সিনেমা থেকে ‘বিদায়’ নিচ্ছেন অনন্ত জলিল, ব্যবসায়িক সংকটের কারণে। গার্মেন্টস ধস, পেন্ডিং সিনেমা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত জানুন এখানেই।
অনন্ত জলিল সিনেমা ছাড়ছেন—এই খবরটি এখন দেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যবসায়িক সংকটের কারণে আপাতত চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অভিনেতা ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। বিষয়টি তিনি নিজেই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যা তাঁর ভক্ত ও ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় বাস্তবতা হয়ে সামনে এসেছে।
এক সময় যিনি ঢাকাই সিনেমায় নিয়মিত আলোচিত ছিলেন, আজ তিনি সিনেমার বাইরে থেকে নিজের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই কঠিন হলেও বাস্তবসম্মত বলেই দেখছেন।
গার্মেন্টস ব্যবসায় বড় ধস, বদলে গেছে বাস্তবতা
রাজধানীর সাভারে অবস্থিত অনন্ত জলিলের গার্মেন্টস কারখানা একসময় ছিল হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের বড় উৎস। সেখানে এক সময় প্রায় ১২ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪ হাজারে।

এই বড় ধসই মূলত অনন্ত জলিল সিনেমা ছাড়ছেন—এই সিদ্ধান্তের পেছনের প্রধান কারণ। ব্যবসার এমন অবস্থায় তাঁর মতে, অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দেওয়া মানেই সামনে আরও বড় বিপদের মুখে পড়া।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এই সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য এখন তাঁর সমস্ত সময় ও মনোযোগ ব্যবসার দিকেই দিতে হচ্ছে।
অভিনয় নয়, এখন ব্যবসাই অগ্রাধিকার
অনন্ত জলিল জানিয়েছেন, বর্তমানে অভিনয় নিয়ে তাঁর কোনো ভাবনাই নেই। এমনকি যেসব সিনেমার কাজ চলমান ছিল, সেগুলোর শুটিংও তিনি শেষ করতে পারছেন না।
তিনি বলেন,
“সিনেমা করলেও সিনেমার জন্য পাগল ছিলাম না। আমি বিজনেস মাইন্ডের মানুষ।”
শুটিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে ব্যবসার খোঁজ নেওয়ার অভ্যাস ছিল তাঁর। কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে সিনেমা নিয়ে ভাবার সুযোগই নেই।
এই বাস্তবতায় অনন্ত জলিল সিনেমা ছাড়ছেন—এটা কেবল আবেগের সিদ্ধান্ত নয়, বরং টিকে থাকার কৌশল বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সংকট মোকাবিলায় ফোকাস বদলের দর্শন
অনন্ত জলিলের ব্যক্তিত্বের একটি দিক বারবার সামনে আসে—সংকটে পড়লে তিনি এক জায়গাতেই পুরো মনোযোগ দেন। তাঁর ভাষায়,
“যখন কোনো কাজে সংকট থাকে, তখন সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতেই আমি পুরো ফোকাস দিই।”
এই মুহূর্তে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। তাই সিনেমা নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তবতা মেনে নিয়েই তাই তিনি সাময়িকভাবে সিনেমা থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্ত্রী বর্ষার সঙ্গে একসঙ্গেই কাজের শর্ত
২০০৮ সালে প্রযোজক ও অভিনেতা হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন অনন্ত জলিল। শুরু থেকেই তাঁর প্রতিটি সিনেমায় স্ত্রী বর্ষা ছিলেন তাঁর সহযাত্রী।
এই প্রসঙ্গে তিনি জানান,
“যখন সিনেমা করব, আবার একসঙ্গে করব। না করলে দুজনের কেউই করব না।”
তাঁদের কাছে সিনেমা কখনোই প্রধান পেশা ছিল না। শখ থেকেই কাজ করতেন। তাই ব্যবসা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত দুজনেই সিনেমা থেকে দূরে থাকবেন—এটাই তাঁদের সিদ্ধান্ত।
পেন্ডিং থাকা সিনেমাগুলোর ভবিষ্যৎ কী?
বর্তমানে অনন্ত জলিলের দুটি সিনেমা শুটিং পর্যায়ে ছিল—
-
নেত্রী দ্য লিডার
-
অপারেশন জ্যাকপট
এছাড়া জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে মাসুদ রানা সিরিজের ‘চিতা’ ছবির মহরত হলেও শুটিং শুরু হয়নি।
এসব সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর বক্তব্য খুবই স্পষ্ট—
“যদি কখনো ভালো সময় আসে, করব। নইলে না।”
এই বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়, আপাতত সিনেমার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে তাঁর ব্যবসার অবস্থার ওপর।
ঢালিউডে অনন্ত জলিলের প্রভাব ও বাস্তবতা
অনন্ত জলিল সবসময়ই ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁর সিনেমা মানেই আলাদা প্রচারণা, ভিন্ন স্টাইল ও সাহসী উপস্থিতি। কিন্তু সময়ের বাস্তবতা কখনো কখনো সবচেয়ে বড় তারকাকেও থামিয়ে দেয়।
এই মুহূর্তে অনন্ত জলিল সিনেমা ছাড়ছেন—এটি ঢালিউডের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তবে এটি স্থায়ী বিদায় নয় বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
দর্শকদের প্রতিক্রিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মূল্যায়ন
সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ হতাশ, কেউ আবার তাঁর সিদ্ধান্তকে বাস্তববাদী বলছেন।
অনেকে মনে করছেন, ব্যবসা ঘুরে দাঁড়ালে অনন্ত জলিল আবারও বড় পর্দায় ফিরবেন। কারণ তিনি কখনোই সিনেমাকে পুরোপুরি বিদায় জানাননি, শুধু সময় চেয়েছেন।
বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে পারলে অনন্ত জলিল আবারও সিনেমায় ফিরতে পারেন—এমন সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ তাঁর সিদ্ধান্তে “চিরবিদায়” শব্দটি নেই।
বরং বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে আবার ফিরে আসার ইঙ্গিতই স্পষ্ট।




