বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এমন পরিস্থিতিতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদা দিয়েছে। কিন্তু এই মর্যাদার অর্থ কী? অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি খালেদা জিয়া হিসেবে তিনি কী কী সুবিধা পাবেন—এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার চেষ্টা করা হলো।
অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কারা এবং কেন এই মর্যাদা দেওয়া হয়
রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ ও গুরুত্বপূর্ণ নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিদের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার তাদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করে। এর মধ্যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সমমর্যাদার ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অন্য যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকেও এই মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে।

‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি খালেদা জিয়া’ হিসেবে সুবিধা কী কী?
১. বিশেষ নিরাপত্তা:
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) তার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। দৈহিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা এই বাহিনীর দায়িত্ব।
২. গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি:
তার নিরাপত্তার জন্য প্রাসঙ্গিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং যেকোনো বিপদসংকেত পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৩. বিনা গ্রেপ্তারি ক্ষমতা:
যদি কেউ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি খালেদা জিয়া-এর নিরাপত্তায় বাধা সৃষ্টি করতে চায়, এসএসএফ আইন অনুযায়ী তাকে বিনা গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আটক করতে পারবে।
৪. প্রয়োজন হলে প্রাণরক্ষার ব্যবস্থা:
কোনো পরিস্থিতিতে তার জীবন বিপন্ন হলে এসএসএফ প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষা বা গুলি করার অধিকার রাখে।
৫. চিকিৎসা সহায়তা:
অতিরিক্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রোটোকল অনুযায়ী জরুরি চিকিৎসা, হাসপাতাল বেড এবং চিকিৎসক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
৬. সরকারী প্রজ্ঞাপন দ্বারা অনুমোদিত মর্যাদা:
প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই মর্যাদা কার্যকর করা হয়।
৭. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনাকে অল্প সময়ের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। এটি বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রমাণ করে যে, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
হাসপাতালে খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা
৮০ বছর বয়সী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির সমস্যা নিয়ে ভুগছেন। ২১ নভেম্বর তিনি সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানের পর বাসায় ফেরেন। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়। ২৩ নভেম্বর তাকে জরুরি ভিত্তিতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান জানিয়েছেন, “সিসিইউ থেকে আইসিইউ, আইসিইউ থেকে ভেন্টিলেশন—ম্যাডাম খুব ক্রিটিক্যাল কন্ডিশনে আছেন। শুধু তার জন্যই আমরা সকলের দোয়া চাই।”
অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি খালেদা জিয়া মর্যাদা পেয়ে দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী নিয়োজিত, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত। রাজনৈতিক নেতাদের এই ধরনের মর্যাদা তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে দেয়া হয়। জনগণও তাদের সুস্থতা ও নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছে।




