলির স্থানীয় পৌর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পুরনো ভবন ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে—
দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাব
বছরের পর বছর ভবনগুলোর কাঠামোগত সংস্কার না করায় দেয়াল ও ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
জরাজীর্ণ অবকাঠামো
ত্রিপোলির বহু ভবনই কয়েক দশক পুরনো, যা বর্তমান নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে না।
আর্থিক সংকট
লেবাননের চলমান অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মালিক ভবন সংস্কারে বিনিয়োগ করতে পারছেন না।
ত্রিপোলি: একটি ঝুঁকিপূর্ণ নগর বাস্তবতা
ত্রিপোলি লেবাননের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর। কিন্তু আধুনিকায়নের অভাবে শহরটির অনেক আবাসিক এলাকা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে পুরনো ভবনের সংখ্যা বেশি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই লেবাননে ভবন ধস কেবল একটি বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার ফল।
সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা
এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো নতুন তথ্য বা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করা হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হবে।
তবে বাস্তবতা হলো, আগেও এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কার্যকর বাস্তবায়ন খুব কমই দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে লেবাননে ভবন ধস
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও লেবাননে ভবন ধস–এর এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।
বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যম BBC News জানিয়েছে, ত্রিপোলির এই দুর্ঘটনা লেবাননের অবকাঠামোগত সংকটের একটি নগ্ন উদাহরণ।
উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর তদন্ত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তদন্তের পাশাপাশি বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি—যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি না হয়।




