১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় ফ্রান্সের, ২-০ গোলে হারিয়ে। ডালাসের সেমিফাইনালে দারুণ পারফরম্যান্সে ১৬ বছর পর শিরোপার লড়াইয়ে উঠল স্পেন।
স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডালাসে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে। তারকাসমৃদ্ধ ফরাসি দলকে কার্যত সুযোগই না দিয়ে স্পেন জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে। এই জয়ের ফলে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের সুযোগ পেল স্প্যানিশরা। অন্যদিকে টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সকে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাসে ফ্রান্সকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে দেখা হলেও মাঠের লড়াইয়ে স্পেনের সংগঠিত ফুটবলের সামনে সেই প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পায়নি।
স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করল ২-০ জয়ে
ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে স্পেন। আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই তারা ছিল অনেক বেশি গোছানো।
ম্যাচে প্রথম গোল আসে পেনাল্টি থেকে। স্পেনের হয়ে সফলভাবে স্পট কিক থেকে গোল করেন মিকেল ওইয়ারজাবাল। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো।
ফ্রান্স পুরো ম্যাচে প্রত্যাশামতো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। ফলে ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠে স্পেন।
ফাইনালে অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড
এই জয়ের ফলে আগামী রোববার রাতে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলবে স্পেন।
শিরোপার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ড। দ্বিতীয় সেমিফাইনালের ফলের ওপর নির্ভর করবে স্পেনের প্রতিপক্ষ।
১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেন

স্পেন এর আগে মাত্র একবার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল।
২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তারা প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতে নেয়।
এরপর দীর্ঘ ১৬ বছর অপেক্ষার পর আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে জায়গা করে নিল স্প্যানিশরা।
ফ্রান্সের তারকারা ছিলেন নিষ্প্রভ
সাধারণত কিলিয়ান এমবাপ্পে, ওসমান দেম্বেলে এবং মাইকেল ওলিসে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেন।
তবে এই ম্যাচে স্পেনের সুসংগঠিত রক্ষণ তাদের কার্যকর হতে দেয়নি।
ফ্রান্স খুব বেশি পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। এমনকি স্পেনের পেনাল্টি বক্সে নিয়মিত প্রবেশ করতেও তাদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে।
শেষ বাঁশির আগে আবেগঘন মুহূর্ত
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার কিছুক্ষণ আগে টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক আবেগঘন দৃশ্য।
এক ফরাসি শিশুকে মায়ের কোলে বসে কাঁদতে দেখা যায়।
সেই সময় ধারাভাষ্যকার মন্তব্য করেন যে, স্পেন এদিন পুরো ম্যাচজুড়েই ফ্রান্সকে ছাপিয়ে গেছে। মাঠের খেলায়ও সেই চিত্রই প্রতিফলিত হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বপ্ন ভাঙল, স্পেন ছুঁল বিশ্ব রেকর্ড
এই ম্যাচে জয় পেলে জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) এবং ব্রাজিল (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২)-এর পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব গড়তে পারত ফ্রান্স।
কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে দেয় স্পেন।
এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির বিশ্ব রেকর্ড স্পর্শ করেছে।
এর আগে ইতালি ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একই সংখ্যক ম্যাচে অপরাজিত ছিল। ফলে এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড যৌথভাবে ইতালি ও স্পেনের দখলে।
ম্যাচ থেকে যা জানা গেল
- ডালাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সেমিফাইনালে স্পেন ২-০ ব্যবধানে জয় পায়।
- মিকেল ওইয়ারজাবাল ও পেদ্রো পোরো গোল করেন।
- ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন।
- ফ্রান্সের টানা তিন বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।
- টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থেকে ইতালির রেকর্ড স্পর্শ করল স্পেন।
স্পেন বিশ্বকাপ ফাইনাল নিশ্চিত করার ম্যাচে শুধু জয়ই পায়নি, তারা দেখিয়েছে দলগত ফুটবলের কার্যকারিতা। অন্যদিকে, তারকাসমৃদ্ধ ফ্রান্স প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারায় বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
এখন নজর নিউ জার্সির ফাইনালে, যেখানে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ পাবে স্পেন।





