পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি শুরুর আগে আইসিসির কাছে তুলে ধরেছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। বিস্তারিত জানুন ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি শর্ত।
লাহোর, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বাতিল করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনের আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর কাছে তিনটি স্পষ্ট শর্ত তুলেছে সংস্থাটি।
রবিবার লাহোরে আইসিসির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল, কীভাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়ানো যায়।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই অবস্থানের পেছনে আর্থিক ও কূটনৈতিক দুই দিকের চাপ কাজ করছে।
ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের তিনটি শর্ত

ক্রিকবাজ সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান আইসিসির কাছে যে তিনটি ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি শর্ত তুলেছে তা হলো:
-
আইসিসি রাজস্ব বণ্টনে পাকিস্তানের অংশ বৃদ্ধি – পাকিস্তান বর্তমানে আইসিসির রাজস্ব বণ্টনে চতুর্থ সর্বোচ্চ আয়কারী। মোট আয়ের ৫.৭৫ শতাংশ পাকিস্তান পান, যা বছরে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার।
-
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ক্রিকেট পুনরায় চালু করা – যদিও এই বিষয়টি দুই দেশের সরকারের ওপর নির্ভরশীল, তাই আইসিসির এখানে কার্যকর কোনো ক্ষমতা নেই।
-
আন্তর্জাতিক ম্যাচে হ্যান্ডশেক প্রটোকল কঠোরভাবে কার্যকর করা – ২০২৫ এশিয়া কাপের পর ভারত-পাকিস্তান খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দনের বিরতিটি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পাকিস্তানের কঠোর অবস্থানের পেছনে কারণ
এর আগে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছিল, নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ হলেও ভারতকে দলকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে কেন এমন অবস্থান নেয়া হয়েছে, তা নিয়ে সরকার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি দেখাতেই পাকিস্তান এমন অবস্থান নিয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের অনুরোধ আইসিসি নাকচ করলে বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়। এরপর পাকিস্তানের অবস্থান আরও কঠোর হয়ে যায়।
আইসিসি এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে। আইসিসির সিইও সঞ্জোগ গুপ্ত জুমে যুক্ত হন, এবং লাহোরে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পিসিবি ও বিসিবি শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।
ক্রিকবাজ জানিয়েছে, বাংলাদেশও আইসিসির কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে। চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পিসিবি জানে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ না হলে আইসিসি বড় অঙ্কের সম্প্রচার রাজস্ব হারাতে পারে। এই আর্থিক চাপকেই পাকিস্তান কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
বর্তমানে পাকিস্তান আইসিসির মোট আয় থেকে ৫.৭৫% অংশ পাচ্ছে, যা বছরে প্রায় ৩.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্থের গুরুত্ব ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলছে।
হ্যান্ডশেক প্রটোকল ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ
ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি শর্ত বিষয়ক তৃতীয় দাবি এসেছে হ্যান্ডশেক প্রটোকল নিয়ে। ২০২৫ এশিয়া কাপের পর পেহেলগাম হামলার কারণে ভারত-পাকিস্তান খেলোয়াড়দের মধ্যে করমর্দনে বিরত ছিল, যা এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালুর দাবি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, এটি শুধুমাত্র দুই দেশের সরকারের সিদ্ধান্তে নির্ভরশীল।
আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ক্রিকেট অঙ্গনে ধারণা করা হচ্ছে, এই তিনটি ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি শর্ত মানা হলে ম্যাচ মাঠে গড়াতে সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। বিস্তারিত খবরের জন্য ইউরোপিয়ান ক্রিকেট নিউজ দেখতে পারেন।




