বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ নিয়ে মিলেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। কবে শুরু হতে পারে রমজান, কতদিন হতে পারে সিয়াম—জেনে নিন বিস্তারিত।
বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে মুসলিম সমাজে। প্রতি বছরের মতো এবারও পবিত্র রমজান মাস শুরুর সময় ঘিরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে প্রস্তুতির আবহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অফিস কার্যক্রম এবং ব্যক্তিগত পরিকল্পনার ক্ষেত্রে রমজানের সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিক ইসলামিক ক্যালেন্ডার ও জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, আগামী বছরের রমজান মাস ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে চাঁদ দেখার ওপর।
আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারে কী বলা হচ্ছে
দুবাইয়ের Islamic Affairs & Charitable Activities Department (IACAD) প্রকাশিত ২০২৬ সালের সরকারি ছুটি ও ধর্মীয় ইভেন্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে পারে ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে। এই হিসাব অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখটি সম্ভাব্য প্রথম রোজা হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই তারিখগুলো সম্পূর্ণভাবে চাঁদ দেখার সম্ভাব্যতা ও জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত। ফলে একদিন এদিক–সেদিক হওয়ার সুযোগ থেকেই যায়।
বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬: কী বলছে চাঁদ দেখা কমিটি
বাংলাদেশে রমজান শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা থেকে। সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা করেই বাংলাদেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ হিসেবে ১৮ ফেব্রুয়ারি ধরা হলেও, যদি ১৭ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রমজানের চাঁদ দেখা যায়, তাহলে একদিন আগেই রোজা শুরু হতে পারে। আবার চাঁদ দেখা না গেলে শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকেও।
এই অনিশ্চয়তাই হিজরি বর্ষ গণনার স্বাভাবিক নিয়ম।
হিজরি বর্ষ ও রমজানের দৈর্ঘ্য

হিজরি ক্যালেন্ডার সম্পূর্ণভাবে চাঁদের গতিপথের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিটি হিজরি মাস সাধারণত ২৯ অথবা ৩০ দিনের হয়ে থাকে। ফলে রমজান মাসও কখনো ২৯ দিন, কখনো ৩০ দিন পূর্ণ হয়।
২০২৬ সালের সম্ভাব্য হিসাব অনুযায়ী, রমজান মাস শেষ হতে পারে ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার)। সেই হিসাবে পরদিন অর্থাৎ ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এখানেও চাঁদ দেখার বিষয়টি চূড়ান্ত ভূমিকা রাখবে।
রোজা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন: গুরুত্বপূর্ণ সমাপতন
২০২৬ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
এর মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই শুরু হতে পারে পবিত্র রমজান মাস। ফলে নির্বাচন–পরবর্তী সময়েই শুরু হচ্ছে সিয়াম সাধনার মাস। প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ধর্মীয় কার্যক্রম—সবকিছুর জন্যই এই সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন আগেভাগে জানা জরুরি
বাংলাদেশে রোজা শুরুর সম্ভাব্য তারিখ ২০২৬ আগেভাগে জানা থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য বেশ কিছু সুবিধা তৈরি হয়।
প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস সূচি নির্ধারণ সহজ হয়।
দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়ীরা রমজানকেন্দ্রিক প্রস্তুতি নিতে পারেন।
তৃতীয়ত, ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদতের পরিকল্পনা আগেভাগে সাজাতে পারেন।
এ কারণেই সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আগ্রহ প্রতি বছরই বাড়ে।
মধ্যপ্রাচ্য ও বাংলাদেশের পার্থক্য কেন হয়
অনেক সময় দেখা যায়, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশে রোজা শুরুর তারিখ একদিন এদিক–সেদিক হয়। এর মূল কারণ ভৌগোলিক অবস্থান ও চাঁদ দেখার সময়ের পার্থক্য।
মধ্যপ্রাচ্যে সূর্যাস্ত বাংলাদেশের আগেই হয়। ফলে সেখানে চাঁদ দেখা গেলেও বাংলাদেশে একই দিনে চাঁদ দেখা নাও যেতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশ নিজস্ব পর্যবেক্ষণকেই চূড়ান্ত বলে ধরে।
রমজান শুরুর একদিন আগে অর্থাৎ ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকেই ঘোষণা আসবে—পরদিন রোজা শুরু হবে কি না।
ততদিন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাওয়া তথ্যই সম্ভাব্য হিসাব হিসেবে বিবেচিত হবে।




