স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্যসহ ৬ দফা গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমাদের সঙ্গে বেলারুশের অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকোর সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও বাণিজ্য খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয় উঠে আসে।
এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-বেলারুশ রাষ্ট্রদূত বৈঠক–এ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কার্যকর করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সার আমদানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ফৌজদারি মামলাসহ বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পায়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকোকে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তিনি শুভেচ্ছা জানান। রাষ্ট্রদূত কাসকোও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-বেলারুশ রাষ্ট্রদূত বৈঠকে সহযোগিতার নতুন দিগন্ত

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত কাসকো বলেন, বাংলাদেশ ও বেলারুশের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ইতোমধ্যে শক্তিশালী। তবে এই সম্পর্ক আরও জোরদার করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বেলারুশ সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে বিশ্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ চাইলে ড্রোনসহ আধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহে বেলারুশ সহযোগিতা করতে পারে।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এসব প্রস্তাব সরকারিভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কৃষি ও সার খাতে সম্ভাবনা
এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-বেলারুশ রাষ্ট্রদূত বৈঠক–এ কৃষি খাতেও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বেলারুশের পক্ষ থেকে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বিষয়ে তাদের উন্নত প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। তাই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বেলারুশের কারিগরি সহায়তা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়া সার আমদানি নিয়েও আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বেলারুশ বিশ্বে পটাশ সার উৎপাদন ও রপ্তানির একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ সৌদি আরব, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সার আমদানি করে। এই ক্ষেত্রে বেলারুশ একটি নতুন সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে।
প্রতিরক্ষা ও আইনগত সহযোগিতা
বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। রাষ্ট্রদূত বেলারুশের সামরিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করেন।
এছাড়া বৈঠকে একটি ফৌজদারি মামলায় বেলারুশের এক নাগরিকের বিষয়ও উত্থাপিত হয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন।
এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-বেলারুশ রাষ্ট্রদূত বৈঠক দুই দেশের নিরাপত্তা ও আইনগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বেলারুশ সফরের আমন্ত্রণ
বৈঠকের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমাদকে বেলারুশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। এতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বেলারুশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও বেলারুশের এই ধরনের কূটনৈতিক বৈঠক ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, কৃষি উন্নয়ন এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।




