বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন ভয়ংকর ইঙ্গিত দিয়েছে জিও নিউজ। নিরাপত্তা, রাজনীতি ও আইসিসির সিদ্ধান্তে নতুন সংকট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ক্রিকেট মাঠের বাইরের রাজনীতি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ না নেয়, তাহলে বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন দাবি করেছে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ। এই সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বকাপ ঘিরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট বরাবরই রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্কে যে টানাপোড়েন চলছে, তার প্রভাব পড়েছে ক্রিকেটেও। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এমন খবর শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয়, কূটনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তুলেছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যদি আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সংহতির অংশ হিসেবে একই পথ অনুসরণ করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
নিরাপত্তা উদ্বেগে বাংলাদেশের আপত্তি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) শুরু থেকেই ভারতের ভেন্যু নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাদের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি বিবেচনায় ভারতে গিয়ে ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ নাও হতে পারে।
এই কারণে বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানায়—ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের ম্যাচ আয়োজন করার জন্য। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবে অনড় অবস্থান নেয়।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই আলোচনায় আসে, বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এই সম্ভাবনা।
আইসিসির সিদ্ধান্ত ও বাংলাদেশের অবস্থান
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আইসিসির ভার্চুয়াল বোর্ডসভায় বাংলাদেশের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়। আইসিসি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
এই ঘোষণার পর বিসিবি আবারও জানায়, তারা ভারতের ভেন্যুতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছুক। ফলে বাংলাদেশের সামনে কার্যত দুটি পথ খোলা থাকে—
-
আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া
-
অথবা টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানো
এই পরিস্থিতিতেই নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে বিষয়টি—বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান।
আইপিএল ইস্যুতে উত্তেজনা আরও বাড়ে
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে আইপিএল সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্তে। কলকাতা নাইট রাইডার্স শেষ মুহূর্তে মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি বাংলাদেশে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এর জেরে বাংলাদেশ আইপিএলের সম্প্রচার সীমিত করে এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ অন্য ভেন্যুতে নেওয়ার দাবিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। এতে করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই আলোচনায় আসে—বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এই কৌশলগত সম্ভাবনা।
পাকিস্তানের অবস্থান কী?
জিও নিউজের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই বাংলাদেশের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। যদি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটে, তাহলে পাকিস্তানও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না বললেও, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দাবি করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান, তাহলে পুরো টুর্নামেন্টের গ্রহণযোগ্যতা ও বাণিজ্যিক কাঠামো বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আইসিসির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ
আইসিসির জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় সংকট। দুটি পূর্ণ সদস্য দেশ যদি একযোগে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে বিকল্প দল অন্তর্ভুক্ত করা, সম্প্রচার চুক্তি ও স্পনসরশিপে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।
এমন পরিস্থিতিতে আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সময় থাকতেই কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটা আইসিসির জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে এর প্রভাব
দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট মানেই আবেগ, রাজনীতি ও দর্শক আগ্রহের বিশাল সমন্বয়। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দুটি দলের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের আকর্ষণ কমিয়ে দেবে—এ কথা বলাই বাহুল্য।
এ কারণে বাংলাদেশ না গেলে বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে পাকিস্তান—এই সম্ভাবনা শুধু একটি সংবাদ নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য একটি সতর্কবার্তা।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিশ্ব ক্রিকেটে এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। অতীতেও রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন দল টুর্নামেন্ট বর্জন করেছে। তবে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত আইসিসির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।




