১০ জেলায় বজ্রাঘাতে প্রাণ গেল ১৬ জনের। পটুয়াখালী, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও আহত হয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী
দেশজুড়ে বজ্রঝড়ের ভয়াবহতায় আবারও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু ১০ জেলায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘটেছে। দেশের পটুয়াখালী, জামালপুর, বরগুনা, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ, বাগেরহাট, রংপুর, রাজবাড়ী, গাজীপুর ও শরীয়তপুর—এই ১০ জেলায় পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় এসব মৃত্যু ঘটে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং বিভিন্ন স্থানে পশু-পাখির ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া গেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই ঘটনায় গ্রামীণ জীবন ও কৃষি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। মাঠে কাজ করা মানুষ, জেলে এবং দিনমজুররাই বেশি ঝুঁকিতে পড়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ৪ জনের মৃত্যু

পটুয়াখালীতে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু ১০ জেলায় ঘটনায় সবচেয়ে বেশি চারজন নিহত হয়েছেন।
সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। রাঙ্গাবালী উপজেলার চরগঙ্গা গ্রামে মাঠে গরু বাঁধতে গিয়ে সৌরভ মজুমদার (২২) নিহত হন। পরে কলাপাড়ায় ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করার সময় জহির উদ্দিন (২৮) মারা যান।
একই সময়ে পূর্ব চাকামাইয়া গ্রামে গরুকে ঘাস খাওয়াতে গিয়ে সেতারা বেগম (৫৫) এবং শান্তিপুর গ্রামে গরু নিয়ে মাঠ থেকে ফেরার সময় খালেক হাওলাদার (৫৫) বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গত দুই দিনে জেলায় অন্তত অর্ধশতাধিক গরুর মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে।
জামালপুরে মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণহানি
জামালপুরের ইসলামপুরে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু ১০ জেলায় ঘটনায় দুইজন নিহত হন।
সকালে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে শামীম মিয়া (৩৫) বজ্রপাতে মারা যান। একই সময়ে রাস্তার কাজ করার সময় শ্রমিক সাগর ইসলাম (১৮) প্রাণ হারান।
স্থানীয় ওসি মো. আব্দুল কাইয়ূম গাজী জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
বরগুনায় জেলে ও কৃষকের মৃত্যু
বরগুনায় পৃথক ঘটনায় জেলে আল-আমীন এবং কৃষক নূরজামাল নিহত হন।
দুপুরের দিকে পাথরঘাটা ও আমতলীতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বজ্রপাতে ১৬ জনের মৃত্যু ১০ জেলায় তালিকায় বরগুনাও যুক্ত হয়।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আমতলীতে নিহত কৃষকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।
রাজবাড়ীতে শিশুসহ আহত, যুবকের মৃত্যু
রাজবাড়ীতে সকাল পৌনে ৭টার দিকে সুমন মন্ডল (৩৫) বজ্রপাতে নিহত হন।
ঘটনার সময় তিনি তার মেয়েকে নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। বজ্রপাতের সময় শিশুটি কোল থেকে পড়ে গেলেও বেঁচে যায়।
ময়মনসিংহে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে মৃত্যু
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় সাদ্দাম হোসেন (৩২) রাংসা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে মারা যান।
স্থানীয়রা জানান, হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
বাগেরহাট, রংপুর ও পিরোজপুরে প্রাণহানি
বাগেরহাটে দিনমজুর রবিন হাওলাদার (৫৩) গরু আনতে গিয়ে মারা যান।
রংপুরের তারাগঞ্জে এক গৃহবধূ খড়ি সংগ্রহ করতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারান।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দুইজন—গৃহবধূ আয়েশা বেগম (৫০) এবং যুবক স্বাধীন তালুকদার (২০) নিহত হন। স্বাধীনকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর মাঠে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
গাজীপুর ও শরীয়তপুরে আরও মৃত্যু
গাজীপুরের কালীগঞ্জে মো. জাকির হোসেন খান (৩২) বজ্রপাতে মারা যান।
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কীর্তিনাশা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে রাজিব শেখ (৩২) বজ্রাঘাতে নিহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করলেও তিনি আগেই মারা যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা ও কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। কৃষিকাজ, মাছ ধরা এবং খোলা মাঠে কাজ করা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
এই ধরনের ঘটনার খবর নিয়মিতই পাওয়া যাচ্ছে, যা জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।




