অস্ট্রেলিয়ার জয়ে শেষ অ্যাশেজে শেষ টেস্টে খাজার আবেগঘন বিদায়, হেডের দুর্দান্ত ব্যাটিং ও ক্যারির গুরুত্বপূর্ণ জুটি নিশ্চিত করল স্বাগতিকদের জয়।
সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) শেষ দিনে অস্ট্রেলিয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে পাঁচ উইকেটের জয় অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে স্বাগতিকরা সিরিজ নিজেদের করে নেয়। যদিও ম্যাচটি ছিল নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ, পুরো সিরিজ প্রত্যাশার মানে পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি।
এই ম্যাচটি বিশেষ হয়ে থাকবে মূলত উসমান খাজার জন্য। নিজের ৮৮তম ও শেষ টেস্ট খেলতে নেমে তিনি রূপকথার মতো বিদায় নিতে পারেননি। মধ্যাহ্নভোজের পর ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬ রান করে আউট হন খাজা। তবে আউট হওয়ার পর দর্শকদের প্রতি করতালি ও মাঠে সিজদা দিয়ে তিনি আবেগঘন মুহূর্ত উপহার দেন।
খাজার আবেগঘন বিদায় ও ম্যাচের চমক

অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া শুরুটা দারুণ ছিল। ৬২ রানে কোনো উইকেট না হারালেও হঠাৎ তিনটি উইকেট পড়লে ইংল্যান্ডের ফেরার আশা জন্মায়। তবে অ্যালেক্স ক্যারি এবং ক্যামেরুন গ্রিন দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে জয়ের পথে ফিরিয়ে আনেন। তাদের ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি নিশ্চিত করে স্বাগতিকদের জয়।
ট্রাভিস হেডও সিরিজে দুর্দান্ত ফর্ম দেখান। শেষ ম্যাচে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে ২৯ রানে আউট হলেও পুরো সিরিজে ৬২৯ রান করে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা হিসেবে দাড়ান।
ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ দিনে লড়াই চালিয়ে যান জস টাং, যিনি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। তবে অধিনায়ক বেন স্টোকস ইনজুরির কারণে বোলিং করতে না পারায় সফরকারীরা বড় ধাক্কা খায়।
মিচেল স্টার্কের দাপট ও ইংল্যান্ডের শেষ আশা
অভিজ্ঞ মিচেল স্টার্ক ইংল্যান্ডের শেষ আশাটুকু নিভিয়ে দেন, জ্যাকব বেথেলকে আউট করে। স্টার্ক এই সিরিজে ৩১ উইকেট নেন, যা অ্যাশেজ ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অন্যতম সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের সঙ্গে সঙ্গে খাজার বিদায়ও ছিল আবেগঘন। দর্শকরা মাঠ ছাড়তে পারছিলেন না, খাজার বিদায়ের মুহূর্ত চিরস্মরণীয় হয়ে রইল।
অ্যাশেজ সিরিজের এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় লিখল। ইংল্যান্ডের প্রতি তাদের চাপ বজায় রাখার পাশাপাশি নতুন উদীয়মান খেলোয়াড়দের মধ্যে দায়িত্বশীলতা দেখা গেছে।




