বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ডি ভিলিয়ার্সের ৭টি হতাশাজনক মন্তব্য যা ক্রিকেট বিশ্বে সৃষ্টি করেছে তীব্র বিতর্ক।
ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তকে ক্রিকেটের জন্য এক অপ্রয়োজনীয় এবং হতাশাজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন বিশ্বের সাবেক তারকারা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন অধিনায়ক এবি ডি ভিলিয়ার্স এই বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
ডি ভিলিয়ার্সের হতাশাজনক মন্তব্য

ডি ভিলিয়ার্স মনে করেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া পুরো ক্রিকেটের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি বলেন,
“কোনো অবস্থায়ই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয়, যেখানে একটি দলকে টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। এটা সত্যিই হতাশাজনক এবং খেলাটির জন্য ভালো কিছু নয়।”
ডি ভিলিয়ার্স আরও যোগ করেন, ক্রিকেটে রাজনীতি জড়িয়ে পড়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন, “কে বা কারা এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জানি না, তবে তাদেরই এসব সমস্যার সমাধান করা উচিত। ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতির মিশে যাওয়াকে আমি ঘৃণা করি। দুঃখজনকভাবে এই কারণেই বিষয়টি এত দূর গড়িয়েছে।”
মোহাম্মদ ইউসুফের সমালোচনা
পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটার মোহাম্মদ ইউসুফও আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন,
“নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, স্কটল্যান্ড, নেপাল, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, নামিবিয়া, জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান—এই ১০টি দেশের সম্মিলিত দর্শকসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮০ লাখ। যেখানে বাংলাদেশের একারই দর্শকসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৬০ লাখ।”
ইউসুফের মতে, ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য দাবিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল আইসিসির। তিনি বলেন,
“একটি খেলা যখন বৈশ্বিক দর্শকদের ওপর নির্ভরশীল, তখন বাংলাদেশের নিরাপত্তাজনিত যৌক্তিক উদ্বেগকে উপেক্ষা করা আইসিসির ধারাবাহিকতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে। ক্রিকেটকে প্রভাবের ভিত্তিতে নয়, নীতির ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে।”
নিরাপত্তা উদ্বেগ ও নতুন ভাইরাসের প্রভাব
ভারতে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণও নতুনভাবে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভাইরাস বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
H3: আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া
বিশ্বের ক্রিকেট সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্তকে এক ধরনের ন্যায়বিচারহীনতা হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম যেমন ESPN Cricinfo এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে কভার করেছে।
বাংলাদেশের প্রভাবিত সমর্থকরা
বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তে হতাশ। দেশের দর্শক সংখ্যা এবং ক্রিকেটপ্রেমী জনসংখ্যাকে দেখেও আইসিসির পদক্ষেপকে যথাযথ মনে করছেন না অনেকে। এই ঘটনা ভবিষ্যতে ক্রিকেট নীতিমালা ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে রাজনীতি ও নিরাপত্তা ইস্যু যেন খেলাধুলাকে প্রভাবিত না করে, তার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থাগুলোকে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডি ভিলিয়ার্স এবং অন্যান্য প্রাক্তন তারকারা মনে করেন,
“খেলাকে সবসময় নীতি এবং সততার ভিত্তিতে পরিচালনা করা উচিত, কোনো প্রভাব বা রাজনৈতিক কারণে নয়।”
বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া এই বিতর্ক ভবিষ্যতের ক্রিকেট নীতিমালায় শিক্ষণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।




