আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন পোস্টে স্মৃতিচারণ করেছেন প্রিয় মা খাইরুন নেছাকে নিয়ে। ২ বছরেও কাটেনি শূন্যতা। বিস্তারিত পড়ুন।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এমন কিছু শিল্পী আছেন, যাঁদের ব্যক্তিজীবনের অনুভূতি দর্শকের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়। আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঠিক তেমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন তাঁর ভক্তরা। ঢালিউডের জনপ্রিয় এই অভিনেতা আবারও প্রমাণ করলেন—খ্যাতি, সাফল্য কিংবা ব্যস্ততার আড়ালেও একজন সন্তানের কাছে মায়ের শূন্যতা কখনোই পূরণ হয় না।
২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ছিল আরিফিন শুভর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিনগুলোর একটি। ঠিক এই দিনে তিনি হারান তাঁর প্রিয় মা খাইরুন নেছাকে। আজ সেই ঘটনার দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানও যেন তাঁর মনের ক্ষত শুকাতে পারেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তাঁর সাম্প্রতিক পোস্ট সেটিরই স্পষ্ট প্রমাণ।
সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণ

আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেছেন অভিনেতা। ছবিটিতে দেখা যায়, ছাদবাগানে মায়ের সঙ্গে কাটানো এক শান্ত মুহূর্ত। এই ছবির ক্যাপশনে শুভ লিখেছেন এমন কিছু কথা, যা মুহূর্তেই ভক্তদের চোখ ভিজিয়ে দিয়েছে।
তিনি লেখেন,
“কামিনী, কাঠগোলাপ আর বেলি—মায়ের খুব পছন্দের ফুল। ছাদে তাঁর প্রিয় কাঠগোলাপ এনে দিয়েছিলাম, সেটা দেখাচ্ছিলাম। গাছটা এখন অনেক বড় হয়েছে, ফুলে ভরে যায়। শুধু তোমাকে আর দেখানো হলো না, মা।”
এই কয়েকটি বাক্যেই ফুটে ওঠে এক সন্তানের অপূর্ণতা, না বলা কথা আর চিরকালের হাহাকার।
‘মা’ ডাকার আকুতি আজও ফুরায়নি
পোস্টের পরের অংশে আরিফিন শুভ আরও গভীর আবেগে লেখেন,
“আমার এখনও মনে হয়, এই তো বাসায় ফিরেই ‘মা’ বলে ডাকতে পারব। কোলে গিয়ে শুয়ে পড়ব। বলব—‘মা, আমার জন্য একটু দোয়া করো।’ কিন্তু… মা আজ দুই বছর আল্লাহর কাছে। সম্ভব হলে আমার মাকে দোয়ায় রাখবেন।”
এই কথাগুলো আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীকে শুধু একটি তারিখ নয়, বরং একটি অনুভূতির নাম করে তুলেছে। অনেক ভক্ত মন্তব্যে জানিয়েছেন, এই লেখায় তাঁরা নিজেদের হারানো মা কিংবা প্রিয়জনের স্মৃতি খুঁজে পেয়েছেন।
মা খাইরুন নেছার জীবন ও অসুস্থতার ইতিহাস
খাইরুন নেছা দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। ২০১৭ সাল থেকে তিনি সিজোফ্রেনিয়ায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা তাঁকে আরও দুর্বল করে তোলে। প্রায় আট বছর ধরে তিনি ঢাকায় আরিফিন শুভর সঙ্গেই বসবাস করছিলেন।
২০২৩ সালের ২৪ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনাটি তখন দেশের শোবিজ অঙ্গনে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি করে। আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী সেই বেদনাদায়ক স্মৃতিকেই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
ঢালিউডে মায়ের প্রতি ভালোবাসার বিরল উদাহরণ
ঢালিউডে অনেক অভিনেতাকেই পরিবার নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তবে আরিফিন শুভর ক্ষেত্রে মায়ের প্রতি টান ছিল ব্যতিক্রমী। বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তিনি বারবার বলেছেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন মা।
এক সময় শুভ জানিয়েছিলেন, ক্যারিয়ারের কঠিন সময়ে মায়ের সাহসী কথাই তাঁকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। আজ সেই মানুষটি নেই। কিন্তু তাঁর স্মৃতি, দোয়া আর শিক্ষা শুভর প্রতিটি কাজে ছায়ার মতো সঙ্গী হয়ে আছে।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া ও সহমর্মিতা
আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া পোস্টে হাজারো মন্তব্য করেছেন ভক্ত ও সহকর্মীরা। কেউ লিখেছেন, “মা হারানোর কষ্ট কোনোদিন যায় না।” আবার কেউ দোয়া চেয়েছেন তাঁর মায়ের জন্য।
অনেকেই বলেছেন, এই পোস্ট শুধু একজন তারকার নয়—এটি একজন সাধারণ সন্তানের হৃদয়ের ভাষা। সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভর এই পোস্ট অল্প সময়েই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
কাজের ব্যস্ততায়ও মায়ের স্মৃতি অমলিন
বর্তমানে সিনেমা ও ওয়েব কনটেন্ট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আরিফিন শুভ। দেশীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মেও তাঁর কাজ প্রশংসা পাচ্ছে। তবুও আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী প্রমাণ করে, কাজের ব্যস্ততা কখনোই মায়ের শূন্যতা ভুলিয়ে দিতে পারে না।
মায়ের শূন্যতা ও সন্তানের দায়বদ্ধতা
আরিফিন শুভ মায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মা শুধু একজন মানুষ নন, তিনি একটি নিরাপদ আশ্রয়। জীবনের প্রতিটি সাফল্যের পেছনে মায়ের নিঃশব্দ ত্যাগ লুকিয়ে থাকে।
শুভের লেখায় সেই উপলব্ধিই ফুটে উঠেছে। তিনি কারও কাছে অভিযোগ করেননি, কেবল দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই বিনয় আর ভালোবাসাই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে।
সময় যতই এগোক, কাঠগোলাপ গাছ যতই বড় হোক, মায়ের জন্য সন্তানের অপেক্ষা কখনো শেষ হয় না। আরিফিন শুভর এই স্মৃতিচারণ তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।




