আতিফ আসলামের ঢাকায় কনসার্ট এখন চূড়ান্ত। ১৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত এই শো।
পাকিস্তানি জনপ্রিয় সংগীত তারকা আতিফ আসলামের ঢাকায় কনসার্ট নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও অনিশ্চয়তা শেষ হলো অবশেষে। বিদেশি শিল্পীদের কনসার্ট অনুমোদন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিপত্তির কারণে শুরুতে এই আয়োজন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে আয়োজকদের সর্বশেষ ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে—১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের অন্যতম প্রতীক্ষিত এই অনুষ্ঠান।
শেষ কয়েক মাস ধরে আতিফ আসলামের বাংলাদেশে আসা নিয়ে নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছিল। দুটি ভিন্ন আয়োজনকারী প্রতিষ্ঠান আলাদাভাবে কনসার্ট করতে চাইলেও অনুমোদন এবং ভেন্যু সংকটের কারণে পরিকল্পনা চূড়ান্ত হতে পারছিল না। সে কারণে অনেক ভক্তই দ্বিধায় ছিলেন—আতিফ কি আদৌ বাংলাদেশে আসবেন?
অবশেষে সব জটিলতা কাটিয়ে ঘোষণা এলো—দেশের শীর্ষস্থানীয় দুই লাইভ–এন্টারটেইনমেন্ট প্রতিষ্ঠান স্পিরিটস অব জুলাই এবং মেইন স্টেইজ যৌথভাবে আয়োজন করছে ‘মেইন স্টেইজ শো–২০২৫’। আর এখানেই মূল আকর্ষণ হিসেবে পারফর্ম করবেন দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আতিফ আসলাম।
আতিফ আসলামের ঢাকায় কনসার্ট নিশ্চিত: আয়োজকদের ব্যাখ্যা
আয়োজকদের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ অনুমোদন প্রক্রিয়া পার হয়ে এখন সবকিছুই প্রস্তুত। এ কারণে আলাদাভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে তারা যৌথভাবে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ অনুমতি পাওয়ার পরই আয়োজনটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।
‘স্পিরিটস অব জুলাই’-এর প্রচার সম্পাদক সাদেকুর রহমান সানি জানান, শুরুতে এককভাবে কনসার্ট আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাস্তব কারণে তারা যৌথ উদ্যোগে আসেন। তার ভাষায়, “সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সকল অনুমতি এখন আমাদের হাতে। অবশেষে কনসার্ট হচ্ছে।”
এ ছাড়া চলতি বছর বিদেশি শিল্পীদের কনসার্টে ভেন্যু অনুমোদন, নিরাপত্তা এবং বিধিনিষেধের কারণে বেশ কিছু আয়োজন বাতিল বা স্থগিত হয়। বিশেষ করে পাকিস্তানি ব্যান্ড কাভিশ দেশে আসলেও মঞ্চে উঠতে না পারার ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনায় ছিল। সেই অভিজ্ঞতার পর আয়োজকেরা আরও সতর্কভাবে এগিয়েছেন বলে জানান।
কনসার্টের তারিখ, ভেন্যু ও আয়োজনের কাঠামো
১৩ ডিসেম্বর (শনিবার)
বাংলাদেশ–চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার, পূর্বাচল নিউ টাউন, ঢাকা
এ বিশাল ভেন্যুটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক মানের বড় কনসার্টের জন্য অন্যতম পছন্দের স্থান হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, বিশাল দর্শক ধারণক্ষমতা এবং আধুনিক সাউন্ড সিস্টেমের কারণে আয়োজকেরা এই ভেন্যুকেই বেছে নিয়েছেন।
‘মেইন স্টেইজ শো–২০২৫’ শীর্ষক এ আয়োজনে আতিফ আসলাম ছাড়াও মঞ্চে থাকছেন বাংলাদেশে জনপ্রিয় ব্যান্ড নেমেসিস, সংগীত পরিচালক ফুয়াদ, এবং আরও কয়েকজন পরিচিত শিল্পী। দর্শকদের জন্য থাকবে আধুনিক লাইটিং, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট, এবং আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড পরিবেশনা।

সামাজিক দায়িত্ব—লভ্যাংশের ৪০% যাবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনে
এই কনসার্টের অন্যতম বিশেষ দিক হলো সমাজসেবা। ‘স্পিরিটস অব জুলাই’ জানিয়েছে, শো থেকে অর্জিত মোট লভ্যাংশের ৪০ শতাংশ প্রদান করা হবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনকে।
এই অর্থ ব্যবহার করা হবে—
✔ শহীদ পরিবারগুলোর পুনর্বাসন
✔ আহতদের চিকিৎসা
✔ দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সহায়তা
এ বিষয়ে ২ নভেম্বর উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এজন্য অনেক দর্শকই কনসার্টটিকে শুধু বিনোদন নয়, বরং মানবিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।
কেন এত আলোচনা–সমালোচনার পরও বহুল প্রতীক্ষিত রয়ে গেল আতিফের কনসার্ট?
আতিফ আসলাম শুধু দক্ষিণ এশিয়ায় নয়, বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তার গাওয়া “তেরে বিন”, “পেহলি নাজর মে”, “দিল দিয়া গল”, “আদাত”—এসব গান বাংলাদেশেও বিপুল জনপ্রিয়। দীর্ঘদিন পর ঢাকায় কনসার্ট করতে আসছেন তিনি।
তাছাড়া শুরুর দিকের জটিলতা—
-
বিদেশি শিল্পীদের অনুমতি
-
ভেন্যু সংকট
-
আলাদা দুই প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা
-
দেশজুড়ে নিরাপত্তা বিবেচনা
—এসব কারণে অনুষ্ঠানটি সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল। ফলে কনসার্টটি নিশ্চিত হওয়া মাত্রই ভক্তদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়।
টিকিট নিয়ে কী বলছে আয়োজকরা?
আয়োজকেরা জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই টিকিটের মূল্য, জোন বিভাজন এবং অনলাইন–অফলাইন কেনার পদ্ধতি ঘোষণা করা হবে। দর্শকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে একাধিক পেমেন্ট মেথড রাখা হবে।
ভেন্যুর বিশালত্ব অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড, ভিআইপি, ভিভিআইপি—এমন একাধিক ক্যাটাগরি টিকিট থাকবে বলে জানা গেছে।
ফুয়াদ, নেমেসিস ও অন্যান্য শিল্পীদের অংশগ্রহণ
এই কনসার্টে আতিফ আসলামই প্রধান আকর্ষণ হলেও দেশীয় সংগীতশিল্পীরাও বিশাল ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন। বিশেষ করে—
🎵 ফুয়াদ — দীর্ঘদিন পর বড় লাইভ কনসার্টে অংশ নিচ্ছেন।
🎵 নেমেসিস — রক ধারার অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ড।
🎵 আরও জনপ্রিয় বাংলাদেশি শিল্পী — তালিকা শিগগিরই প্রকাশ করা হবে।
এই সমন্বিত আয়োজন স্থানীয় শিল্পীদের জন্যও একটি বড় উপলক্ষ হয়ে উঠছে।
নিরাপত্তা, ট্রাফিক এবং দর্শকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
কনসার্টকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। পূর্বাচল এলাকায় অতিরিক্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নিরাপত্তা চেকপোস্ট এবং পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হবে।
আয়োজকেরা জানান, আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দর্শকদের সম্পূর্ণ নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা তাদের প্রধান লক্ষ্য।
সবশেষে বলা যায়, বহু অপেক্ষা আর নানা প্রশাসনিক জটিলতার পর আতিফ আসলামের ঢাকায় কনসার্ট এখন সম্পূর্ণ নিশ্চিত। বিদেশি শিল্পীদের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে এই আয়োজন তরুণদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে।
১৩ ডিসেম্বরের এই রাত বাংলাদেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে স্মরণীয় এক সন্ধ্যা—যেখানে আন্তর্জাতিক তারকা আতিফ আসলামের পাশাপাশি দেশীয় জনপ্রিয় শিল্পীরাও থাকছেন এক মঞ্চে। এ আয়োজন শুধু বিনোদন নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




