এইমাত্র

আরও খবর

Shikor Web Image (87)
জামায়াত চাঁদা হাদিয়া বিতর্ক: বরকত উল্লাহ বুলু বললেন জামায়াত চাঁদা নিলে হাদিয়া অন্যরা নিলে চাঁদাবাজি
Shikor Web Image (84)
মির্জা ফখরুল বিএনপি নির্বাচন বক্তব্য: জামায়াতের রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো অভিজ্ঞতা নেই বিএনপির আছে
Shikor Web Image (81)
জামায়াতের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা বুধবার
Shikor Web Image (78)
নির্বাচনে নিরপেক্ষতা: দায়িত্বে কোনো ছাড় নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
Shikor Web Image (69)
তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সময়ের ব্যাপার: আন্দালিব রহমান পার্থ

আগামী নির্বাচনে অস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ হুমকি এআই – আধুনিক প্রযুক্তির ছায়ায় গণতন্ত্র

বর্তমান বিশ্বের রাজনীতি ও গণতন্ত্র যে প্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়েছে, তা নতুন কোনো কথা নয়। তবে প্রযুক্তির এই সমৃদ্ধির মাঝে এক অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। সম্প্রতি খুলনায় অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের একটি সতর্কবার্তা গণমাধ্যমে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এটি একটি আধুনিক হুমকি, যা অস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ।”

এআই – সুবিধা না ফাঁদ?

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন আমাদের দৈনন্দিন জীবন সহজ করছে, ঠিক তেমনি এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি সূক্ষ্ম হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এআই দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায়:

১.ভুল তথ্য বা গুজব ছড়ানো কনটেন্ট

২.ডিপফেক ভিডিও যা বাস্তবের মতোই প্রতিভাত হয়

৩.সামাজিক মাধ্যমে বট অ্যাকাউন্ট চালিয়ে জনমত প্রভাবিত করা

৪.স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভুয়া খবর ছড়িয়ে রাজনৈতিক বিভ্রান্তি তৈরি করা

 

এসব কর্মকাণ্ড নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে নৈতিক ও তথ্যগতভাবে বিপর্যস্ত করতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের সতর্কতা যথার্থ

সিইসি নাসির উদ্দিনের বক্তব্য শুধু উদ্বেগ নয়, বরং ভবিষ্যতের একটি পূর্বাভাস। বাংলাদেশে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন যেমন বাড়ছে, তেমনি সাইবার ঝুঁকিও বহুগুণে বাড়ছে। নির্বাচন কমিশন যদি এখন থেকেই কার্যকর কৌশল গ্রহণ না করে, তবে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে ডিজিটাল দুর্নীতির সম্ভাবনা অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে যেকোনো প্রযুক্তি-নির্ভর হস্তক্ষেপ রোধে কমিশন সতর্ক।” এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কমিশন কেবল প্রচলিত নিরাপত্তার দিকেই নজর রাখছে না, বরং সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল সচেতনতার দিকেও সজাগ।

 

সমাধান কোথায়?

১. ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানো: সাধারণ জনগণকে প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।

২. ফ্যাক্ট-চেকিং টিম গঠন: নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক প্রতিকার নেওয়া।

৩. সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ

৪. রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নীতিগত চুক্তি: এআই বা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া প্রচার না চালানোর প্রতিশ্রুতি

৫. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: প্রযুক্তিভিত্তিক হস্তক্ষেপ ঠেকাতে আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা।

 

শেষ কথা

প্রযুক্তি আমাদের হাতিয়ার হতে পারে, আবার হুমকিও। এটি নির্ভর করে আমরা কিভাবে তাকে নিয়ন্ত্রণ করি। বাংলাদেশে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রযুক্তি-নিরাপদ করতে হলে, এখনই সময় সাবধান হওয়ার। এআই যদি নিয়ন্ত্রিত না থাকে, তবে এটি গণতন্ত্রের জন্য সত্যিই অস্ত্রের চেয়েও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত