এইমাত্র

আরও খবর

যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (9)
বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশিবার সেমিফাইনালে উঠেছে কোন দল
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় ফ্রান্সের
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (15)
কোন দেশ বিশ্বকাপ জিতলে যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া পূরণ হবে, জানালেন ট্রাম্পের উপদেষ্টা
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল
মাঠের লড়াইয়ের আগে ফ্রান্স-স্পেনের ‘বাগযুদ্ধ’
যে কারণে বাতিল মিশরের গোল (48)
কেন আর্জেন্টিনা ফাইনালে উঠলে রেফারি হতে পারবেন না ইংল্যান্ডের কেউ

হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে

হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে যা বললেন এমবাপ্পে,  স্পেনের বিপক্ষে ২-০ হারের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ফরাসি অধিনায়ক। কৌশলগত ব্যর্থতা ও দুর্বল পারফরম্যান্স নিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য জানুন।

ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায়ের পর এমবাপ্পের হারের দায় নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, দলের পরিকল্পনা, কৌশল এবং মাঠের পারফরম্যান্স—কোনো ক্ষেত্রেই তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। অধিনায়ক হিসেবে এই ব্যর্থতার দায়িত্ব নিতে তার কোনো দ্বিধা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এমবাপ্পের হারের দায় নিয়ে ম্যাচ শেষে যা বললেন

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্স। তবে শুরু থেকেই স্পেন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে ম্যাচের ছন্দ।

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, মাঝমাঠে সংখ্যাগত সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা সেটির কোনো কার্যকর ব্যবহার করতে পারেননি। তার ভাষায়, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ এত বেশি সময় ও জায়গা পেয়েছেন যে খুব সহজেই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের প্রেসিংয়ে সমন্বয়ের বড় ঘাটতি ছিল। তার মতে, ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।

স্পেনের নিয়ন্ত্রিত ফুটবলের সামনে অসহায় ফ্রান্স

ডালাসের সেমিফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ স্পেন নিজেদের কাছে রাখে।

রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজের নিখুঁত পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের কারণে ফ্রান্স কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। বিশ্বকাপে প্রথম ছয় ম্যাচে ১৬ গোল করা ফরাসি আক্রমণভাগও এই ম্যাচে স্পেনের রক্ষণভাগ ভাঙতে ব্যর্থ হয়।

ম্যাচের ২২ মিনিটে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিগনের একটি ভুল ফাউলের ফলে পেনাল্টি পায় স্পেন। সেই সুযোগ থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন মিকেল ওয়ারজাবাল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই স্প্যানিশ রাইট-ব্যাক পেদ্রো পোরো আরেকটি গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন। এরপর ম্যাচে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ফ্রান্স।

কৌশলগত ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরলেন এমবাপ্পে

এমবাপ্পের হারের দায় প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কৌশলগত কিংবা মাঠের খেলায়—কোনো ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি।

তার মতে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে প্রয়োজনীয় মানের পারফরম্যান্স না দেখাতে পারলে জয়ের সুযোগ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, বল দখলে থাকলেও ফ্রান্স ছিল এলোমেলো। সুযোগ পেয়েও তারা স্পেনের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।

দেশমের পরিবর্তনেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র

দ্বিতীয়ার্ধে খেলায় ফেরার আশায় ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম পরিবর্তন আনেন।

অভিজ্ঞ আদ্রিয়ান রাবিওকে তুলে মাঠে নামানো হয় তরুণ দেজিরে দুয়ে ও রায়ান চেরকিকে। তবে এই পরিবর্তনও ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি।

স্পেনের সংগঠিত রক্ষণভাগ পুরো ম্যাচজুড়েই ফ্রান্সের আক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করা এমবাপ্পেও এই ম্যাচে স্প্যানিশ ডিফেন্ডারদের কঠোর নজরদারিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি।

অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এমবাপ্পে

ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, অধিনায়ক হিসেবে এই হারের সব দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, দলের লক্ষ্য ছিল ফাইনালে ওঠা। কিন্তু তারা সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেননি। তাই ফলাফলের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখনো টিকে আছেন

দল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও ব্যক্তিগত অর্জনের সুযোগ এখনো রয়েছে এমবাপ্পের সামনে।

বর্তমানে ৮ গোল নিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় রয়েছেন। ফলে আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে দেওয়া গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা এখনো তার সামনে খোলা রয়েছে।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নামবে ফ্রান্স

বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হলেও টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি ফ্রান্সের জন্য।

আগামী শনিবার রাতে মায়ামি গার্ডেন্সে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে দিদিয়ের দেশমের দল। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পরাজিত দল।

এমবাপ্পের হারের দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার ঘোষণা শুধু একজন অধিনায়কের দায়িত্ববোধই প্রকাশ করে না, বরং দলের কৌশলগত দুর্বলতার প্রতিও ইঙ্গিত দেয়। স্পেনের সংগঠিত ফুটবল ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণের সামনে ফ্রান্স কাঙ্ক্ষিত ছন্দ খুঁজে পায়নি। এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকলেও বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার স্বপ্ন আপাতত শেষ হয়ে গেছে।

সর্বাধিক পঠিত